বিশ্বকাপ বর্জন করতে পারে পাকিস্তান

বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে : পিসিবি

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির মুখে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এতে শাহরুখ খানের দলকে প্রভাবিত করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। এ কারণে ভারতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। ফলে ভারত থেকে বাংলাদেশের বিশ্ব্কাপ ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার জন্য আইসিসির কাছে আবেদন জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি। কয়েক দফায় চিঠি চালাচালি শেষে আইসিসি জানায়, ভারতে অংশগ্রহণকারী কোনো দলের নিরাপত্তা শঙ্কায় নেই। তাই বাংলাদেশের ভেন্যু অপসারণের দাবি প্রত্যাখ্যান করে ভারতেই খেলার শর্ত দেয় বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা। বাংলাদেশও তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় সবশেষ তথ্য অনুযায়ী বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছে। এই পুরো সময়ে বাংলাদেশ পাশে পেয়েছে পাকিস্তানকে। গতকাল শনিবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বললেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া উচিত ছিল।

গত ২১ জানুয়ারি পূর্ণ সদস্য দেশের বোর্ড পরিচালকদের নিয়ে ভোটাভুটি হয়েছিল আইসিসির বৈঠকে। সেখানে পাকিস্তান বাদে অন্যরা বাংলাদেশের অবস্থানের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল। তারই ভিত্তিতে আইসিসি জানিয়ে দেয়, খেলতে হলে ভারতেই খেলতে হবে বাংলাদেশকে। কিন্তু তবুও বাংলাদেশ নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। সবশেষ তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডের নাম ঘোষণা করে আইসিসি। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহসিন বললেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বোর্ড সভাতেও একই কথা বলেছি। আপনার দ্বিমুখী নীতি থাকতে পারে না, যেখানে একটি দেশ যখন খুশি যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং অন্য একটি দেশের ক্ষেত্রে তার সম্পূর্ণ উল্টোটা করা হয়।’ বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থার এমন দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা জানান তিনি, ‘এ কারণেই আমরা এই অবস্থান নিয়েছি যে বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো মূল্যে তাদের বিশ্বকাপ খেলার অনুমতি দেওয়া উচিত। তারা (ক্রিকেটের) একটি প্রধান অংশীদার এবং এই অবিচার করা উচিত নয়।’

বিশ্বকাপ বয়কট করার সম্ভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে মহসিন বলেন, পাকিস্তান সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সরকার আমাদের যে নির্দেশনা দেবে, আমাদের অবস্থানও (বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে) সেটাই হবে। প্রধানমন্ত্রী এখন পাকিস্তানে নেই। তিনি ফিরলে আমি আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপনাদের জানাব। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। আমরা তাদের মানি, আইসিসিকে নয়।’

তিনি কি আইসিসিকে পাকিস্তান-ভারতের মতো বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একটি হাইব্রিড মডেলের প্রস্তাব দেবেন কিনা জিজ্ঞেস করলে নাকভির উত্তর, ‘বিষয়টা হলো, বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতোই একটি সদস্য। আর আমাদের অবস্থান হচ্ছে যদি আপনারা পাকিস্তান ও ভারতের ক্ষেত্রে এই সুবিধা দিয়ে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই কাজ করা উচিত। এর মূল কারণ হলো, কোনো দেশ আরেকটি দেশকে নির্দেশ দিতে পারে না। আর যদি এই ধরনের নির্দেশ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে পাকিস্তানের অবশ্যই নিজস্ব অবস্থান থাকবে।’ পাকিস্তানও যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়, সে ক্ষেত্রে ‘প্ল্যান বি’ আছে কিনা-এমন প্রশ্নে তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘আগে সিদ্ধান্তটা আসুক; আমাদের প্ল্যান এ, বি, সি, ডি—সবই আছে।’

এদিকে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে চূড়ান্তভাবে বাদ পড়েছে বাংলাদেশ। টাইগারদের জায়গায় খেলবে স্কটল্যান্ড। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে যাওয়া এই আসরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তার যবনিকা পড়ল আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে, জানিয়েছে ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সেই সময় পার হওয়ার পর গতকাল শনিবার কঠোর অবস্থানে যায় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের উত্তর-পশ্চিম ইউরোপীয় সহযোগী দেশ স্কটল্যান্ড যে বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছে, তার আভাস আগে থেকেই পাওয়া যাচ্ছিল। গতকাল শনিবার সকালে আইসিসি সিইও সঞ্জোগ গুপ্তা বোর্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, বিসিবির দাবিগুলো আইসিসির বিদ্যমান নীতির ‘সঙ্গে’ সংগতিপূর্ণ নয়। বোর্ড সদস্যদের কাছে পাঠানো চিঠিতে সঞ্জোগ গুপ্তা উল্লেখ করেন, বিসিবি আইসিসি বোর্ডের সিদ্ধান্ত পরিপালন না করায় বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না। আইসিসি বোর্ডের সদস্য হিসেবে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামকেও এই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।