কিস্তি-২

ইবনে বতুতার সফরে তৎকালীন বাংলার বর্ণনা

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ড. খোন্দকার আলমগীর

নদীতে জলদস্যুতা : নদীগুলোতে জলদস্যুতার উপদ্রব ছিল। তবে জলদস্যুদের পরিচয় স্পষ্ট নয়। নদীর প্রতিটি নৌকায় একটি করে ঢাক বা ড্রাম থাকত। মাঝিরা জলদস্যুদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য একে অপরকে সংকেত দিতে এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করতে সেই ঢাক বাজাত।

শাহ জালাল তাবরিজি, কুনিয়ায়ী নাকি ইয়েমেনি : কিছু গবেষকের মতে, ইবনে বতুতা সিলেটে শাহ জালাল মুজাররাদ (চিরকুমার)-এর (রহ.) সঙ্গে দেখা করেছিলেন; কিন্তু ভুলবশত শাহ জালাল তাবরিজির (রহ.) নাম উল্লেখ করেছেন। ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলা সফর করেন এবং ১৩৫৫ খ্রিস্টাব্দে বইটি সংকলন করেন। ভ্রমণের সময় তিনি তার পাণ্ডুলিপি হারিয়ে ফেলেছিলেন। মরক্কোর সুলতান আবু ইনান মারিনির অনুরোধে ইবনে বতুতা তার ভ্রমণের বিবরণ মুখে মুখে বলেন এবং ইবনে জুযাই সেই পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা করেন। পাণ্ডুলিপি বলা, লেখা এবং সম্পাদনার এই প্রক্রিয়ার মধ্যে এই ধরনের অসঙ্গতিগুলো ঢুকে পড়তে পারে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ইবনে বতুতা তাঁর নিজের স্মৃতি এবং অন্যান্য ভ্রমণকারীদের কাজের ওপর নির্ভর করেছিলেন। এমনকি ইবনে খালদুনও ইবনে বতুতার বিবরণ অধ্যয়নের সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো সত্ত্বেও তার রেহলা গ্রন্থটিকে ইতিহাসের একটি খনি বা আকর হিসেবে গণ্য করা হয়।

সুখময় মুখোপাধ্যায় মনে করেন যে শাহ জালাল তাবরিজি (রহ.) পাণ্ডুয়ার দেওতলায় থাকতেন, কিন্তু তিনি পাণ্ডুয়া ছেড়ে চলে যান এবং সেখানে মারা যাননি। সুখময়ের মতে, শাহ জালাল কামরূপে মারা যান এবং ইবনে বতুতা যখন পাণ্ডুয়ার দেওতলার শাহ জালাল তাবরিজির (রহ.) সাথে দেখা করেন, তখন তিনি (তাবরিজি) কামরূপে বাস করছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন যে সিলেটের শাহ জালাল (রহ.) একজন ভিন্ন সাধক। সুখময় কামরূপে তাবরিজির মৃত্যুর স্থানটি সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করেননি। তিনি আরও বলেন যে সিলেটের শাহ জালাল (রহ.) দেওতলার শাহ জালাল তাবরিজির (রহ.) মতো এত গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন না। ইবনে বতুতা উল্লেখ করেছেন যে শাহ জালাল (রহ.) জনমানবহীন এক পার্বত্য অঞ্চলের গুহায় বাস করতেন এবং তালি দেওয়া পোশাক পরতেন। এই বিষয়টি লক্ষ্য করা যেতে পারে।

সুখময়ের মতে, তাবরিজি দেওতলায় থাকতেন, কামরূপে যান এবং ইবনে বতুতা সেখানে তাঁর সাথে দেখা করেন। সুখময়ের এই তত্ত্বটি গ্রহণ করলে বলতে হয় যে তাবরিজি এক অজ্ঞাত পরিচয়ে মারা যান। মধ্যযুগীয় ভারতের এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অজ্ঞাতবাসে মৃত্যু বর্তমান লেখকের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। উল্লেখ্য যে, ইউল এবং এইচ. এ. আর. গিব মনে করেন ইবনে বতুতা সিলেটের শাহ জালালের (রহ.) সাথেই দেখা করেছিলেন। (এইচ. এ. আর. গিব, ইবনে বতুতা ট্রাভেলস ইন এশিয়া এন্ড আফ্রিকা, পৃষ্ঠা: ৩৮৫)।

সিলেটের শাহ জালালের (রহ.) মৃত্যুর প্রায় ১০০ বছর আগে শাহ জালাল তাবরিজি (রহ.) মারা যান। শিলালিপি এবং আর্কাইভের রেকর্ড অনুযায়ী এটি প্রমাণিত হয়েছে যে তারা দুজন ভিন্ন ব্যক্তি ছিলেন। শাহ জালালের (রহ.) ‘কুনিয়ায়ী’ ও ‘ইয়েমেনি’ উপাধি ছিল। কিছু গবেষক মনে করেন শাহ জালাল (রহ.) তুরস্কের কোনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি যদি তুরস্কের কোনিয়া (ফার্সিতে: কোনিয়া) থেকে আসতেন, তবে তার উপাধি কুনিয়ায়ীর পরিবর্তে ‘কুনিয়াভি’ হতো। (এ তথ্যের জন্য লেখক যুক্তরাষ্ট্রের য়ুল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর স্কট কুগল-এর নিকট ঋণী) শব্দটি হয়তো আরবি শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ ডাকনাম। শিলালিপিতে তাকে ‘মখদুম শেখ জালাল মুজাররাদ বিন মুহম্মদ’ এবং ‘শেখ জালাল মুজাররাদ কুনিয়ায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং ধরে নেওয়া যায় যে তার নাম ছিল জালাল এবং তিনি তার ‘মুজাররাদ’ (চিরকুমার) ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। অন্য কিছু গবেষক মনে করেন তিনি ইয়েমেনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন তার জন্ম তুর্কিস্তানে। এই প্রসঙ্গে ইসলামের নবী মুহম্মদের (সা.) একজন সাহাবির নাম উল্লেখ করা যেতে পারে।

তিনি হলেন মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) (৬০৯-৬৩৯ খ্রি.)। তিনি নবীর (সা.) একজন আনসার সাহাবি ছিলেন এবং নবী (সা.) তাকে ইয়েমেনে পাঠিয়েছিলেন। নবীর (সা.) ওফাতের পর তিনি মদিনায় ফিরে আসেন এবং পরবর্তীতে সিরিয়ায় (শাম) এক অভিযানে গিয়ে সেখানে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

তার কবর এখন জর্ডানে রয়েছে। তার বংশধরেরা হয়তো ইয়েমেনি উপাধি ধারণ করে মধ্য এশিয়ায় চলে গিয়েছিলেন। তারা সেখানে বাস করতেন এবং মধ্য এশিয়ায় মঙ্গোল আক্রমণের কারণে আবার স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হন। মুয়াজ বিন জাবালের (রা.) বংশধর হিসেবে শাহ জালাল (রহ.) হয়তো ইতিহাসের এই প্রেক্ষাপটেই বাংলায় এসেছিলেন।

পাণ্ডুয়ার শেখ জালালউদ্দিন তাবরিজি (রহ.) (মৃত্যু ৬২৩ হিজরি/১২২৬ খ্রি. অথবা ৬৪২ হিজরি/১২৪৪ খ্রি.) বাংলায় একজন ধনী ব্যক্তি হয়েছিলেন এবং তার প্রচুর সম্পত্তি ছিল। তিনি তার সম্পত্তি ওয়াক্ফ করে দেন যা ‘বাইশ হাজারী’ নামে পরিচিত। তার দরগার ‘মদদণ্ডই-মাশ’ (সাহায্যকারী অনুদান) জমিও ছিল। এস. জেড. এইচ. জাফরি লক্ষ্য করেছেন, ‘মালদা বিভাগের পাণ্ডুয়ার বাইশ হাজারী এবং ছয় হাজারী ট্রাস্টগুলো প্রাক-ঔপনিবেশিক আমলে বিদ্যমান বিশাল ওয়াকফ/ট্রাস্টগুলোর একটি ধারণা দেয়’। (বিদ্যাসাগর ইউনিভার্সিটি জার্নাল অব হিস্ট্রি, ভলিউম ৫) তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বাইশ হাজারী দরগার সম্পত্তির আয়তন ছিল সাড়ে ১৬ বর্গমাইল বা আনুমানিক ১ লাখ বিঘা জমি। এম. ও. কার্টার এই অনুদানের একটি অনূদিত রূপ তৈরি করেছেন। জাফরি মনে করেন যে এই অনুদানটি পরবর্তী কর্তৃপক্ষ (মোগল শাসক এবং বাংলার নাজিম) দ্বারা নিশ্চিত ও জারি রাখা হয়েছিল। এই ওয়াকফ আজও চালু রয়েছে।

সোনারগাঁও : সোনারগাঁও হলো সংস্কৃত শব্দ ‘সুবর্ণগ্রাম’-এর বাংলা অনুবাদ। বর্তমানে এটি ঢাকার কাছে নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। ‘সম্ভবত ত্রয়োদশ শতাব্দীর সপ্তম দশকে রাজা দনুজ রায় (দশরথ-দেব দনুজ-মাধব)-এর অধীনে সোনারগাঁও বাংলা রাজ্যের রাজধানী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং পূর্ব বাংলায় স্বাধীন হিন্দু শাসনের অবসান (১৩০২) পর্যন্ত এই মর্যাদা বজায় রাখে’। (‘সোনারগঁও’: বাংলাপিডিয়া) সুফি সাধক শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা (রহ.) ১২৮২ থেকে ১২৮৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এখানে এসে বসতি স্থাপন করেন। তিনি সেখানে একটি খানকাহ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এই অঞ্চলটি সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ (শাসনকাল ১৩০১-১৩২২) জয় করেছিলেন।

ইবনে বতুতা তার রেহলা গ্রন্থে এটিকে ‘সুনুরকাওয়ান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মা হুয়ান, নিকোলো ডি কন্টি এবং রালফ ফিচও এর কথা উল্লেখ করেছেন। এটি কিছু সময়ের জন্য বাংলার সুলতানদের প্রশাসনিক সদর দপ্তর ছিল। পূর্বোক্ত ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ এবং তাঁর পুত্র ইখতিয়ারউদ্দিন গাজি শাহ এই স্থান থেকেই স্বাধীন শাসক হিসেবে শাসন করেছিলেন। শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও আক্রমণ ও জয় করেন এবং স্বাধীন একীভূত বাংলার গোড়াপত্তন করেন। এটি ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি সমৃদ্ধ কেন্দ্র এবং বন্দরও ছিল। ইবনে বতুতা এখানে সুমাত্রাগামী (জাভা) একটি চীনা জাহাজ দেখেছিলেন এবং এটিতে আরোহণ করেছিলেন।

হাবাঙ্ক শহর : সিলেট থেকে সোনারগাঁও যাওয়ার পথে ইবনে বতুতা হাবাঙ্ক শহর পরিদর্শন করেন। এই শহরটি নদীভাঙনের শিকার হয়ে ধ্বংস হয়েছে। এই শহরটিকে হবিগঞ্জ জেলার দশ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত ‘হাবাং টিলার সঙ্গে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই শহরের বাসিন্দারা তৎকালীন বাংলার সুলতানের স্থানীয় প্রশাসনের অধীনে জিম্মি (সংরক্ষিত অমুসলিম) ছিলেন। ইবনে বতুতার মতে, তাদের কাছ থেকে ফসলের অর্ধেক নেওয়া হতো এবং তাদের অন্যান্য দায়িত্ব পালন করতে হতো। কিছু লেখক উল্লেখ করেছেন যে, তারা তাদের ফসলের অর্ধেক এবং অন্যান্য কর দিত। কিন্তু আগা মাহদী হুসাইন মনে করেন যে, এটি একটি স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছিল এবং রেহলা গ্রন্থে জিজিয়া করের কোনো উল্লেখ নেই। এটি লক্ষ্য করা গেছে যে ফখরুদ্দিনের সময়ে হিন্দু জনসংখ্যার অবস্থা খুব একটা ঈর্ষণীয় ছিল না। আগা মাহদী হুসাইন এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন এবং বলেন, ‘এটি লক্ষ্য করা উচিত যে জিজিয়া আদায়ের প্রথা দ্রুত বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কারণে রেহলা এই ক্ষেত্রে জিজিয়া শব্দটিকে আমলে নেয়নি। এখানে প্রশ্নবিদ্ধ জিম্মিদের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় দাবিটি নিশ্চিতভাবেই একটি স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছিল। তদুপরি, জিম্মিদের প্রতি দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে নবীর নির্দেশনা এবং হাবাঙ্কে তখন কোনো মুসলিম জনসংখ্যা না থাকার কারণে, ‘হিন্দু জনসংখ্যার দুর্ভাগ্যজনক অবস্থা’ এবং ‘জোরপূর্বক অর্থ আদায়’-এর প্রশ্নই ওঠে না।’ (আগা মাহদি হুসাইন, দ্য রেহলা, পৃষ্ঠা: ২৪১ ফুটনোট)। সুলতানি আমলে বাংলার কোথাও জিজিয়া কর আরোপ করা হয়নি।

দাসপ্রথা : প্রাচীনকাল থেকেই বাংলায় দাসের দুটি প্রধান শ্রেণী ছিল। এগুলো হলো: গৃহদাস এবং কৃষি দাস। পরের দলটির সংখ্যাই বেশি ছিল। সিরাজুল ইসলাম পর্যবেক্ষণ করেছেন: ‘বাংলার সুলতানরা আফ্রিকা, তুর্কিস্তান, পারস্য এবং চীন থেকে দাস আমদানি করতেন বলে জানা যায়। এই দাসদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে মুক্ত করার পর মন্ত্রী, প্রশাসক এমনকি সেনাপতির পদেও উন্নীত করা হয়েছিল। হাবশি বংশোদ্ভূত দাসেরা পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে কিছু সময়ের জন্য বাংলায় নিজেদের শাসনও প্রতিষ্ঠা করেছিল। আফ্রিকান দাস, যারা হাবশি ও কাফরি নামে পরিচিত ছিল, ১৮৩০-এর দশক পর্যন্ত বাংলায় আমদানি করা হতো’। (‘দাসপ্রথা’: বাংলাপিডিয়া)

ইবনে বতুতা আশুরা নামের এক দাসী কিনেছিলেন, যিনি ছিলেন অপরূপ সুন্দরী। তাঁর আরেক পরিচিত ব্যক্তি লুলু নামের এক দাস (কম বয়সী বালক ভৃত্য বা পরিচারক) কিনেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘এই পাহাড়ের (কামরূপ) বাসিন্দারা তুর্কিদের মতো এবং কঠোর পরিশ্রমের দুর্দান্ত ক্ষমতা রাখে। তাদের মধ্য থেকে একজন দাস অন্য বংশের বেশ কয়েকজন দাসের সমান মূল্যবান’। উল্লেখ্য যে এই অঞ্চলের উপজাতীয় লোকজন (খাসিয়া ইত্যাদি) মঙ্গোলীয় গড়নের। জানা গেছে যে মুসলিম ব্যবসায়ীরা অমুসলিম ছেলেদের কেনার জন্য দেশের ভেতরের অঞ্চলে যেতেন। এই ছেলেদের মধ্যে কিছু ছেলেকে মূলত তাদের পিতামাতার কাছ থেকে চুরি করা হতো এবং তারপরে দাস ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হতো। কিছু পিতামাতাও তাদের সন্তানদের দাস ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিতেন। এরপর এই ছেলেদের খাসী করা হতো।

এই খাসী করার প্রক্রিয়ায় তাদের অনেকেই মারা যেত। তারপর দাস ব্যবসায়ীরা তাদের খোলা বাজারে বিক্রি করত। তারা কোনো ধনী ব্যক্তির অন্দরমহলে, তাদের মালিকদের সম্পদ রক্ষা করার জন্য অথবা অন্যান্য গৃহস্থালির কাজে নিয়োজিত হতো। বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০ খ্রি.) তিন প্রিয় দাসী- সর্ব, গুল এবং লালা (সাইপ্রেস, রোজ এবং টিউলিপ)-এর গল্প সুপরিচিত। এই গল্প বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে গেছে এবং ইরানের কবি খাজা শামসুদ্দিন হাফিজ (১৩২৫-১৩৯০ খ্রি.) সুলতানের একটি অসমাপ্ত গজল রচনার মাধ্যমে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এই কবিতাটি শুরু হয়েছিল এই দাসীদের নাম দিয়ে।