সেই চট্টগ্রামই এখন পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসর শুরুর সব প্রস্তুতি যখন শেষ। ঠিক এমন সময়ই নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয় চট্টগ্রাম রয়্যালস। আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে বিপিএল থেকে নাম প্রত্যাহারের আবেদন করে দলটি। এরপর এই দলটির দায়িত্ব নিয়েছিল বিসিবি। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মাত্র দুজন বিদেশি নিয়ে মাঠে নেমেছিল দলটি। এমন এলোমেলো চট্টগ্রাম ৪ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। গতকাল রোববার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বিপিএলের ম্যাচে স্বাগতিকদের উড়িয়ে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জিতেছে চট্টগ্রাম। চার ম্যাচে তৃতীয় জয়ে তারা অর্জন করেছে ৬ পয়েন্ট। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় দুই ওপেনার অ্যাডাম রসিংটন ও মোহাম্মদ নাঈম শেখের ফিফটিতে দাপুটে জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম রয়্যালস।

এদিন প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের কেউ করতে পারেননি ২০ রানও। এমন হতশ্রী শুরুর পর আজমাতউল্লাহ ওমারজাইয়ের ব্যাটে কোনোমতে একশ পার করে সিলেট টাইটান্স। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সিলেটকে ১২৬ রানে আটকে রাখে চট্টগ্রাম। পরে ২৪ বল বাকি থাকতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তারা। গত ম্যাচে ৬০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলা রসিংটন এদিনও ফেরেন দলের জয় সঙ্গে নিয়ে। ২ ছক্কা ও ৮ চারে ৫৩ বলে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন ইংলিশ কিপার-ব্যাটসম্যান। ঢাকার বিপক্ষে অপরাজিত ৫৪ রান করা নাঈম শেখ এবার কাজ শেষ করে ফিরতে পারেননি। ৩ ছক্কা ও ৪টি চারে ৩৭ বলে ৫২ রান করা বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের হাতে ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। রসিংটন ও নাঈমের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১১৫ রান। চট্টগ্রামের এই জয়ে অবদান কম নয় বোলারদের। অফ স্পিনে চার ওভারে স্রেফ ১৮ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন মেহেদি হাসান। ২৪ রানে দুটি প্রাপ্তি মির্জা বেগের। একটি করে শিকার ধরেন শরিফুল ইসলাম, আমের জামাল ও মুকিদুল ইসলাম।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা সিলেটের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। ৩৪ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটি। ম্যাচে নিজের প্রথম বলেই প্রতিপক্ষ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজকে ফিরিয়ে দেন মুকিদুল। পরের দুই বলে এই পেসারকে চার মারেন নতুন ব্যাটসম্যান জাকির হাসান। চতুর্থ ওভারে আক্রমণে স্পিন আনে চট্টগ্রাম, বল হাতে নেন অধিনায়ক মেহেদি। তাতে কাজও হয়। শেষ বলে হাজরাতউল্লাহ জাজাইকে এলবিডব্লিউ করে দেন তিনি। নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে প্রথম দুই ডেলিভারি করার পর হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগায় মাঠ ছেড়ে যান মুকিদুল ইসলাম। ওভারের বাকিটা করতে এসে প্রথম দুই বলেই দলকে সাফল্য এনে দেন মির্জা বেগ। জাকিরকে বোল্ড করার পর ইথান ব্রুকসকে ফেরান পাকিস্তানি এই অফ স্পিনার।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আফিফ হোসেনের স্টাম্প ভেঙে দেন মেহেদি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে একশর আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে যায় সিলেট। পারভেজের সঙ্গে ৪৩ রানের পর, রাহাতুলকে নিয়ে ৩৪ রানের জুটি গড়েন ওমারজাই। তাতে একশ পার করে সিলেট। একটি ছক্কা ও ৪টি চারে ৪১ বলে ৪৪ রান করেন আফগানিস্তান অলরাউন্ডার ওমারজাই। সিলেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পারভেজ হোসেন ও রাহাতুল ফেরদৌসের ১৭। রান তাড়ায় ইনিংসের প্রথম বলেই নাসুম আহমেদকে ছক্কায় ওড়ান নাঈম। পরের ১৩ বলে আর কোনো বাউন্ডারি পায়নি চট্টগ্রাম। তৃতীয় ওভারে ওমারজাইকে ছক্কা হাঁকান রসিংটন, টানা দুই চার মারেন নাঈম।

শুরুর দুই ব্যাটসম্যানের সৌজন্যে ৫২ রান নিয়ে পাওয়ার প্লে শেষ করে চট্টগ্রাম। পরেও রসিংটন ও নাঈমের ব্যাটে আসতে থাকে দ্রুত রান। দ্বাদশ ওভারে ৩৭ বলে ফিফটি স্পর্শ করার পর খালেদকে টানা দুটি চার মারেন রসিংটন। আরেকটু আক্রমণাত্মক খেলে নাঈম পঞ্চাশে পা রাখেন ৩৩ বলে। একটা সময় মনে হচ্ছিল, আরেকটি ১০ উইকেটের জয় পেতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম। কিন্তু জয় যখন ১২ রান দূরে, রাহাতুলকে ছক্কার চেষ্টায় লং-অনে ধরা পড়েন নাঈম। পরে ষোড়শ ওভারের শেষ বলে চার মেরে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন রসিংটন। এই জয়ে আপাতত পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠল চট্টগ্রাম। তাদের মতো চার ম্যাচ খেলে ৬ পয়েন্ট পেয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সও। তবে রান রেটে এগিয়ে চট্টগ্রাম।