মানবসেবার প্রত্যয়ে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  হাসান আল বান্না

বাংলাদেশের সমাজসেবা ও উন্নয়নের কথা উঠলে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের নাম সামনে চলে আসে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্যতা হ্রাস, দক্ষতা, উন্নয়ন, নারী ও শিশুর উন্নয়ন, সামাজিক সচেতনতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বছরের পর বছর মানুষের পাশে থেকেছে প্রতিষ্ঠানটি। মানুষের প্রয়োজন সময়ের সঙ্গে বদলেছে, আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মিশনও তার কর্মপরিধি বিস্তৃত করেছে। বর্তমানে দেশের ৫২টি জেলায় মিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এ পথচলার শুরু একজন মানুষের চিন্তা, সাধনা ও মানবকল্যাণের দর্শন থেকে। তিনি শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও সুফি হযরত খানবাহাদুর আহ্ছান উল্লাহ (রহ.)। শিক্ষা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও আধ্যাত্মিকতার সমন্বয়ে একটি সুন্দর সমাজ গড়ার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন তারই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। তাঁর জীবনদর্শনের মূলকথা ছিল— 'স্রষ্টার এবাদত ও সৃষ্টির সেবা'। স্রষ্টার প্রতি আনুগত্যের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করাকে তিনি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখতেন। মানুষের সেবা, সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার এই দর্শনই পরবর্তীকালে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের কর্মধারার ভিত্তি হয়ে ওঠে।

হজরত খানবাহাদুর আহ্ছান উল্লাহ (রহ.) ছিলেন অবিভক্ত ভারতের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, সুফি চিন্তাবিদ ও লেখক। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯২৫ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত ভারতের বেঙ্গল ও আসাম প্রদেশে Assistant Director of Public Instruction হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সব শ্রেণির মানুষের জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান স্মরণীয়। ১৯১৯ সালের ১ নভেম্বর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম সিনেট সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল বিবেচনার জন্য উপস্থাপিত হলে তা প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়ে। পরবর্তী সময়ে এ বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। খানবাহাদুর আহ্ছান উল্লাহ (রহ.) ছিলেন ওই কমিটির একমাত্র বাঙালি মুসলমান সদস্য। কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে তিনি বিলের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন এবং এর পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর চিন্তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সমতা ও ন্যায়সঙ্গত সুযোগ নিশ্চিত করা। শিক্ষাব্যবস্থায় সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে তিনি পরীক্ষার খাতায় পরীক্ষার্থীর নামের পরিবর্তে ক্রমিক নম্বর ব্যবহারের রীতি চালুর উদ্যোগ নেন। তাঁর কাছে শিক্ষা ছিল শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়; নৈতিকতা, আত্মিক উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান উপায়। সাহিত্যচর্চায়ও তাঁর ছিল গভীর আগ্রহ। মানবজীবন, সমাজ, ইতিহাস, ধর্ম, সাহিত্য, নৈতিকতা ও মানবিক উন্নয়ন নিয়ে তিনি বহু গ্রন্থ ও রচনা রেখে গেছেন।

এ মানবিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দর্শনের ভিত্তিতেই ১৯৫৮ সালে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষের সামাজিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য। শুরুর দিকে সেবা ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও সময়ের সঙ্গে মিশনের কাজের ধরন ও পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। বিশেষ করে আশির দশক থেকে টেকসই উন্নয়নভিত্তিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব বাড়তে থাকে। শিক্ষা ও সাক্ষরতা থেকে স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, জীবিকায়ন ও সামাজিক উন্নয়ন মানুষের পরিবর্তিত প্রয়োজনকে সামনে রেখে ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয় এর কর্মপরিধি। 'স্রষ্টার এবাদত ও সৃষ্টির সেবা' এই দর্শনকে ধারণ করেই ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের দীর্ঘ মানবসেবার পথচলা আজও অব্যাহত।

নেতৃত্ব : মিশনের সাংগঠনিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়জুড়ে রয়েছে কাজী রফিকুল আলমের দীর্ঘ সম্পৃক্ততা ও নেতৃত্ব। হজরত খানবাহাদুর আহ্ছান উল্লাহ যে দর্শন ও আদর্শের ভিত্তিতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, কাজী রফিকুল আলম তাঁর দীর্ঘ কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে সেই মহান স্বপ্নের বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মিশনের প্রতিষ্ঠাতার আদর্শ ও দর্শনের অনুসারী হিসেবে তিনি ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের কার্যক্রমকে জাতীয় পরিসর ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি মিশনের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যুক্তরাজ্য থেকে শিক্ষায় বিশেষত্বসহ এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পরিচালক (পরিকল্পনা) পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে কোনো বেতন-ভাতা গ্রহণ না করে দুস্থ মানবতার সেবায় পূর্ণকালীনভাবে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনে যোগ দেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের একজন দূরদর্শী নেতা হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে দুস্থ ও অতিদরিদ্র মানুষের জন্য মিশনের মানবিক ও উন্নয়ন কার্যক্রম বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে মিশন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বকারী এনজিও-ইউনেস্কো লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়।

তিনি টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ অন অ্যাডুকেশন ফর অল (EFA), ইউনেস্কো, প্যারিসের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে ইউনেস্কোর রিসোর্স পারসন হিসেবে এশিয়া-প্যাসিফিক কালচারাল সেন্টার ফর ইউনেস্কো-জাপান এবং আইসেস্কোর সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সবার জন্য শিক্ষা প্রসারে বিশ্বব্যাপী ৮০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক কর্মশালা পরিচালনা করেন। বেসরকারি খাতে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে তার উদ্যোগে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আহ্ছান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (AUST)। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের উচ্চশিক্ষায় একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করে। এর পাশাপাশি তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় একাধিক মূলধারার স্কুল, কলেজ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও তার নেতৃত্বে রাজধানীর উত্তরায় বেসরকারি খাতে ৫০০ শয্যার ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়, যা নো-লস-নো-প্রফিট ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে তুলনামূলক স্বল্প ব্যয়ে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠে। শিক্ষা কার্যক্রমেও তাঁর উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রতিফলন রয়েছে। তাঁর উদ্ভাবিত মাল্টি-গ্রেড টিচিং-লার্নিং (MGTL), প্রারম্ভিক শৈশব উন্নয়ন (ECD) এবং ইউনেস্কোর কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার (CLC) যা সারা দেশে 'গণকেন্দ্র' হিসেবে পরিচিত। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে শিক্ষা বিস্তারে মিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষায় তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন।

তাঁর নেতৃত্বে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার, আইসেস্কো সাক্ষরতা পুরস্কার, এজিফান্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ও গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক অ্যাওয়ার্ডসহ ২০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে। জাতীয় পর্যায়েও প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনতা পুরস্কারসহ ১৬টি পুরস্কার অর্জন করে। দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কাজী রফিকুল আলম ২০২২ সালে 'হুজ হু বাংলাদেশ' অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। সে সময় তিনি ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এ ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতির দায়িত্বে আছেন অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান। তিনি পরিকল্পনা (Planning) ক্ষেত্রের একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (BUET) স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের সাবেক ডিন এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান ছিলেন তিনি। তিনি Bangladesh Institute of Planners (BIP)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং Commonwealth Association of Planners (South-West Asia)-এর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোলে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের University of Sheffield থেকে Town & Regional Planning-এ এবং যুক্তরাষ্ট্রের University of Oklahoma থেকে City & Re gional Planning-এ স্নাতকোত্তর করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি Rural Planning বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ১৯৯১ সালের ১ আগস্ট থেকে ১৯৯৩ সালের ২২ আগস্ট পর্যন্ত তিনি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য, আর এরপরে তিনি United International University (UIU)-এরও প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি আহ্ছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা ও প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি মিশনের বর্তমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। হযরত খানবাহাদুর আহ্ছান উল্লাহ (রহ.)-এর 'স্রষ্টার এবাদত ও সৃষ্টির সেবা' দর্শনকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান নেতৃত্বের সামনে তাই একদিকে রয়েছে— দীর্ঘ ঐতিহ্য ও অর্জন ধরে রাখার দায়িত্ব, অন্যদিকে পরিবর্তিত সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসূচিকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ। শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিকসেবায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সেই ধারাবাহিকতা এগিয়ে নিচ্ছে বর্তমান নেতৃত্ব।

মানুষের প্রয়োজনকে ঘিরে কাজের বিস্তার : প্রতিষ্ঠার সময়কার সেবামূলক কাজ থেকে মিশনের কর্মপরিধি এখন অনেক দূর এগিয়েছে। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য হ্রাস থেকে জীবিকায়ন, নারী ও শিশু উন্নয়ন থেকে মানবাধিকার, মানুষের জীবনের নানা প্রয়োজনকে কেন্দ্র করেই এসব কার্যক্রম গড়ে উঠেছে। বর্তমানে মিশনের কাজ আটটি প্রধান খাতে বিভক্ত : শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET), পানি ও স্যানিটেশন (WASH), অধিকার ও সুশাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (CC & DRR)।

শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন : শিক্ষা মিশনের অন্যতম প্রধান কর্মক্ষেত্র। উচ্চশিক্ষায় রয়েছে— আহ্ছান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (AUST), যেখানে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, ব্যবসা ও সামাজিক বিজ্ঞানের নানা বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে। এর বাইরে খুলনায় Khulna Khan Bahadur Ahsanullah University (KKBAU) এবং রাজশাহীতে Ahsania Mission University of Science & Technology (AMUST)। শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য আছে খানবাহাদুর আহ্ছান উল্লাহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ। তথ্যপ্রযুক্তিতে Ahsanullah Institute of Information & Communication Technology (AIICT), আর সাধারণ শিক্ষায় Ahsania Mission College। চিকিৎসা প্রযুক্তির জন্য আছে Ahsania Mission Institute of Medical Technology (AMIMT), আর শিশুদের জন্য Little Ducklings Daycare, Preschool & Playzone। এ ছাড়া সাতক্ষীরার নলতায় রয়েছে— Khanbhadur Ahsanullah (R.) Islamic Centre। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় আছে Ahsanullah Institute of Technical and Vocational Education and Training (AITVET) এবং Vocational Training Institute for Working Children। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একদিকে শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে কাজে লাগার মতো দক্ষতা অর্জনের পথও খুলেছে। কারিগরি খাতের চলমান কাজের মধ্যে আছে পূর্বশিক্ষার স্বীকৃতি (Recognition of Prior Learning) এবং শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা তরুণদের (NEET) জন্য EARN প্রকল্প। তাদের দক্ষ করে অর্থনীতির মূলধারায় আনাই এর লক্ষ্য।

স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষা : স্বাস্থ্য খাতে মিশনের কাজ সবচেয়ে বিস্তৃত। Ahsania Mission Medical College (AMMC) চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে। উত্তরা ও মিরপুরে Ahsania Mission Cancer & General Hospital ক্যান্সার চিকিৎসার পাশাপাশি সাধারণ স্বাস্থ্যসেবাও দেয়। মুন্সীগঞ্জে আছে— Hena Ahmed Hospital ও Ahsania Hena Ahmed Monojotno Kendro, আশুলিয়ায় Mayer Hashi General Hospital and Diagnostic Center, আর গাজীপুরে Monasef Ahsania Health Center। তবে স্বাস্থ্যের কাজ শুধু চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ নয়। রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যসচেতনতা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যবিধি ও জনস্বাস্থ্য নিয়েও নানা উদ্যোগ আছে। এইচআইভি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সেবা, নিরাপদ সড়ক এবং শহরের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মতো প্রকল্প এর উদাহরণ। চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে মানুষকে সচেতন করাও গুরুত্ব পেয়েছে।

গণমাধ্যমে মিশনের উপস্থিতি, 'আলোকিত বাংলাদেশ' : গণমাধ্যম খাতেও ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। মিশনের পৃষ্ঠপোষকতায় কাজী রফিকুল আলমের স্বপ্নদর্শী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিতহয় জাতীয় দৈনিক 'আলোকিত বাংলাদেশ'। পত্রিকাটি দেশ, দেশের মানুষ ও উন্নয়ন ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে আসছে। বর্তমানে অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রিন্ট ও অনলাইন-উভয় মাধ্যমেই পত্রিকাটি পাঠকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনজীবনের নানা বিষয়ের পাশাপাশি পত্রিকাটিতে রয়েছে স্বতন্ত্র ইসলামিক পাতা এবং 'সু-সংবাদ প্রতিদিন' আয়োজন। ইসলামিক পাতায় ধর্মীয় জ্ঞান, নৈতিকতা ও ইসলামি জীবনবোধ তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে, 'সু-সংবাদ প্রতিদিন'-এ স্থান পায় সমাজের ইতিবাচক উদ্যোগ, মানবিক কর্মকাণ্ড ও অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা। সত্যনিষ্ঠা, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সামাজিক অসঙ্গতি ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরার প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে 'আলোকিত বাংলাদেশ'। মিশনের মানবসেবা ও উন্নয়ন দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দায়িত্বশীল ও জনমুখী সাংবাদিকতার চর্চাই পত্রিকাটির অন্যতম অঙ্গীকার।

সাক্ষরতা ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা : এ ক্ষেত্রে মিশনের অভিজ্ঞতা অনেক দিনের। Institute of Literacy & Adult Education এবং বিভিন্ন গণকেন্দ্রের (Ganokendra) মাধ্যমে শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে কাজ হয়েছে। বর্তমানে কর্মস্থলে প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষরতা ও চলমান শিক্ষা কার্যক্রম, আর হাওর ও জলাভূমি অঞ্চলের জন্য Innovative Wetland Education Provision (IWEP)-এর মতো উদ্যোগও চলছে। গণকেন্দ্রগুলো শুধু সাক্ষরতার কেন্দ্র নয়। স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা, তথ্যপ্রাপ্তি, সচেতনতা ও নানা সামাজিক কাজের ক্ষেত্র হিসেবেও এগুলো ব্যবহৃত হয়েছে।

দারিদ্র্য হ্রাস ও জীবিকায়ন : দারিদ্র্যমোকাবিলায় মিশন আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ তৈরির মাধ্যমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম, ENRICH কর্মসূচি এবং উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য বসতভিটাভিত্তিক জীবিকা সহায়তা (RHL প্রকল্প) এই খাতের চলমান কাজ। এখানে লক্ষ্য শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়। উদ্দেশ্য হলো মানুষ যেন দীর্ঘমেয়াদে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। দক্ষতা ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত করে ব্যক্তি ও পরিবারের সক্ষমতা বাড়ানোকে টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে।

কৃষি : কৃষি খাতেও মিশনের উপস্থিতি আছে। Agro-Technology Transfer (ATT) কর্মসূচির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারী ও ক্ষুদ্র চাষিদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

নারী ও শিশু উন্নয়ন : নারী ও শিশু উন্নয়নও মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। নারীদের শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক কাজের সঙ্গে যুক্ত করে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে শিক্ষা, অধিকার, নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য Vocational Training Institute for Working Children-এর মতো উদ্যোগ এর একটি উদাহরণ। পঞ্চগড়ে Ahsania Mission Children City, মিরপুরে পরিত্যক্ত শিশু ও অসহায় নারীদের জন্য Ahsania Centre for Abandoned Children Destitute Women (KANAN) এবং যশোরে আশ্রয়কেন্দ্র 'ঠিকানা' এ সামাজিক দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন।

অধিকার ও সুশাসন : অধিকার ও সুশাসন খাতে মিশন Ashshash-II-এর মতো কর্মসূচি চালাচ্ছে। শিশু যৌন পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিয়েও দুটি প্রকল্প চলছে। এসব কাজ সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের অধিকার রক্ষার চেষ্টা।পানি, স্যানিটেশন ও জনস্বাস্থ্য: নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির সঙ্গে মানুষের জীবনমান সরাসরি জড়িত। মিশনের Health and WASH Sector এ বিষয়ে কাজ করে। নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়িয়ে বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। Building Water and Sanitation Entrepreneurship Program (BW&SEP) এর একটি উদাহরণ, যেখানে পানি ও স্যানিটেশনকে উদ্যোক্তা তৈরির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ মোকাবিলা : পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনও মিশনের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, দুর্যোগের প্রস্তুতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে কাজ হয়েছে। হাওর অঞ্চলের জন্য Haor Resilience and Preparedness Initiative (HaRPI) এবং ফেনীর ছাগলনাইয়ায় বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে জীবিকা সহায়তা এর উদাহরণ। মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে পরিবেশের সম্পর্ক বিবেচনায় রেখে উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে পরিবেশগত বিষয়গুলোও যুক্ত করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তাই ভবিষ্যতে এ খাতের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলেই আমার মনে হয়।

মাদক নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন : মাদক নিয়ন্ত্রণে মিশনের অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। Ahsania Mission Drug Treatment & Rehabilitation Centre-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্যামলীতে নারীদের জন্য আলাদা কেন্দ্র আছে, আর পুরুষদের জন্য কেন্দ্র আছে গাজীপুর ও যশোরে। সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসনেও মিশন কাজ করে আসছে। ২০২৬ সালেও মাদক প্রতিরোধ কার্যক্রমের জন্য মিশন দুটি পুরস্কার পেয়েছে। একটি যশোরের কেন্দ্রের বিজ্ঞানভিত্তিক মাদক প্রতিরোধ কার্যক্রমের স্বীকৃতি, অন্যটি জাতীয় মাদকবিরোধী র‍্যালিতে অংশগ্রহণের জন্য।

তামাক নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক সচেতনতা : তামাকের ক্ষতিকর দিক নিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতেও মিশনের কার্যক্রম আছে। স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণকে যুক্ত করে সচেতনতা, নীতি-সহায়তা ও জনসম্পৃক্ততার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমন্বিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন এবং তামাকের ওপর কর বাড়ানোর পক্ষে অ্যাডভোকেসিও এর অংশ।

সুফি দর্শন ও জ্ঞানচর্চা : প্রতিষ্ঠাতা হযরত খানবাহাদুর আহ্ছান উল্লাহ (রহ.)-এর সুফি দর্শন ও আধ্যাত্মিক চিন্তার চর্চাও মিশনের কাজের অংশ। এ জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে— Ahsania Institute of Sufism, যেখানে প্রতিষ্ঠাতার চিন্তা, নৈতিক দর্শন ও সুফি ঐতিহ্য নিয়ে চর্চার সুযোগ রয়েছে।

সারা দেশে মিশনের কর্মপরিধি : ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মিশনের কার্যক্রম দেশের ৫২টি জেলার ২৩২টি উপজেলা এবং ১,০৮২টি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডে বিস্তৃত। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চালাতে মিশনের প্রকল্প বা কর্মসূচিভিত্তিক অফিস আছে ৩২০টি, আর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অফিস ৪৬টি। চলমান প্রকল্পের সংখ্যা ২৯, আর মিশনের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ৩৫টি।

খাতভিত্তিক চলমান প্রকল্প : চলমান ২৯টি প্রকল্পের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে ১০টি, শিক্ষায় ৭টি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় (TVET) তিনটি করে, অধিকার ও সুশাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে দুটি করে, আর কৃষি ও পানি-স্যানিটেশনে একটি করে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার দিকে এ ঝোঁক মিশনের কাজের মূল প্রেরণার সঙ্গেই মিলে যায়।

উপকারভোগী মানুষ : সংখ্যার হিসাবে দেখলে মিশনের কাজের ব্যাপ্তি আরও স্পষ্ট হয়। সরাসরি উপকারভোগীর সংখ্যা ১৫,৫৩,৭৬০। এর মধ্যে নারী ৮,৫৯,৪৪৫ (৫৫%), পুরুষ ৪,২৭,৬৩৯ (২৮%), মেয়েশিশু ১,৭৩,৩৪১ (১১%) এবং ছেলেশিশু ৯৩,৩৩৫ (৬%)। সরাসরি ও পরোক্ষ মিলিয়ে মোট উপকারভোগী ২৫,৫৪,৬৩১ জন। এর মধ্যে নারী ১২,২৪,৭২৪ (৪৮%), পুরুষ ৮,৬০,৭৪৬ (৩৪%), মেয়েশিশু ২,৬৩,৪১৪ (১০%) এবং ছেলেশিশু ২,০৫,৭৪৮ (৮%)। দুই হিসাবেই নারীরা সবচেয়ে বড় অংশ। সরাসরি উপকারভোগীদের অর্ধেকেরও বেশি নারী, আমার কাছে এটা নারী উন্নয়নে মিশনের গুরুত্ব দেওয়ার একটি স্পষ্ট প্রমাণ।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি : দীর্ঘ সময়ের কাজের জন্য মিশন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছে। শিক্ষা, সাক্ষরতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ, দক্ষতা উন্নয়ন, মাদক প্রতিরোধ ও সামাজিক উন্নয়নের নানা উদ্যোগ এসব স্বীকৃতির সঙ্গে যুক্ত। উল্লেখযোগ্যগুলো হলো— J. Roby Kidd Special Citation, Canada- 1987, ACCU Japan Honorable Mention- 1992, ACCU Japan Prize- 1994, Human Resource Development Award, UN-ESCAP- 1995, ACCU Japan Grand Prize- 1996, National Literacy Award- 1998, Independence Award (স্বাধীনতা পুরস্কার)-2002, UNESCO International Literacy Prize-2003, Global Development Network Award-2003, AGFUND International Prize-2004, Dhaka City Medal- 2004, Dr. Muhammad Ibrahim Memorial Gold Medal-2006, ISESCO Prize for Literacy-2012, UNESCO Confucius Prize for Literacy-2013, UNESCO Wenhui Award for Educational Innovation- Honourable Commendation-2014, AGFUND International Prize-2015, WHO Regional Directors Special Recognition Award- 2020, Department of Narcotics Control-এর দুটি পুরস্কার-২০২৩, Department of Narcotics Control-এর দুটি পুরস্কার-২০২৬। ২০০২ সালে সামাজিক সেবায় মিশনকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এটি মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

মানবসেবার দর্শন থেকে ভবিষ্যতের পথে : হযরত খানবাহাদুর আহ্ছান উল্লাহ (রহ.) শিক্ষা, নৈতিকতা, আধ্যাত্মিকতা ও মানবসেবার যে দর্শন নিয়ে মিশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার কর্মপরিধি অনেক বেড়েছে। শিক্ষা ও সাক্ষরতা থেকে স্বাস্থ্য, কারিগরি প্রশিক্ষণ থেকে জীবিকায়ন, নারী ও শিশু উন্নয়ন থেকে পানি-স্যানিটেশন, পরিবেশ থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণ, সবই মানুষের প্রয়োজনকে ঘিরে। আজ দেশের ৫২টি জেলা, ৩৫টি প্রতিষ্ঠান, ২৯টি চলমান প্রকল্প এবং ২৫ লাখেরও বেশি উপকারভোগী মানুষের সংখ্যাই সেই বিস্তারের সাক্ষী। প্রতিষ্ঠাতা হযরত খানবাহাদুর আহ্ছান উল্লাহ (রহ.)-এর দর্শন, কাজী রফিকুল আলমের দীর্ঘ নেতৃত্ব আর বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের নেতৃত্ব, এ ধারাবাহিকতাতেই মিশন এগিয়ে চলেছে।

একটি প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে শুধু বয়সের জোরে নয়, সময়ের প্রয়োজন বুঝে নিজেকে বদলাতে পারার সক্ষমতাতেও। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের এই দীর্ঘ যাত্রায় সেই পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট। মূল মানবিক দর্শনকে ধরে রেখেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা, জীবিকা ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন নতুন ক্ষেত্রে মিশন কাজ ছড়িয়ে দিয়েছে। মানুষের জন্য কাজ করা, মানুষের সক্ষমতা বাড়ানো আর মানবিক মূল্যবোধকে সমাজে আরও দৃঢ় করার যে প্রত্যয় নিয়ে এ যাত্রা শুরু হয়েছিল, ভবিষ্যতেও সেই দর্শন ধরে রেখে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন মানুষের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে, এটাই প্রত্যাশা।