প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন ও বাস্তবতা

বাংলাদেশের ফুটবল রেফারিং কাঠামো

রবিউল হাসান খান মনা

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফুটবল খেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রেফারিং। একটি ম্যাচ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মতভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে রেফারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন রেফারী শুধু মাঠে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন না, তিনি ফুটবলের আইন, শৃঙ্খলা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব পালন করেন।

রেফারিংয়ের ঐতিহাসিক পথচলা : ১৯৫০ সালের তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানে ক্রিকেট আম্পায়ার ও ফুটবল রেফারীদের নিয়ে একটি স্বতন্ত্র বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই কাঠামো পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ফুটবল রেফারিদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে রেফারিদের প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা, নিয়োগ, মূল্যায়ন ও ম্যাচ পরিচালনার মূল সাংগঠনিক দায়িত্ব বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অধীনে পরিচালিত হয়।

একজন রেফারি কীভাবে তৈরি হন : বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বিভিন্ন সময়ে নতুন রেফারি তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ কোর্স আয়োজন করে। সাধারণত এসব কোর্সে থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল উভয় ধরনের শিক্ষা দেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন শারীরিক শিক্ষা কলেজে বিপিএড কোর্সে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা রেফারি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে থাকে। এছাড়া জেলা রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনগুলোও রেফারি প্রশিক্ষনের আয়োজন করে থাকে।

একজন আগ্রহী প্রার্থীকে কোর্সে অংশগ্রহণ করে ফুটবলের আইন, ম্যাচ পরিচালনার পদ্ধতি, মাঠের অবস্থান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, শৃঙ্খলা, খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে শিক্ষা নিতে হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে থিওরি ও প্রাকটিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রেফারিং করার যোগ্যতা অর্জন করেন।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন রেফারিজ কমিটি : বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অধীনে রেফারিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রেফারিজ কমিটি রয়েছে। এ কমিটিতে চেয়ারম্যান, ডেপুটি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা থাকেন। এ ছাড়া রেফারিদের ম্যাচ অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা অ্যালটমেন্টের ক্ষেত্রে হেড অব রেফারিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অধীনে বিভিন্ন লিগ, টুর্নামেন্ট ও অন্যান্য প্রতিযোগিতায় রেফারি নিয়োগের ব্যবস্থা এ কাঠামোর মাধ্যমে করা হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ফুটবল ম্যাচ বা টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলে আয়োজক কমিটিও প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মাধ্যমে রেফারি নিয়োগ করতে পারে।

রেফারিদের ফিটনেস পরীক্ষা : আধুনিক ফুটবলে একজন রেফারির জন্য শুধু ফুটবলের আইন জানা যথেষ্ট নয়। ম্যাচের গতি অনুসরণ করার জন্য উচ্চপর্যায়ের শারীরিক সক্ষমতাও প্রয়োজন। রেফারিদের ফিটনেস পরীক্ষায় নির্দিষ্ট দূরত্বের দৌড় ও হাঁটার বিভিন্ন ধাপ থাকে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফিফা'র নির্ধারিত ফিটনেস প্রটোকল অনুসারে রেফারিদের শারীরিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়। ফিটনেস পরীক্ষার মাধ্যমে একজন রেফারি ম্যাচের পুরো সময় মাঠের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর কাছাকাছি থেকে সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতা রাখেন কি না, তা যাচাই করা হয়।

রেফারিদের শ্রেণিবিন্যাস : বাংলাদেশে একজন রেফারি সাধারণত বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে উচ্চ পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ পান।

একটি সাধারণ ধারাবাহিকতা হলো : তৃতীয় শ্রেণি- দ্বিতীয় শ্রেণি- প্রথম শ্রেণী- জাতীয় রেফারি— ফিফায় তালিকাভুক্ত রেফারি।

প্রতিটি পর্যায়ে অভিজ্ঞতা, ম্যাচ পরিচালনার সংখ্যা, পারফরম্যান্স, ফিটনেস এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উচ্চপর্যায়ে ওঠার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়, ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

ফিফার তালিকাভুক্ত রেফারি : জাতীয় পর্যায়ের যোগ্য রেফারিদের মধ্য থেকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ফিফার-এর আন্তর্জাতিক রেফারি তালিকার জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। সাধারণত বছরের শেষ দিকে সংশ্লিষ্ট রেফারিদের মূল্যায়ন ও ফিটনেস পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মাধ্যমে যোগ্যপ্রার্থীদের নাম ফিফার কাছে পাঠানো হয়। ফিফার অনুমোদনের পর একজন রেফারি FIFA-Listed Referee বা Assistant Referee হিসেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পান। ফিফার রেফারির তালিকা সাধারণত একটি ক্যালেন্ডার বছরের জন্য কার্যকর থাকে, অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

রেফারির নিজস্ব সরঞ্জাম : রেফারিং শুরু করার সময় একজন রেফারিকে নিজের প্রয়োজনীয় অনেক সরঞ্জাম নিজ খরচে সংগ্রহ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে : ১. রেফারি জার্সি ২. প্যান্ট ৩. মোজা ৪. বুট বা কেডস ৫. হুইসেল ৬. সহকারী রেফারির ফ্ল্যাগ ৭. রেফারি ব্যাগ ৮. ঘড়ি ৯. অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ১০. কার্ড ১১. টস কয়েন। একজন রেফারি ফিফার তালিকাভুক্ত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবহারের জন্য ফিফার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সরঞ্জাম ও কিট পাওয়ার সুযোগ পান।

রিফ্রেশার্স কোর্স : ফুটবলের আইন ও রেফারিং পদ্ধতি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। তাই রেফারিদের নিয়মিতভাবে নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা হালনাগাদ করা জরুরি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বিভিন্ন লিগ ও টুর্নামেন্টের আগে রেফারিদের জন্য রিফ্রেশার্স কোর্স আয়োজন করে। এসব কোর্সে Laws of the Game-এর পরিবর্তন, ম্যাচ পরিস্থিতি, ভিডিও বিশ্লেষণ, ফিটনেস এবং মাঠে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করা হয়।

বাংলাদেশ ফুটবল রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের ভূমিকা : বাংলাদেশ ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশন দেশের বিভিন্ন জেলার রেফারি অ্যাসোসিয়েশন ও রেফারিদের একটি সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিভিন্ন জেলা বা স্থানীয় রেফারি সংগঠন তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।

রেফারিদের সামাজিক ও সাংগঠনিক বন্ধন শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন পিকনিক, বার্ষিক সাধারণ সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, ফুটবল টুর্নামেন্ট, ইনডোর গেমসসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে। এগুলো রেফারিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, সহযোগিতা ও সংগঠনের প্রতি সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

জেলা রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশন : দেশের বিভিন্ন জেলা রেফারি অ্যাসোসিয়েশন রেফারিদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক জেলায় নিয়মিত সাপ্তাহিক বা মাসিক ফিটনেস ও প্র্যাকটিস সেশন আয়োজন করা হয়। এসব অনুশীলনে রেফারিরা দৌড়, ফিটনেস, মাঠে অবস্থান, সংকেত প্রদান এবং ম্যাচ পরিস্থিতি নিয়ে অনুশীলন করেন। অনেক সময় জেলা অ্যাসোসিয়েশনগুলো নিজেদের অর্থায়নে রেফারিদের জার্সি, প্যান্টসহ বিভিন্নসামগ্রী সরবরাহ করে থাকে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের রেফারিদের অবদান : আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের রেফারিদের অবদান দীর্ঘদিনের এবং গৌরবের। দেশের ফুটবলের প্রতিনিধিত্ব করে বাংলাদেশের অনেক রেফারি এশিয়া ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। তাদের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব বাংলাদেশের রেফারিংকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করেছে।

বাংলাদেশের রেফারিদের মধ্যে তৈয়ব হাসান শামসুজ্জামান দীর্ঘ সময় ফিফার রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কোরিয়া ও জাপানের মধ্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এ ছাড়া তিনি সাফ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

সহকারী ফিফার রেফারি মাহবুবুর রহমানও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি ফিনল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ফিফার অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের ফাইনাল রাউন্ডে ম্যাচ পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশের নারী রেফারিদের অগ্রযাত্রাও উল্লেখযোগ্য। জয়া চাকমা বাংলাদেশের প্রথম নারী ফিফা রেফারি হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তার পথ অনুসরণ করে বর্তমানে সালমা ইসলাম মনি, সারাবন তহুরা নেহা এবং সোহানা আক্তার টুম্পাসহ বাংলাদেশের নারী রেফারিরা নিয়মিত আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ম্যাচ পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

শুধু কয়েকজন রেফারীর সাফল্য নয়— সারা বছরই বাংলাদেশের কোনো না কোনো রেফার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন। এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের রেফারিং ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্বের পরিধি বাড়ছে।

বাংলাদেশের রেফারি মনির ঢালির আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও উল্লেখযোগ্য। তিনি প্রায় ৫০টি দেশে ম্যাচ পরিচালনা করেছেন— যা বাংলাদেশের একজন রেফারির আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে সাবেক ম্যাচ কমিশনার মনিরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে প্রায় ৬০টি দেশে ম্যাচ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের ফুটবল প্রশাসন ও ম্যাচ পরিচালনা ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক পরিসরকে তুলে ধরে।

বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আমরা সাধারণত খেলোয়াড়, কোচ ও দলের সাফল্যের কথা বলি। কিন্তু মাঠের সুষ্ঠু ও পেশাদার পরিচালনার জন্য রেফারি এবং ম্যাচ কর্মকর্তাদের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের রেফারিদের নিয়মিত উপস্থিতি দেশের ফুটবলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তাই বাংলাদেশের রেফারিদের আরও উন্নত প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক ম্যাচের সুযোগ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং ক্যারিয়ার উন্নয়নের পথ তৈরি করা জরুরি। তাদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের রেফারিদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে আনা বাংলাদেশের ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়নের অংশ হওয়া উচিত।

রেফারিং ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য : বাংলাদেশে রেফারিং ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দক্ষ, ফিট, নিরপেক্ষ এবং আধুনিক ফুটবল আইন সম্পর্কে জ্ঞানসম্পন্ন রেফারি তৈরি করা। একজন রেফারীর উন্নয়ন শুধু একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একজন ভালো রেফারির জন্য নিয়মিত শিক্ষা, ফিটনেস, ম্যাচ অভিজ্ঞতা, ভিডিও বিশ্লেষণ, ইংরেজি ও যোগাযোগ দক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ধারাবাহিক মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ফুটবল যত এগিয়ে যাবে, রেফারিংয়ের মানও তত উন্নত হওয়া প্রয়োজন। কারণ ভালো ফুটবলের জন্য ভালো খেলোয়াড়, ভালো কোচ এবং ভালো সংগঠনের পাশাপাশি দক্ষ ও আধুনিক রেফারিং ব্যবস্থাও অপরিহার্য। রেফারি শুধু বাঁশি বাজান না। তিনি ফুটবলের আইনকে মাঠে বাস্তবায়ন করেন। তাই বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নের আলোচনায় রেফারিংকে সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

 

লেখক : কোচ, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও প্রথম শ্রেণির রেফারি (সাবেক)