শরিফুলের প্রথম পাঁচ

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

লাল সবুজের জাতীয় দলের অন্যতম সেরা পারফরমার শরিফুল ইসলাম। চলমান বিপিএলেও আলো কাড়ছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার ফের নিজের বোলিং স্কিল দেখালেন তিনি। এদিন হাসান ইসাখিলকে আউট করে নাচের স্কিলও বেশ দেখিয়ে দিলেন তিনি। দেখার মতো উদযাপনই বটে। ম্যাচে সেটি ছিল তার প্রথম উইকেট। ঘণ্টা দেড়েক পরে তিনি যেন উড়তে চাইলেন ডানা মেলে। ততক্ষণে তার নামের পাশে পাঁচ উইকেট। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই এবার বেশ ভালো বোলিং করছেন শরিফুল। আগের সাত ম্যাচের একটি ছাড়া সব ম্যাচেই দেখা পেয়েছেন উইকেটের। তবে পাঁচ উইকেট মানে তো সবসময়ই বিশেষ কিছু। টি-টোয়েন্টিতে পাঁচ উইকেট মানেও দারুণ কিছু। সেটি যদি হয় ক্যারিয়ারের প্রথম, তাহলে সেটি হয়ে ওঠে আরও স্পেশাল। শরিফুল পেলেন সেই অতুলনীয় স্বাদ।

বিপিএলের ঢাকা পর্বের প্রথম ম্যাচেই নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ৯ রানে ৫ উইকেট নেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের শরিফুল। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আগের ১৫১ ম্যাচে চার দফায় চার উইকেট নিয়েছেন শরিফুল। পাঁচ উইকেটের ছোঁয়া পেলেন তিনি প্রথমবার।

এই বোলিং পারফরম্যান্সে একটি রেকর্ডও হয়ে গেছে তার। বিপিএলে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম রানে ৫ উইকেট নেওয়ার নজির এটি।

২০২৪ সালে ১২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে আগের রেকর্ড ছিল আরেক বাঁহাতি পেসার আবু হায়দারের। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে বিপিএলে সবচেয়ে কম রানে ৫ উইকেটের রেকর্ড মোহাম্মাদ সামির। প্রথম বিপিএলে দুরন্ত রাজশাহীর হয়ে ৬ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন পাকিস্তানি পেসার। শরিফুল এ দিন উইকেট শিকার শুরু করেন ইসাখিলকে ফিরিয়ে। আগের ম্যাচে ৯২ রান করা ব্যাটসম্যান এবার ফেরেন ২৫ রানে।

প্রথম স্পেলে দুই ওভারে আট রান দিয়ে উইকেট ছিল ওই একটিই। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে ষোড়শ ওভারে টানা দুই বলে বিদায় করেন হাসান মাহমুদ ও মেহেদি হাসান রানাকে। ওভারে রান দেননি একটিও। এরপর আবার ১৯তম ওভারে তাকে আনা হয় আক্রমণে। সাব্বির হোসেন (২২) আউট হন এক্সট্রা কাভার সীমানায় ক্যাচ দিয়ে। একবল পর ইহসানউল্লাহকে বোল্ড করে আঙুল উঁচিয়ে ছুটতে থাকেন তিনি বাঁধনহারা দৌড়ে। নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের ইনিংসও গুটিয়ে দেন ২৪ বছর বয়সী পেসার। নিজের শেষ দুই ওভারে স্রেফ ১ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। নোয়াখালীর ইনিংস শেষ হয় ১২৬ রানে। ৮ ম্যাচে ১৮ উইকেট নিয়ে বিপিএলের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী এখন শরিফুলই।