‘বাংলাদেশ আমাদের কী ক্ষতি করেছে মোস্তাফিজকে বাদ দিতে হবে’
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া ডেস্ক

গত ডিসেম্বরে মিনি নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে আইপিএলে দল পান বাংলাদেশ দলের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।
সম্প্রতি ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের দাবির মুখে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দিয়ে দেয় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। মোস্তাফিজ ইস্যুতে আগামী মাসে ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার কারণে বাংলাদেশ সরকার থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আইপিএল ম্যাচ বাংলাদেশ যাতে সম্প্রচার না করা হয়। আইপিএল ম্যাচে বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান মাঠে না নামাতে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) যে নির্দেশনা দিয়েছে, তার সমালোচনা করেছেন জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, মতানৈক্য থাকলে বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে লড়াই করা উচিত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের, বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে নয়।
গত মঙ্গলবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্ট ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে লড়াই করুন, ক্রিকেটারদের সঙ্গে নয়। ওই ক্রিকেটারের (মোস্তাফিজুর রহমান) কী দোষ ছিল? আপনারা কি মনে করেন যে তাকে বাদ দেওয়ায় বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে? আর একটি কথা হলো বাংলাদেশের জনগণ আমাদের কী ক্ষতি করেছে? তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বরাবরই ভালো ছিল। বাংলাদেশ কখনও আমাদের দেশে সন্ত্রাসবাদ ছড়ায়নি।’
খেলাধুলায় রাজনীতির প্রভাব থাকা উচিত নয়
এদিকে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক মহলে চলছে পরস্পরবিরোধী মন্তব্য।
জনতা দলের (ইউনাইটেড) সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য কিষাণ চাঁদ ত্যাগি বিসিসিআইকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে বলেন। ত্যাগি জোর দিয়ে বলেন, খেলাধুলায় রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব থাকা উচিত নয়।
ত্যাগি বলেন, ‘রাজনীতির সঙ্গে খেলাধুলার কোনো দেনদরবার নেই। এটা ক্রিকেটের চেতনার ওপর প্রভাব ফেলছে।’
ত্যাগি আরও বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি, খেলাধুলায় রাজনীতির প্রভাব থাকা উচিত নয়। যখন বাংলাদেশ একজন হিন্দু ক্রিকেটার লিটন দাসকে তাদের দলের অধিনায়ক করেছে, তখন এটা আমাদেরকে পুনরায় ভাবার সুযোগ দেয়।’
