ঢাকা ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ | বেটা ভার্সন

‘স্বপ্ন হলো সত্যি’

‘স্বপ্ন হলো সত্যি’

ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রতিভার ঝলক দেখল ফুটবল বিশ্ব। গোল করলেন। বার বার সুযোগ তৈরি করলেন। ইউরোর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হওয়ার নজির গড়লেন লামিনে ইয়ামাল। ১৬ বছরের এই কিশোর বুঝিয়ে দিলেন, শুধুমাত্র প্রতিভা হয়ে থাকতে আসেননি। আগামী বেশ কয়েক বছর শাসন করতে চান ফুটবল বিশ্বকে। তার কাছে এটি স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতোই। আসরজুড়ে দুর্দান্ত খেলা ইয়ামাল সেমি-ফাইনালে আরো এক ধাপ ছাড়িয়ে যান নিজেকে। দুর্দান্ত এক গোল করে ফ্রান্সের বিপক্ষে সমতায় ফেরান তিনি দলকে। ইউরো ও বিশ্বকাপের ইতিহাস মিলিয়ে প্রথমবার গোল করলেন কোনো ১৬ বছর বয়সি ফুটবলার।

এর আগে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করার কীর্তি ছিল পেলের। ব্রাজিলের হয়ে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে প্রথম গোলটি করার সময় পেলের বয়স ছিল ১৭ বছর ২৩৯ দিন। ইয়ামালের ১৭ পূর্ণ হবে এই শনিবার। রেকর্ডের কারণে গোলটি আলাদা করেই রয়ে যাবে ইতিহাসে। তবে যেভাবে তিনি গোলটি করেছেন, সেই কারণেও এটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এবারের ইউরোর সেরা গোলগুলির মধ্যে এটি থাকবে নিশ্চিতভাবেই। ইয়ামাল অবশ্য নিজের গোলের চেয়ে বেশি খুশি দলের জয়ে। তার কাছে এটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মুহূর্ত। ‘এই জয়ে এবং ফাইনালে উঠতে পেরে আমি দারুণ খুশি। জানি না, এটা টুর্নামেন্টের সেরা গোল কি না। তবে আমার কাছে এটা স্পেশাল, কারণ দল ফাইনালে উঠেছে। আমার জাতীয় দল ইউরোর ফাইনালে উঠেছে, আমার জন্য এটা সুপার স্পেশাল। শেষ বাঁশি বাজার পর সত্যিই দারুণ লেগেছে। জাতীয় দলের সঙ্গে এরকম একটি ফাইনালে উঠতে পারা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। আমার মা বলেছেন, তারও এটা স্বপ্ন ছিল। ফ্রান্সের বিপক্ষে আমার প্রথম গোল, সেমি-ফাইনালে গোল করতে পেরে খুবই খুশি আমি।’ বার্সেলোনার হয়ে পারফরম্যান্সে আগেই নজর কেড়েছিলেন ইয়ামাল। সবচেয়ে কম বয়সে নানা কিছু অর্জনের রেকর্ড তিনি গড়েছেন ক্লাবের জার্সিতেও। এরপর এবারের ইউরোর পারফরম্যান্সে তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন দেশজুড়ে। আলাদা করেই ছাপ রেখেছেন ফুটবলবিশ্ব জুড়ে অনেকের মনে। তবে যথারীতি এত গভীর ভাবনাও তাকে প্রভাবিত করে না খুব একটা। তিনি স্রেফ দলে অবদান রেখে যেতে চান। ‘এসব নিয়ে আমি খুব একটা ভাবি না। ‘আইকন’ হয়েছি কি না, এসব জানি না। এসব ব্যাপার তো মাঠে কোনো কাজে লাগে না। আমার দরকার দলকে সহায়তা করা, সেটাই চেষ্টা করি সবসময় এবং আজকেও করেছি। এই গোলের পাশাপাশি আলোচনা চলছে তার উদযাপন নিয়েও। গোল করার পর ক্যামেরার সামনে এসে তিনি বলেছেন, ‘স্পিক নাউ এবার কথা বলো।’ ম্যাচের আগে ফরাসি মিডফিল্ডার আদ্রিয়াঁ রাবিও বলেছিলেন, স্পেনকে ফাইনালে খেলতে হলে ফ্রান্সের বিপক্ষে আরও বেশি কিছু করতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, উদযাপনে রাবিওকেই জবাব দিয়েছেন ইয়ামাল। ম্যাচ শেষে তাকে এটা নিয়ে প্রশ্নও করা হলো। তবে সরাসরি জবাব দেননি তিনি। ‘যাকে নিয়ে বলেছি, সে জানে যে মানুষটি কে।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত