‘আমাকে শিগগিরই পুরোদমে দেখতে পাবেন’
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

সময়টা ছিল ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। ভুটানের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে পায়ে আঘাত পেয়েছিলেন বিশ্বনাথ ঘোষ।
ব্যথার চোটে সে রাতে বা পায়ের ব্যথায় ঘুমাতে পারছিলেন না তিনি। টানা তিনমাস ব্যথা নিয়ে ভুগতে হয়েছে তাকে। দুঃখের বিষয় হলো তার সমস্যাই চিহ্নিত করা যাচ্ছিল না। তবুও থাইল্যান্ডে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। অনেক চড়াই-উৎরাইয়ের পর দীর্ঘ ১৫ মাস পর দিনকয়েক আগে আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে শেষ দিকে মাঠে নেমে নিজেকে যেন ফিরে পেলেন। সুস্থ হয়ে রোমানিয়া থেকে ওষুধ এনেও খেতে হয়েছে ২৭ বছর বয়সী ডিফেন্ডারকে! বিশ্বনাথ ডিফেন্ডিংয়ের পাশাপাশি লম্বা থ্রোয়ে বেশ আলোচিত। বসুন্ধরা কিংস কিংবা জাতীয় দলে সুনামের সঙ্গে খেলছিলেন। ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচে এক আঘাতে যেন ক্যারিয়ারে ঘোর অমানিষা নামে। বিশ্বনাথ বলছিলেন, ‘ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচের পর রাতে পায়ে ব্যথা অনুভব করি। এরপর থেকে মাঠের অনুশীলন কিংবা খেলা দুটো থেকে দূরে সরে যেতে হয়েছে।
এইসময়ে চিকিৎসা কম হয়নি, অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। তারপরও আশাহত হইনি, সবাই সাহস জুগিয়েছে। নিজেও আশাবাদী ছিলাম। তাই কঠোর পরিশ্রমের পর আবার ফিরতে পেরেছি। এখন অল্প করে গেম টাইমিং পাচ্ছি। শিগগিরই পুরো দমে আমাকে দেখতে পাবেন।’
এই সময়ে মাঠের বাইরে থেকে নিদারুণ খারাপ লাগা কাজ করেছে বিশ্বনাথের মাঝে। তার ভাষায়, ‘দেখুন আমার কাজ হলো ফুটবল খেলা। সেটা যদি খেলতে না পারি তাহলে তো খারাপ লাগবেই। তবে আমি একজন লড়াকু ফুটবলার। সবার আশীর্বাদে ও ক্লাবের সহযোগিতায় ফিরে এসেছি।’
বিশ্বনাথের চিকিৎসায় ক্লাবের পাশাপাশি তৎকালীন রোমানিয়ার কোচ ভ্যালেরি তিতে অবদান রেখেছেন। কোচ নিজেই নিজের দেশ থকে ওষুধ এনে দিয়েছেন। বিশ্বনাথ বলেছেন, ‘সুস্থ হতে রোমানিয়া থেকে ওষুধ এনে খেয়েছি। তিতে নিজেই তাদের দেশের জাতীয় দলের ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে অন্য ওষুধ এনে দিয়েছেন। যা আমার বেশ কাজে দিয়েছে। আসলে আমার সুস্থ হতে সবার অবদান রয়েছে।’
নতুন বছরে মার্চে এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ফিরতে চান বিশ্বনাথ, ‘আসলে দীর্ঘমেয়াদে চোটের পর আমি নতুন করে মাঠে ফিরেছি। যদি কিংসের হয়ে মাঠ মাতাতে পারি তাহলে তো নিশ্চয় জাতীয় দলে দেখতে পাবেন। আগে কিংসের হয়ে খেলতে চাই। ক্লাবটি আমার জন্য অনেক কিছু করেছে। তাদের হয়ে মাঠে কিছু করে দেখাতে পারলে ভালো লাগবে। তাদের প্রতি আমার অনেক ঋণ।’
