দাপুটে জয়ে সিলেট পর্ব শেষ টাইটান্সের

রংপুরের হ্যাটট্রিক পরাজয়

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

ঘরের মাঠে নিজেদের শেষ ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সিলেট পর্ব শেষ করল সিলেট টাইটান্স। শক্তিশালী রংপুর রাইডার্সকে এদিন পাত্তাই দেয়নি সিলেট। টানা তৃতীয় পরাজয়। হ্যাটট্রিক হারে বিপাকে পড়ে গেছে কাগজে-কলমে আসরের সবচেয়ে শক্তিশালী তিস্তা পাড়ের দলটি। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণটা শুরু থেকেই নিজেদের হাতে রেখেছিল সিলেট। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বোলাররাই। নাসুম আহমেদের আঁটসাঁট স্পেল, শহিদুল ইসলামের আক্রমণাত্মক পেস আর মঈন আলির কৃপণ বোলিংয়ে রংপুর রাইডার্সকে বড় স্কোর গড়ার কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি। এরপর ব্যাট হাতে পারভেজ হোসেন ইমনের দায়িত্বশীল ফিফটিতে সহজ জয় তুলে নেয় সিলেট। গতকাল সোমবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ম্যাচে রংপুরকে ৬ উইকেটে হারায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৯.১ ওভারে মাত্র ১৪৪ রানেই গুটিয়ে যায় রংপুর। জবাবে ১৫ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে সিলেট। দুই দলের প্রথম দেখায় একই ব্যবধানে জয় পেয়েছিল রংপুর, এবার তারই জবাব দিল সিলেট। ১৯ রানে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা সিলেটেরই সন্তান নাসুম আহমেদ। টুর্নামেন্টে প্রথমবার খেলতে নেমে তিন উইকেট শিকার করেন পেসার শহিদুল ইসলামও।

মইন আলিকে তো খেলতেই পারছিলেন না ব্যাটসম্যানরা। চার ওভারে একটি মেডেনহ স্রেফ আট রানে দুটি উইকেট নেন ইংলিশ এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার। রান তাড়ায় সিলেট জিতে যায় ওভারে। ব্যবধান বড় হতে পারত আরও। জয়ের দুয়ারে গিয়ে দুটি উইকেট হারায় তারা। জয়ের পথে সিলেটে ছোটার শুরু টস জয় দিয়ে। ম্যাচের প্রথম ওভারটিই মেডেন নেন মইন। আগের দিন ৯৭ রানের ইনিংস খেলা তাওহিদ হৃদয়কে ক্রিজে আটকে রাখেন তিনি। পরের ওভারেই নাসুম বিদায় করে দেন কাইল মেয়ার্সকে (০)। দ্রুতই তাকে অনুসরণ করেন হৃদয়। টুর্নামেন্টে প্রথমবার বল হাতে নিয়ে তৃতীয় ডেলিভারিতেই উইকেট পান শহিদুল। লিটন দাসের শুরুটা দেখে মনে হচ্ছিল, অবশেষে হয়তো নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন তিনি। কিন্তু সেই আভাস মিলিয়ে যায় দ্রুতই। শহিদুলের স্লোয়ার ডেলিভারিকে বোল্ড হয়ে যান তিনি ১২ বলে ২২ রান করে।

আসরের আট ম্যাচে কোনো ফিফটি করতে পারলেন না বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। ইফতিখার আহমেদ ও খুশদিল শাহ চেষ্টা করেন ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে জুটি গড়ার। পরিস্থিতি অনেকটা সামাল দেন তারা। তবে দলকে পুরোপুরি উদ্ধার করার আগেই হাল ছেড়ে দেন ইফতিখার। মইনের ক্যারম বল উড়িয়ে মেরে আউট হন তিনি ২০ বলে ১৭ করে। পরের ওভারে আরও বড় ধাক্কা খায় রংপুর। দ্বিতীয় রান নেওয়ার চেষ্টায় ইথান ব্রুকসের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হয়ে যান ভালো খেলতে থাকা খুশদিল। তার ২৪ বলে ৩০ রানই দলের সর্বোচ্চ। ব্যর্থতার বলয় ভেঙে বের হতে পারেননি অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। টুর্নামেন্টে প্রথম খেলতে নামা নাঈম হাসান বোল্ড হয়ে যান নাসুমের বলে বাজে শটে। শেষের তিন ব্যাটসম্যানের কেউ রানের দেখা পাননি। ৯৬ রানে ৯ উইকেট হারানো দল ১১৪ রান পর্যন্ত যেতে পারে মাহমুদউল্লাহর সৌজন্যে। ২৩ বলে ২৯ রান করে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন মাহমুদউল্লাহ।

রান তাড়ায় সিলেটকে তেমন কোনো বেগ পেতে হয়নি। উদ্বোধনী জুটিতেই কাজ অর্ধেক সেরে ফেলেন তৌফিক খান তুষার ও পারভেজ হোসেন ইমন। স্থানীয় দর্শকদের মাকিয়ে চার ছক্কায় ২২ বলে ৩৩ রান করে আউট হয়ে যান তৌফিক। তিনে নামা আরিফুল ২১ রান করতে বল খেলেন ২৬টি। কিন্তু তার ইনিংসে ছিল চোখ ধাঁধানো কয়েকটি শট। পারভেজ আর আফিফ হোসেন মিলেই খেলা শেষ করবেন বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু জয়ের একদম কাছে গিয়ে নাহিদ রানার বলে সীমানায় ধরা পড়েনে আফিফ। পরের বলে দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান ইখান ব্রুকস। পারভেজ দলের জয় সঙ্গে নিয়েই ফেরেন। ছক্কায় দলকে জেতানোর পাশাপাশি পূর্ণ হয় তার ফিফটি। ম্যাচ শেষে গোটা মাঠ ঘুরে গ্যালারির দর্শকদের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানায় গোটা সিলেট দল।