বাছাইয়ে অপরাজিত জ্যোতিদের নজর এবার বিশ্বমঞ্চে

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শুরু থেকেই দারুন ছন্দে ছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। অপ্রতিরোধ্য গতিতে একের পর এক জয় তুলে নিয়েছে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। টানা পাঁচ জয়ে আগেই বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছিল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। গতকাল রোববার নেপালের মুলপানিতে নিজেদের শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ৭ উইকেটের উড়িয়ে বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টাইগ্রেসরা। এবার দুটি লক্ষ্য নিয়ে নেপালে গিয়েছিল বাংলাদেশ। পূরণ হয়েছে দুটিই। সেই সন্তুষ্টি আছে নিগার সুলতানার। তবে মূল পরীক্ষা তো বিশ্বমঞ্চে। বাছাইয়ে অপরাজিত থাকার পর এবার ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে ভালো কিছু করতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক।

গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচ জয়ের পর সুপার সিক্সে প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডকে হারিয়েই বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলে নিগার সুলতানার দল। জয় ধরা দিয়েছে পরের দুই ম্যাচেও। সাত ম্যাচের সবকটি জিতে অপরাজিত থেকে আসর শেষ করেছে তারা। গতকাল টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ে নেমেই ম্যাচের রাশ ধরে নেয় বাংলাদেশ। অফস্পিনার নাহিদা আক্তারের বিধ্বংসী স্পেল (৪ ওভারে ৩/১০) নেদারল্যান্ডসের ব্যাটিং লাইনআপকে প্রায় একাই ভেঙে দেয়। মাত্র ২৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ডাচরা, আট ওভারের মধ্যেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নাহিদা।

এরপর সানিয়া খুরানা ও রবিনে রেইকের দৃঢ় জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে নেদারল্যান্ডস। দু’জনে মিলে ৭৮ রানের জুটি গড়ে ইনিংসকে টেনে নেন শেষ ওভারের আগ পর্যন্ত। সানিয়া ৩৭ বলে অপরাজিত ৪৩ রান করেন, আর রবিনে ৪৫ বলে করেন ৩৯ রান। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে নেদারল্যান্ডসের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১০২ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনার হারালেও কোনো চাপে পড়েনি বাংলাদেশ। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারির ব্যাটে সহজ হয়ে যায় লক্ষ্য তাড়া। নিগার ৪৪ বলে অপরাজিত ৫০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন, আর সোবহানা ২৩ বলে অপরাজিত ৩৩ রানের ঝরঝরে ব্যাটিংয়ে জয় নিশ্চিত করেন। ১৬.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০৫ রান তুলে নেয় বাংলাদেশ।

শেষ ম্যাচ জয়ের পর উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়াই জানালেন অধিনায়ক নিগার। ‘নেপালে আসার আগে আমাদের দল হিসেবে লক্ষ্য ছিল প্রথমে কোয়ালিফাই নিশ্চিত করা। তারপর ব্যাক অব দ্য মাইন্ড এটা ছিল, আমরা এই টুর্নামেন্ট জিততে চাই, মানে অপরাজিত থাকতে চাই। আমরা এটা করতে পেরেছি। এখানে সম্পূর্ণ কৃতিত্ব মেয়েদের। মেয়েরা অসম্ভব ভালো খেলেছে টুর্নামেন্টজুড়ে। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে। যার যেটা ভূমিকা ছিল তা করার চেষ্টা করেছে।’

বাংলাদেশ দলের বড় দুর্ভাবনার জায়গা সবসময়ই ছিল ব্যাটিং। তবে এবারের আসরে ব্যাটারদের পারফরম্যান্স ছিল তুলনামূলক অনেক ভালো। সেটিই বাড়তি তৃপ্তি দিচ্ছে অধিনায়ককে। ‘সবসময় আমাদের ব্যাটারদের নিয়ে অনেক সময় কথা হয়, আমরা ধারাবাহিক না। কিন্তু এই টুর্নামেন্টে ব্যাটাররা বেশ ভালোভাবে ডমিনেট করেছে। বোলাররাও সঙ্গে সঙ্গে অবদান রেখেছে, যে যেখানে পেরেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, দল হিসেবে আমরা আগের চেয়ে অনেক ভালো করেছি, অনেক ধারাবাহিক ছিলাম, দাপুটে ক্রিকেট খেলেছি, এজন্য অনেক বেশি আনন্দিত।’ বাছাইয়ে ভালো করা বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। কিন্তু মূল বিশ্বকাপে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ার নজির আছে বারবারই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২৫ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের জয় মোটে ৩টি! সেই ২০১৪ সালে দেশের মাঠে জয় ধরা দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে আরেকটি জয়ের মুখ দেখতে পারে তারা ২০২৪ আসরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। তবে এই তিনটি জয় ছাড়া প্রায় সব ম্যাচেই তারা হেরে গেছে বড় ব্যবধানে।

এবারের বিশ্বকাপ আগামী জুন-জুলাইয়ে হবে ইংল্যান্ডে। কন্ডিশন যেখানে বাংলাদেশের জন্য হবে খুবই চ্যালেঞ্জিং। বিশ্বকাপেও এবার দারুণ কিছু উপহার দিতে চান নিগার। এজন্য প্রস্তুতি যেন ভালো হয়, সেই তাগিদ জানিয়ে রাখলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ‘এখন আমাদের লক্ষ্য সামনের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কীভাবে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারি। এজন্য প্রস্তুতিটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাইব যে, বিশ্বকাপের আগে আমরা যদি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে যেতে পারি কারণ, আগে আমরা যতগুলো টুর্নামেন্ট খেলেছি, নিজেদেরকে ওভাবে প্রস্তুত করতে পারিনি। আমরা শুধু লড়াই করার জন্য ইংল্যান্ডে যাব না। আমরা ওখানে ম্যাচ জিততে চাই এবং ইমপ্যাক্টফুল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেশের জন্য উপহার দিতে চাই। এজন্য দল হিসেবে এবং আমারও ব্যক্তিগতভাবে চাওয়া, যদি বিশ্বকাপের আগে যদি আমরা টি-টোয়েন্টিতে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্ট খেলতে পারি, যেমন কোনো ফ্রাঞ্চাইজি লিগ বা টুর্নামেন্ট আমার মনে হয় দলকে উজ্জীবিত করবে, আমাদের প্রস্তুতির জন্যও ভালো হবে।’