মিরপুর টেস্টে চালক বাংলাদেশ

প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টে জয় ছাড়া ভিন্ন কিছু ভাবছে না টাইগাররা। মাঠের খেলায় তার ছাপ রেখে যাচ্ছেন নাজমুল হাসান শান্তরা। প্রথম ইনিংসে ভিত গড়ে দিয়েছিলেন লিটন দাস, মুমিনুল হকরা। মুশফিক নিজেও সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ইতিহাস গড়েছেন। পরে বল হাতে চমক দেখিয়ে তাইজুল ইসলাম তুলে নিলেন চার উইকেট। তিনি জ্বলে ওঠায় আয়ারল্যান্ডের প্রথম ইনিংস থামল ২৬৫ রানে। তাদেরকে ফলো-অন না করিয়ে ফের ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ। ২১১ রানে এগিয়ে থেকে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে শতরানের জুটি গড়লেন মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম। তাদের ফিফটিতে মিরপুর টেস্টে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করল টাইগাররা।

গতকাল শুক্রবার শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ১৫৬ রান তুলে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। এদিন সকালটা ব?্যাট-বলে বাংলাদেশ ও আয়াল্যান্ডের লড়াইটা ভালোই হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ ভূমিকম্পে সব কিছু গেল থমকে। খেলোয়াড়রা খেলা থামিয়ে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেন। ড্রেসিংরুমে থাকা খেলোয়াড়রা চলে আসেন ডাগআউটে। গ?্যালারি, প্রেসবক্স, হসপিটালিটি বক্স সব জায়গাতে ছোটাছুটি। এমন অপ্রস্তুত মুহূর্ত মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামসহ পুরো স্টেডিয়ামকেই নাড়িয়ে দেশকে। পরিস্থিতি অনুকূলে আসার পর পৌনে চার মিনিট বিরতি দিয়ে আবার শুরু হয় দুই দলে লড়াই। তৃতীয় দিনের লড়াই শেষে ম?্যাচের নাটাইটা বাংলাদেশের কাছে। আয়ারল্যান্ডকে ২৬৫ রানে অলআউট করার পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ১৫৬ রান তুলে দিন শেষ করেছে। ২১১ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা বাংলাদেশের পুঁজিতে মোট রান ৩৬৭।

সাদমান ইসলাম ৬৯ ও মুমিনুল হক ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। ৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলের রান টেনে নিচ্ছেন তারা। এর আগে উদ্বোধনী জুটিতে ১১৯ রান করেছিলেন জয় ও সাদমান। ফিফটির পর জয় হাল ছেড়ে দেন। ৯১ বলে ৬০ রান করে ফেরেন সাজঘরে। দুই ওপেনারের জুটি ভালোই জমে উঠেছে। সিলেটে একমাত্র ইনিংসে ১৬৮ রানের জুটি গড়েছিলেন। ঢাকায় প্রথম ইনিংসে ৪১। এবার ১১৯। বাংলাদেশ দিনের শেষে ম?্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেও দিনের শুরুতে আইরিশরা দারুণ ব?্যাটিং করেছিল। ৫ উইকেটে ৯৮ রানে দিন শুরু করে টাকার ও ডোহেনি প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। বাংলাদেশের দুই পেসার খালেদ ও ইবাদতকে দারুণভাবে সামলানোর পর তাইজুল, মিরাজ, মুরাদকে দেখেশুনে খেলে রান তুলে নেন। ষষ্ঠ উইকেটে সর্বোচ্চ ৮১ রানের জুটি গড়েন তারা।

অভিজ্ঞ তাইজুল এই জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল?্য এনে দেন। আইরিশ শিবিরে জোড়া আঘাত করেন তিনি। দারুণ এক ডেলিভারিতে ডোহেনিকে বোল্ড করেন। এক বল পর আরেকটি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে অ?্যান্ডি ম?্যাকব্রাইনকেও বোল্ড করলেন বাঁহাতি স্পিনার। ৭৭ বলে চারটি চারে ৪৬ রান করে ফেরেন অভিষিক্ত ডোহেনি। ম?্যাকব্রাইন খুলতে পারেননি রানের খাতা। প্রথম সেশনে তাইজুলের জোড়া সাফলে?্য বাংলাদেশ লড়াইয়ে ফিরলেও দ্বিতীয় সেশনে আবার প্রতিরোধ পায় অতিথিরা। মনে হচ্ছিল ফলোঅন এড়িয়ে যাবে। লর্কান টাকার ও জর্ডান নিল সেভাবেই ব?্যাট চালাচ্ছিলেন। অষ্টম উইকেটে সবাইকে চমকে দিয়ে ১৪৫ বলে ৭৪ রানের জুটি গড়েন। বাংলাদেশ এ জুটি ভাঙে দ্বিতীয় নতুন বলে। ইবাদত হোসেনের শর্ট বলে ব?্যাট সরাতে পারেননি নিল। ৮৩ বলে ৯ চারে ৪৯ রান করেন নিল।

এরপর খালেদ ও তাইজুলের দুই উইকেটে আয়ারল?্যান্ড গুটিয়ে যায় সহজেই। খালেদের বলে উইকেটের পেছনে ক?্যাচ দেন অভিষিক্ত গ?্যাভিন হোয়ে। তাইজুল আউট করেন হামফ্রিজকে। এই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটের তালিকায় এখন সাকিব আল হাসানের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে তাইজুল ইসলাম। দুই বাঁহাতি স্পিনারের উইকেট ২৪৬টি। ১৭১ বলে ৭ চারে ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন লর্কান টাকার। আয়ারল?্যান্ডকে ফলোঅনে না ফেলে ২১১ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে মাঠে নামে। ভালো ব?্যাটিংয়ে লিড প্রায় চারশ ছুঁই ছুঁই। কতদূর যাবে এই লিড সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে কাল পর্যন্ত। আজ সকালেও নতুন কোনো ঘটনা ঘটে কিনা সেটাও দেখার।