পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে আশা শেষ রাহবার-মঈনদের

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

পঞ্চদশ মিনিটে চার জনের দলে পরিণত হলো পাকিস্তান, কিন্তু সুযোগটা নিতে পারল না বাংলাদেশ। উল্টো দুই মিনিট পর পিছিয়ে পড়ল দল। এরপর ব্যবধান দ্বিগুণ করে নিল পাকিস্তান। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় এক গোল ফিরিয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে হেরে গেল বাংলাদেশ।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককের ননথাবুরি হলে গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫-১ গোলের হারে সাফ ফুটসালের শিরোপা দৌড় থেকে ছিটকে পড়ল বাংলাদেশ। পাঁচ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট সাঈদ খোদারাহমির দলের। বাংলাদেশের বাকি আছে আর এক ম্যাচ। রাউন্ড রবিন লিগে গত শনিবার নেপালের মুখোমুখি হবে দল।

শিরোপা দৌড়ে এগিয়ে আছে মালদ্বীপ। চার ম্যাচের সবগুলো জিতে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে তারা। পাঁচ ম্যাচে পাকিস্তান ১০ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে। রাউন্ড রবিন লিগে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া দল হবে চ্যাম্পিয়ন। ভারতের বিপক্ষে ৪-৪ ড্র করে আসর শুরু করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে হারে ৬-১ গোলে। পরের দুই ম্যাচে যথাক্রমে ভুটানকে ৪-১ এবং শ্রীলঙ্কাকে ৫-১ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা বাংলাদেশ শুরু থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়ছিল চোখে চোখ রেখে। তৃতীয় মিনিটে পায়ের কারিকুরিতে একজনকে কাটিয়ে ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে মেরে হতাশ করেন রাহবার ওয়াহেদ খান। একটু পর ফয়সাল হোসেনের শট যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে। চতুর্থ মিনিটে কর্নারে পাকিস্তানের হামজা নুসরাতের ব্যাকহিল ফ্লিক হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট। একটু পরই পাকিস্তানের গোলকিপারকে একা পেয়েও দুর্বল শটে তার গায়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন রাহবার। খানিক পর জাফর খানের দূরপাল্লার শট ফিরিয়ে বাংলাদেশের ত্রাতা জাহিদ হাসান রাব্বী। আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা প্রথমার্ধের পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে চার জনের দলে পরিণত হয় পাকিস্তান। হামজার শট রাব্বীর গ্লাভস হয়ে উপরে উঠে যায়। দ্রুত ক্লিয়ার করতে শট নেন ফয়েজ আহমেদ, কিন্তু বলের সাথে সংযোগ ঠিকঠাক না হলে পরে হেডে বিপদমুক্ত করার চেষ্টা করেন তিনি, তখনই পাকিস্তানের আকিব ফায়সাল শট নিলে তার পা গিয়ে লাগে ফয়েজের থুতনিতে। মারাত্মক ফাউলের কারণে রেফারি তাকে দেন লালকার্ড। সপ্তদশ মিনিটে এগিয়ে যায় পাকিস্তানই। কর্নারে হামজাকে বল দিয়ে সার্কেলের দিকে ছুটে যান আলি আঘা। ফিরতি ব্যাক পাস নিখুঁত শটে জালে জড়িয়ে দেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের দশম মিনিটে বাংলাদেশ দ্বিতীয় গোল হজম করে কাজী ইব্রাহিম আহমেদের হাস্যকর ভুলে। নিজেদের সার্কেলের মধ্যে তালগোল পাকিয়ে তিনি বল হারান জাইদ উল্লাহ খানের কাছে। গোলমুখ থেকে টোকায় অনায়াসে জাল খুঁজে নেন জাইদ। ম্যাচের পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে ম্যাচে ফেরা গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। তাজওয়ার বিন কাশেমের ছোট পাস ঝাঁপিয়ে পড়া গোলকিপারের পাশ দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন ফায়েদ আজম। এরপর বাংলাদেশের জালে তিনবার বল জড়ায় পাকিস্তান। সালার আহমেদ খান, জাইদ ও আলি আঘার গোলে আশা শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের।