নামের প্রথমে ‘হাজী’ বা ‘আলহাজ’ ব্যবহার কি জায়েজ
মাওলানা কেফায়তুল্লাহ
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের সমাজে দেখা যায়, হজ পালনের পর অনেকেই নামের শুরুতে হাজী ও আলহাজ শব্দটি যুক্ত করেন। নিজেদের হাজী বলে পরিচয় দেন। তাদেরকে কেউ কেউ হাজী বা আলহাজ বলে ডাকেনও। হাজী বলে না ডাকলে হজ ফেরত কেউ আবার অসন্তুষ্ট হন। প্রশ্ন হলো, নামের শুরুতে হাজী বা আলহাজ লেখা কিংবা হাজী বলে ডাকা কি শরিয়তসম্মত?
ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত। এর মধ্যে হজ অন্যতম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইসলামের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাঁচটি বিষয়ের ওপর। যথা- এক. আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাসক নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। দুই. যথাযথভাবে নামাজ আদায় করা। তিন. জাকাত প্রদান। চার. হজ এবং পাঁচ. রমজান মাসের রোজা পালন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮)
হজ মুসলমানদের বিশ্ব সম্মেলন। হজকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর সামর্থ্যবান মুসলমানরা মক্কায় জড়ো হন। আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দিন। তারা আপনার কাছে আসবে হেঁটে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উটগুলোর পিঠে (আরোহণ করে), তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ২৭)
হাজী শব্দের অর্থ হজকারী। আলহাজ অর্থ যিনি হজ করেছেন। দুটি একই জিনিস। একবার হজকারী হাজী এবং কয়েকবার হজকারী আলহাজ- হাজী শব্দের মধ্যে এরকম অর্থ নেই।
হজ আদায় করতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। লোক দেখানোর নিয়তে হজ করা যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯০৭)
হাজী বা আলহাজ উপাধি পাওয়ার আশায় হজ করলে ইবাদতের উপকারিতা ও উদ্দেশ্য নষ্ট হবে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে নামের সঙ্গে হাজী বা আলহাজ যুক্ত করা অনুচিত। নামের সঙ্গে হাজী যুক্ত না করলে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা শরিয়তসম্মত নয়। তবে কেউ ?যদি শ্রদ্ধা করে হজ ফেরত কাউকে ‘হাজী সাহেব’ বলে ডাকেন, এতে অসুবিধে নেই।
কোরআন-হাদিসের কোথাও আমলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে ব্যক্তিকে সম্বোধন করতে বলা হয়নি। সাহাবিরাও হজ করেছেন, তাদের কাউকে হাজী বলে ডাকা হতো না। হজরত মুহাম্মদ (সা.) হজের সময় দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ, তোমার জন্য হজ করতে শুরু করলাম, যশ-খ্যাতি যেন আমাদের উদ্দেশ্য না হয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)
অহংকার করে নামের শুরুতে হাজী বা আলহাজ শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তিই কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অন্তরে সরিষা দানা পরিমাণ অহংকার রয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯১)
ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারে ‘প্রচলিত ভুল’ সাব-হেডের এক শিরোনামে লেখা হয়েছে, ‘হজ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ রোকন এবং ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আদায় করতে হয়। হাজী বা আলহাজ উপাধি পাওয়ার জন্য হজ করা কিংবা হজ আদায়ের পর এই উপাধির আশায় থাকা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত- যা ইবাদতের উদ্দেশ্য ও উপকারিত সব নষ্ট করে।’
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘নামের আগে হাজী বা আলহাজ শব্দ লেখা কিংবা হাজী বা আলহাজ বলে ডাকা অনুচিত। এটা ভালো প্রচলন নয়। এগুলো ব্যক্তির নিয়তের বিশুদ্ধতা নষ্ট করে। কোরআন-হাদিসের কোথাও আমলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে কাউকে ডাকতে বলা হয়নি। সাহাবিরাও হজ করেছেন। তাদের কাউকে হাজী বলে ডাকা হতো না। একবার হজ করলে হাজী এবং কয়েকবার হজ করলে আলহাজ বলা- এটা অজ্ঞতা ছাড়া কিছুই নয়।’
