ঢাকা ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ | বেটা ভার্সন

ক্রীড়াঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন জিয়া

ক্রীড়াঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন জিয়া

বাংলাদেশের অনেক দাবাড়ু খেলার পাশাপাশি চাকরি করেন। সেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন জিয়াউর রহমান। দাবার বাইরে অন্য কোনো চাকরি করেননি তিনি। কারণ, দাবা খেলাই ছিলো তার ধ্যানজ্ঞান, নেশা-পেশা। ২০০২ সালে দেশের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার হন জিয়া। তারপর থেকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দাবা টুর্নামেন্টে খেলে যে আয় হতো, তা দিয়েই চলত তার জীবন। সেই দাবার বোর্ডেই জীবনের শেষ চাল দিলেন। গত শুক্রবার যখন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়া দাবা ফেডারেশনে এসেছিলেন তখন কেউ কি ভাবতে পেরেছিল এটাই তার শেষ যাত্রা! জাতীয় দাবার ১২তম রাউন্ডের খেলা চলছিল। জিয়াউরের প্রতিপক্ষ ছিল আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজিব। খেলা চলাকালীন হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জিয়াউর। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তাদের ভাষ্যমতে, প্রায় ১৫ মিনিট চিকিৎসকরা জিয়াউরের পালস খুঁজে পাননি। হাসপাতালে নেয়ার আগেই তিনি মারা গেছেন। আকস্মিক এই মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্রীড়াঙ্গনে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের মৃত্যু ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’ মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে দাবার উন্নয়নে তার অবদান এদেশের ক্রীড়াঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী নাজমুল হাসান গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিখ্যাত দাবাড়ু গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান দেশের একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দাবাড়ু ছিলেন। দেশের দাবার উন্নয়ন তথা গোটা ক্রীড়াঙ্গনে তার অনবদ্য অবদানের জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার মৃত্যু দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।’

জিয়ার মৃত্যুর সময় পাশেই ছিলেন আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার আব্দুল্লাহ আল রাকিব। তিনি তুলে ধরেছেন জিয়ার স্মৃতি। ‘আমার মনে হয় খেলাধুলায় জিয়া ভাইর নিবেদন, অবদান অতুলনীয়। নিয়াজ ভাইয়ের পর জিয়া ভাই গ্র্যান্ডমাস্টার নর্ম পেলেন। আমি এই মাইলফলকে গেলাম ২০০১ সালে। এরপর জিয়া ভাই আমাকে বললেন এই জিএম নর্ম তাকে আরেকজন জিএম নর্ম খুঁজতে রোমাঞ্চিত করছে।’ রাকিব বলেন, ‘আসলে আমরা একজন আরেকজনের সাফল্যে হিংসা করিনি। আমরা প্রায় একই সময়ে গ্র্যান্ডমাস্টার হয়েছি। আমরা অনেক টুর্নামেন্টে সতীর্থ আবার প্রতিপক্ষ হিসেবে খেলেছি। শব্দ দিয়ে সেসব বর্ণনা করা যাবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় বাংলাদেশের ক্রীড়া-ক্ষেত্রে আর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় থাকবে। আমি বলতে পারি পারফরম্যান্স অনুযায়ী তিনি বাংলাদেশের সেরা দাবাড়ু।’ ১১টায় গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, বিএসপিএ ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। এছাড়া জিয়াউর রহমানের আকস্মিক মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে আন্তর্জাতিক দাবা ফেডারেশন-ফিদে। তাদের ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিক শোক বার্তায় জিয়ার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত