জোকোভিচকে গুঁড়িয়ে আলকারাজের ইতিহাস
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া ডেস্ক

নোভাক জোকোভিচের লক্ষ্য ছিল মার্গারেট কোর্টকে ছাড়িয়ে নারী-পুরুষ মিলিয়ে গ্র্যান্ড স্লাম জয়ে সর্বকালের সেরা হওয়ার। কিন্তু এবারও ইতিহাস গড়তে পারলেন না সার্বিয়ান মহাতারকা। তবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ইতিহাস গড়লেন র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর টেনিস তারকা কার্লোস আলকারাজ। জোকোভিচের অপেক্ষা বাড়িয়ে চূড়ায় উঠলেন এই তরুণ স্প্যানিশ। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ‘ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম’ জেতার রেকর্ড গড়লেন তিনি। স্থানীয় সময় গত শনিবার মেলবোর্ন পার্কের রড লেভার অ্যারেনায় পুরুষ এককের ফাইনালে চতুর্থ বাছাই জোকোভিচকে ৩-১ সেটে হারিয়েছেন আলকারাজ। এটি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে তার প্রথম ও সব মিলিয়ে সপ্তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা। প্রথম সেট ৬-২ গেমে হারের পর হাল না ছেড়ে অসাধারণ কায়দায় ঘুরে দাঁড়ান তিনি। পরের তিনটি সেট টানা জেতেন যথাক্রমে ৬-২, ৬-৩ ও ৭-৫ গেমে।
এর আগে দুটি করে উইম্বলডন, ফরাসি ওপেন ও ইউএস ওপেনজয়ী আলকারাজ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পূর্ণ করলেন একটি গুরুত্বপূর্ণ চক্র। মাত্র ২২ বছর বয়সেই ‘ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম’ জয়ের স্বাদ পেলেন তিনি। আলকারাজ ভেঙে দিলেন তার স্বদেশি কিংবদন্তি রাফায়েল নাদালের রেকর্ড। অবসরে যাওয়া নাদাল টেনিসের চারটি প্রধান শিরোপা অন্তত একবার করে জিতেছিলেন ২৪ বছর বয়সে। আলকারাজের জন্য স্মরণীয় দিনে ৩৮ বছর বয়সী জোকোভিচকে আরেকবার পুড়তে হলো আক্ষেপে। পুরুষ ও নারী একক মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২৫টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ড অধরাই রইল তার। ২০২৩ সালের ইউএস ওপেনের পর আর কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেননি জোকোভিচ। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েই কোর্টের ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের কীর্তিতে ভাগ বসিয়েছিলেন তিনি।
শুধু তা-ই নয়, অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালের এটি জোকোভিচের প্রথম হার। আগের ১০টি ফাইনালের সবকটিতেই তিনি শিরোপার হাসি হেসেছিলেন। অন্যদিকে, সপ্তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের মাধ্যমে আলকারাজ এখন জন ম্যাকেনরো ও ম্যাটস উইল্যান্ডারের সমকক্ষ হলেন। আন্দ্রে আগাসি, জিমি কনরস ও ইভান লেন্ডলের চেয়ে তিনি মাত্র একটি শিরোপা পিছিয়ে। সেমিফাইনালে দুজনকেই পাঁচ সেটের দীর্ঘ লড়াই করতে হয়, আলকারাজ খেলেছিলেন আলেকজান্ডার জেভেরেভের বিপক্ষে আর জোকোভিচ ইয়ানিক সিনারের বিপক্ষে। এমন শারীরিক ধকলের পর শতভাগ ফিটনেস ফিরে পাওয়াটাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তবে ফাইনালের মঞ্চে কারও মধ্যেই ক্লান্তির তেমন কোনো ছাপ দেখা যায়নি।
উড়ন্ত শুরু পাওয়া জোকোভিচ প্রথম সেট জিতে নেন মাত্র ৩৩ মিনিটে। দ্বিতীয় সেটে দেখা যায় বিপরীত ছবি। ঘুরে দাঁড়ানো আলকারাজ ৩৬ মিনিটে জিতে টানেন সমতা। তৃতীয় সেটে বেশ কিছু রোমাঞ্চকর র্যালি হয়। ৩-৫ গেমে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় বর্ষীয়ান জোকোভিচ চারটি সেট পয়েন্ট বাঁচান। কিন্তু ক্রমশ তার শক্তি ফুরিয়ে আসার ফায়দা নিয়ে ম্যাচের লাগাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেন আলকারাজ। চতুর্থ সেটের প্রথম সার্ভিস গেমেই ১১ মিনিটের এক মরণপণ লড়াইয়ে ছয়-ছয়টি ব্রেক পয়েন্ট বাঁচিয়ে ম্যাচে টিকে থাকেন জোকোভিচ। কিন্তু তাকে ক্রমাগত কোণঠাসা করে ফেলেন নাছোড়বান্দা আলকারাজ। শেষ পর্যন্ত চাপ ধরে রেখে নিশ্চিত করেন নিজের প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা। অথচ আগে কখনও মেলবোর্ন পার্কে কোয়ার্টার ফাইনালই পার হতে পারেননি আলকারাজ।
