বিশ্বকাপের মঞ্চে জায়গা পেল বাংলাদেশের মেয়েরা
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শুরু থেকেই অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছিল বাংলাদেশ। তাতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য থেকে সামান্য দুরে ছিল টাইগ্রেসরা। গতকাল বুধবার থাইল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের কাজটা আগেই সহজ করে রেখেছিল লাল সবুজের মেয়েরা। এরপর চোখ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি লড়াইয়ে। ফল যদি বাংলাদেশের পক্ষে আসে, তবে হাতে থাকা দুই ম্যাচ খেলতেই না নেমে নিশ্চিত হয়ে যাবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূলপর্ব। ঠিক সেটাই হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হেরে যাওয়ায় আগাম টিকিট কেটেই বিশ্বকাপের মঞ্চে উঠে গেল বাঘিনীরা। কির্তিপুরের থিভুবন ইউনিভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বৃষ্টি আইনে যুক্তরাষ্ট্রকে ২১ রানে হারায় নেদারল্যান্ডস। আগে ব্যাট করে যুক্তরাষ্ট্র ৭ উইকেটে তোলে ১২৯ রান। জবাবে ১২ ওভারে ২ উইকেটে ৯০ রান করার পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে তখন ডাচদের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৭০ রান। সেই লক্ষ্য ছাড়িয়ে তারা করে ফেলে আরও ২০ রান বেশি। ফলাফল, ২১ রানের জয়। এই জয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে বিশ্বকাপের মূলপর্ব নিশ্চিত হয় বাংলাদেশেরও।
এর আগে একই দিনে মূলপানিতে থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে দারুণ জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ নারী দল। টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৫ রান। নারী টি-টুয়েন্টিতে এটি বাংলাদেশের মেয়েদের চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। জবাব দিতে নেমে থাইল্যান্ডের দৌড় থেমেছে ১২৬ রানেই। সুপার সিক্সের টেবিলে বাংলাদেশের অবস্থান এখন সবার ওপরে। ৩ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিগারদের। নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে পাওয়া জয়ের পয়েন্ট এখানে যোগ হয়েছে। সুপার সিক্সে সুযোগ পাওয়া যে দলগুলো গ্রুপেও প্রতিপক্ষ ছিল, তারা এই রাউন্ডে একে অন্যের বিপক্ষে খেলবে না। যে কারণে সুপার সিক্সে একটা দল আসলে ম্যাচ খেলবে ৩টি, হিসাব হবে মোট ৫ ম্যাচের পয়েন্ট। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রানরেট (১.১৫০), তাদের চেয়ে ভালো রানরেট শুধু ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পাওয়া স্কটল্যান্ডের (১.৩৫৬)। সুপার সিক্সের সেরা চারটি দল সুযোগ পাবে এ বছর জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে হতে যাওয়া টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে।
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা অবশ্য ছিল বিশাল এক ধাক্কা খেয়ে। প্রথম বলেই ‘গোল্ডেন ডাক’ মেরে ফিরে যান ওপেনার দিলারা আক্তার। দ্রুত ফেরেন শারমিনও। তবে এরপরই হাল ধরেন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও সোবহানা মোস্তারি।
এই দুজনের ৮২ বলে ১১০ রানের জুটিই বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। জুয়াইরিয়া ৪৫ বলে ৪ ছক্কায় করেছেন ৫৬ রান। নারী টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে এটি কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ছক্কার যৌথ রেকর্ড। অন্য প্রান্তে সোবহানা ছিলেন আরও মারমুখী, ৪২ বলে ৫৯ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি। শেষ দিকে রিতু মনির ৬ বলে ১৫ রানের ‘ক্যামিও’তে স্কোরবোর্ডটা সমৃদ্ধ হয়। ব্যাট হাতে দিলারা প্রথম বলে আউট হলেও বল হাতে তার শোধ নিয়েছেন মারুফা আক্তার। ইনিংসের প্রথম বলেই থাই ওপেনারকে সাজঘরে পাঠান এই পেসার। এরপর থাইল্যান্ড আর সেই ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি। ১০ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৬১ রান তুললেও জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রানরেট কখনোই তাদের নাগালে ছিল না। শেষ ৫ ওভারে দরকার ছিল ৭৫ রান, যা অসম্ভবই ছিল তাদের জন্য। শেষ পর্যন্ত ১২৬ রানেই থামে থাইদের ইনিংস। মারুফা ২৫ রানে ৩টি এবং রিতু ও স্বর্ণা নেন ২টি করে উইকেট।
