ইতিহাস গড়েও উপেক্ষিত জাবেদ-খই খই মারমা

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিশ্বে টেবিল টেনিসের প্রচলন প্রায় শতবছরের। বাংলাদেশে খেলাটি যাত্রা শুরু করেছে প্রায় ৫০ বছর আগে। কিন্তু পাঁচ দশকেও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে টেবিল টেনিসে দেশের উল্লেখযোগ্য কোন প্রাপ্তি নেই। অবশেষে আক্ষেপ দুর হয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের দুই টেবিল টেনিস তারকা মো. জাবেদ আহমেদ এবং খই খই সাই মারমা। রিয়াদে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে টেবিল টেনিস ইভেন্টের মিশ্র দ্বৈতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে রৌপ্য পদক জিতেছেন তারা। দেশের টেবিল টেনিসে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য। দেশের জন্য এত বড় সাফল্য বয়ে আনার পরও উপেক্ষিক জাভেদ ও খৈ খৈ মারমা।

অলিম্পিক ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত তাদের জন্য কোনো ঘোষণা আসেনি। অথচ এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক জয়ী আর্চারদের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ১০ লাখ করে আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেছেন। এশিয়া কাপ খেলার সম্ভাবনা শেষ হওয়ার পরও ভারতকে হারিয়ে ফুটবল দল পেয়েছে ২ কোটি টাকার ঘোষণা। অথচ টিটির এমন সাফল্যের পরও নেই মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ঘোষণা।

তবে আশা ছাড়ছেন না টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আহমেদ সনেট, ‘এনএসসি, অলিম্পিক ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুরস্কার বা সংবর্ধনা পাওয়ার সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আমরা আশাবাদী তারা টেবিল টেনিসের এই কৃতি সাফল্য অর্জনকারীদের অবশ্যই সম্মানিত করবেন।’

টেবিল টেনিস ফেডারেশন গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ডাচ বাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে পদক জয়ীদের সংবর্ধনা দেয়। সেখানেই ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আহমেদ সনেট ঘোষণা দেন, জাবেদ এবং খই খইকে এক লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ফেডারেশনের আর্থিক সংকট থাকলেও দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টেবিল টেনিস সাফল্যকে সম্মান জানাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সনেট আশা করেন, এনএসসি, অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকেও খেলোয়াড়রা সম্মাননা পাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় দলের কোচ মোস্তফা বিল্লাহ বলেন, এটি টেবিল টেনিসের ৫৩ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন। তার ভাষায়, খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা থেকেই এসেছে সাফল্য। তিনি মনে করেন, ইসলামিক সলিডারিটি গেমস অলিম্পিক বা এশিয়ান গেমসের মতো মর্যাদাপূর্ণ না হলেও এই রৌপ্য জয় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বড় অর্জন। দীর্ঘদিন সংগ্রামের মধ্যে থাকা জাবেদ আহমেদ বলেন, এই পদক হঠাৎ পাওয়া নয়; বছরের পর বছর পরিশ্রম, অভিজ্ঞতা এবং মানসিক শক্তির ফল এটি।

তিনি জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য মাসিক বেতন বা ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তার মতে, খেলোয়াড়রা যখন পরিবার ও খরচ নিয়ে চিন্তায় থাকে, তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উন্নতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। উদীয়মান তারকা খই খই মারমা বলেন, আগের ইসলামিক গেমসে বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালের পরই থেমে গিয়েছিল। এবার তাদের লক্ষ্য ছিল সেটি অতিক্রম করা। কোয়ার্টারের প্রতিপক্ষ জানার পর জাবেদ আত্মবিশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, সুযোগ আছে। সেই আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রমের ফলই রৌপ্য পদক। খই খইর স্বপ্ন আরও বড়, একদিন বাংলাদেশকে তিনি দেখতে চান অলিম্পিকে টেবিল টেনিসে খেলতে।

সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সনেট জানান, আন্তর্জাতিক সাফল্য ধরে রাখতে ইরান ও ভারতের কোচ আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে আর্থিক সংকট এবং ডিসেম্বরে ভেন্যুর ঘাটতি বড় বাধা। অ্যাডহক কমিটি ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েকটি আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়েছে। সামনে জাতীয় লিগ ও ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে এবং এর পর নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

উল্লেখ্য, ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস মিশ্র বিভাগে গায়ানাকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ দল। কোয়ার্টারে মালদ্বীপকে হারানোর পর সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় জাবেদণ্ডখই খই জুটি। নিয়ম অনুযায়ী সেমিফাইনালে উঠলেই ব্রোঞ্জ নিশ্চিত হয়, কিন্তু তারা থেমে থাকেননি। সেমিফাইনালে বাহরাইনকে ৩-১ সেটে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। শিরোপা লড়াইয়ে শক্তিশালী তুরস্কের কাছে হারলেও রৌপ্য জিতেই ইতিহাস রচনা করে এই জুটি।