দেশ ছাড়ার গুজব উড়িয়ে মিরপুরে কর্মব্যস্ত বুলবুল
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

এ মুহুর্তে কঠিন সময় পার করছে দেশের ক্রিকেট। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের। এনিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। তারমধ্যেই গুঞ্জন রটে মধ্যরাতে গোপনে দেশ ছেড়েছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ঝড় উঠে। রাতভর গুঞ্জন। গণমাধ্যমেও খবর প্রকাশ করা হয়েছে। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে গেছেন তা ফলাও করে প্রকাশ করা হয়। ওয়ান ওয়ে টিকিট কেটে, জাতীয় নির্বাচনের অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে, ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থেকে আমিনুল চলে গেছেন।
তবে গুজব উড়িয়ে গতকাল সোমবার সকালেই বিসিবি সভাপতিকে দেখা গেল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। তিনি সাত সকালে হাজির হয়ে কোচদের একটি ট্রেনিংয়ে যোগ দেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে চলে যান নিজের কার্যালয়ে। দেশ ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় বেশ বিরক্ত প্রতিক্রিয়াও দেখালেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, ‘আমার লোকেশন জানানো কি সত্যিই জরুরি ডু আই ওয়ার্ক অ্যাট দ্য বিসিবি আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে লোকের কেন এত আগ্রহ’ পরে বিসিবি মিডিয়া ব্লক থেকে মূল কার্যালয়ে যাওয়ার সময় সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কি মনে হচ্ছে, আমি কি দেশের বাইরে অনেক রকম (কথা) আসবে। অনেক কিছু হবে। আপনারা তো দেখছেন আমি কোথায় আছি।’ অথচ গত রোববার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একাধিক সূত্র রাতে নিশ্চিত করে আমিনুল ইসলাম দেশের বাইরে গেছেন। কেউ কেউ আবার কিছুই জানেন না জানিয়েছেন।
সরাসরি কেউই আমিনুলের দেশে থাকা কিংবা বাইরে যাওয়া নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি। আমিনুলের পরিবার অনেক বছর ধরেই থিতু মেলবোর্নে। বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পরও কয়েক দফায় মেলবোর্নে গিয়েছেন তিনি। সেখান থেকে অনলাইনে অফিসও করেছেন। আবার সেখানে গেলেও তাই প্রশ্ন বা বিস্ময়ের কিছু এমনিতে থাকার কথা নয়। তবে দেশের ক্রিকেটের চরম সংকটের মুহূর্তে তিনি চলে যাচ্ছেন বা জাতীয় নির্বাচনের আগে নাও ফিরতে পারেন, এমন গুঞ্জন ছড়িয়েই মূলত খবরটি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছিল।
গতকাল সোমবার বিসিবি ম্যাচ রেফারিদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য রেখেছেন বুলবুল। বিসিবির নিজস্ব বিভাগের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই কর্মসূচিটি পরিচালনা করছেন আম্পায়ার এডুকেশন কনসালটেন্ট সাইমন টাফেল। বুলবুল নিজেও গত রোববার জানিয়েছেন, ‘আমি আছি, আমি আপাতত অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছি না।’ কিন্তু মধ্যরাতে যখন এ খবর চাউর হতে শুরু করল, তখন একটা প্রশ্নের উদ্রেক ঘটল, আমিনুল ইসলাম বুলবুল গতকাল, গত পরশুই বলেছেন, আমি আপাতত অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছি না। কিন্তু হঠাৎ তিনি চলে গেলেন, ব্যাপারটা কেমন খাপছাড়া মনে হচ্ছে না তা নিয়ে অনেক গুঞ্জন, অনেক ডালপালা গজাল, গুজবটা আরও বড় হলো। ছোট গাছ থেকে বড় গাছে পরিণত হলো। এবং একটা ধারণার উদ্রেক ঘটল, যে আমিনুল ইসলাম বুলবুল কাউকে না বলে দেশ ত্যাগ করেছেন। এবং তার এই নীরব প্রস্থানকে কেন্দ্র করে নিয়ে অনেক প্রশ্ন জাগল।
হঠাৎ তিনি কেন দেশের ক্রিকেটের এই অশান্ত পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ খেলতে যেতে পারেনি বা যায়নি বাংলাদেশ, এই অবস্থায় তিনি দেশ ছাড়লেন কেন সাকিব ইস্যুতে নতুন সিদ্ধান্ত নেবার পর যেখানে তার বোর্ডের সাথে কথা বলে সবকিছু চূড়ান্ত করার কথা এবং সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাকিবকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজন, সেই সময়ে তিনি কেন দেশ ছেড়ে কেন দেশ ছেড়ে চলে গেলেন এই প্রশ্নটা সবার।
এই প্রশ্ন যখন সবার মনে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে, ঠিক তখনই জানা গেল, তিনি যাননি। বহাল তবিয়তে ঢাকাতেই অবস্থান করছেন। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের যে মিডিয়া বিল্ডিং আছে, তার পাশ দিয়ে হেঁটে মাঠে ঢুকলেন এবং কিছুক্ষণ মাঠকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে আবার বোর্ডে চলে গেলেন। এই গুঞ্জনের সত্যতা অসার প্রমাণ হলো, আমিনুল ইসলাম বুলবুলও বোর্ডে আছেন, সেই সত্যতার দেখা মিলল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- এই প্রোপাগান্ডা এবং আমিনুল ইসলাম বুলবুল চলে গেছেন, এই রটনার রটনাকারী কে বা কারা? বাংলাদেশের অনেক বার্তা সংস্থা, ওয়েবসাইট, অনলাইন, এমন কি দৈনিক পত্রিকাও এই গুঞ্জনের সত্যতা বের করতে না পেরে গুঞ্জন প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছিল।
উল্লেখ্য, আমিনুল ইসলামের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই মেলবোর্নে বসবাস করছে। বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি একাধিকবার সেখানে গেছেন এবং অনলাইনেও অফিস করেছেন। সে কারণে তার অস্ট্রেলিয়া যাওয়া নতুন কিছু নয়। তবে দেশের ক্রিকেট যখন চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে তিনি দেশ ছেড়েছেন কিংবা জাতীয় নির্বাচনের আগেই ফিরবেন না এমন গুঞ্জনের কারণেই বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়।
