বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম নতুন অধ্যায় লেখুক
বিশ্বকাপ ট্রফি দেখে রোমাঞ্চিত জামাল
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া আগে বহুবার দেখেছেন ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি। তবে বাস্তবে নয়, সেটি ছিল টেলিভিশনে দেখার অভিজ্ঞতা। এবারই প্রথম কাছ থেকে দেখলেন তিনি। বিশ্বকাপ ট্রফি সামনে থেকে দেখার অভিজ্ঞতা যে কোনো ফুটবলারের জন্যই স্বপ্নের মতো। বাংলাদেশ অধিনায়কের জন্য সেই অভিজ্ঞতা ছিল এক কথায় ‘জোস’। প্রথমবারের মতো সশরীরে সোনালি ট্রফিটি দেখে নিজের উচ্ছ্বাস আর ভালো লাগা লুকিয়ে রাখেননি এই মিডফিল্ডার। সম্প্রতি ট্রফি সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে আসা ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিটি খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয় জামালের। গতকাল বুধবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সেই অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এক্সপেরিয়েন্স জোস ছিল, টু বি অনেস্ট। গিলবার্তো (সিলভা) ট্রফি নিয়ে এসেছেন। এই প্রথম আমি বিশ্বকাপ ট্রফি সরাসরি দেখলাম, তাই আমার খুব ভালো লাগছে। আমি ভেবেছিলাম ট্রফিটা হয়তো ছোট হবে, কিন্তু এটা আসলে বেশ বড়।’
ট্রফির ওজন সম্পর্কে নিজের কৌতূহলের কথা জানিয়ে জামাল বলেন, ‘আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম এটার ওজন কেমন? জানলাম প্রায় ৭ কেজি পিওর গোল্ড। অভিজ্ঞতা সত্যিই খুব ভালো ছিল, আমি তো এক প্রকার স্টার-স্ট্রাক হয়ে গিয়েছিলাম।’ সাক্ষাৎকার চলাকালে জামাল আশা প্রকাশ করেন, এই ট্রফির উপস্থিতি বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে, ‘যারা ফুটবলার হতে চায় কিংবা কঠোর পরিশ্রম করছে, তাদের জন্য এই ট্রফি একটি মোটিভেশন। আশা করি, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে একদিন বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবলে নতুন কোনো অধ্যায় লিখতে পারবে।’
ব্যক্তিগত পছন্দের কথা বলতে গিয়ে শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করেন জামাল। বিশ্বকাপটি যে নিয়ে এসেছেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান তারকা গিলবার্তো সিলভা। ব্রাজিলের ভক্ত জামালের জন্য তা ছিল অন্যরকম ভালো লাগার, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলকে ফলো করি কারণ আমার প্রথম প্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন রোনালদো। গিলবার্তোর সামনেই বলছিলাম, বিশেষ করে ২০০২ সালের সেই দলটি আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করেছে। তখন আমার বয়স ছিল ১২ বছর। সেই দলে রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনহো এমনকি গিলবার্তো নিজেও ছিলেন।’ আসন্ন বিশ্বকাপে কোনো দলকে সমর্থন করবেন- এমন প্রশ্নে জামাল কিছুটা কৌশলী। ডেনমার্কে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার বলেন, ‘অবশ্যই আমি চাইব ডেনমার্ক জিতুক। তবে ডেনমার্ক যদি না পারে, তবে ট্রফিটা ব্রাজিলের হাতেই দেখতে চাই।’
এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশে এলো বিশ্বকাপ ট্রফি। গত ৩ জানুয়ারি সৌদি আরবের রিয়াদে ইতালিয়ান কিংবদন্তি আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরোর ট্রফি উন্মোচনের মাধ্যমে এই ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি সফরের যাত্রা শুরু হয়। ফিফা এবং কোকাণ্ডকোলার যৌথ আয়োজনে দীর্ঘ ১৫০ দিনের এই সফর বিশ্বের ৭৫টি স্থানে ৩০টি দেশ প্রদক্ষিণ করছে। আগামী ১১ জুন মেক্সিকোতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হবে এই বিশ্বভ্রমণ। এদিকে বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে এসে বাংলাদেশের আতিথেয়েতায় মুগ্ধ গিলবার্তো সিলভা। ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ী এই মিডফিল্ডার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসার অনুভূতি জানাতে গিয়ে এখানকার আবহ, আতিথেয়তা, বিশ্বকাপ ট্রফির আগমন এ দেশের নতুন প্রজন্মের ভাবনায় কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও বললেন অনেক কথা। জনপ্রিয় পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোকাণ্ডকোলার উদ্যোগে গতকাল বুধবার বাংলাদেশে এসেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি। ফিফার দূত হিসেবে ট্রফির সঙ্গে এসেছেন ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও কনফেডারেশন কাপ জয়ী সিলভা। বিশ্বকাপ ট্রফি বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশাবাদী তিনি। ‘বাংলাদেশে আসতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে, এখানে এটি আমার প্রথম সফর এবং উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। ফিফা, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং কোকাণ্ডকোলার পক্ষ থেকে আমাদের আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। এটি একটি চমৎকার মুহূর্ত। আমার মনে হয়, বিশ্বকাপের আসল ট্রফি বাংলাদেশে আসা এই আইকনিক ট্রফিটি নিয়ে আসা অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক একটি বিষয়।’
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ী এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘ফিফা এবং আমাদের জন্য এখানে আসা ট্রফি নিয়ে আসতে পারা আমাদের জন্য অনেক সম্মানের। আমি আশা করি, এটি তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় অংশ নিতে, বিশেষ করে আমাদের প্রিয় খেলা ফুটবল খেলতে অনুপ্রাণিত করবে।’
ক্লাব ক্যারিয়ারে আর্সেনালের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ জেতা সিলভা বর্তমানে ফিফার দূত। ৪৯ বছর বয়সী এই সাবেক মিডফিল্ডার বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছেন দুই যুগ আগে। তবে জানালেন, এই ট্রফি এখনও তাকে অনুপ্রাণিত করে। ‘আজ অবধি, যখনই আমি এই ট্রফিটি দেখার সুযোগ পাই এবং এখনকার মতো এতো কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়, এটি আমাকে অনুপ্রাণিত করে। এটি আমাকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে এবং যতটা সম্ভব ফুটবলকে উপভোগ করার অনুপ্রেরণা দেয়, পাশাপাশি এই সুন্দর খেলাটির দূত হিসেবে কাজ করার উৎসাহ দেয়।’
