ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে ক্ষতি ৬ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান একদম নিকটতম প্রতিবেশি। কিন্তু এই মুহূর্তে দেশটির মধ্যে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। আর মাত্র চারদিন পরে মাঠে গড়াচ্ছে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই আসর। কিন্তু তার আগে দুঃচিন্তায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি। ক্রিকেট পাগল জাতি হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না। কারণ উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির মুখে বাংলাদেশ নিজেদের ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলেছিল। কিন্তু সে দাবি না মেনে উল্টো বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়েছে। এতে বাণিজ্যিকভাবে ক্ষতি হবে আইসিসির। বিশ্বকাপে না খেলা বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ভারতে বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। তবে বৈশ্বিক আসরগুলোতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানে শুধু ক্রিকেট খেলা নয়, কোটি টাকার বাণিজ্য জড়িয়ে থাকে এ ম্যাচের থাকে। পাকিস্তান ম্যাচটি বর্জন করার ফলে সে বাণিজ্যে লাগছে বড় ধাক্কা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির দাবি, শুধু এই একটি ম্যাচ ঘিরেই জড়িয়ে আছে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বাজার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৬ হাজার ১২০ কোটি টাকারও বেশি! পুরো টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বাকি সব ম্যাচের মিলিত বাজারের চেয়েও এই এক ম্যাচের ওজন বেশি।

৬ হাজার ১২০ কোটি টাকার খেলা : ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মোট বাজারমূল্য কত, সুনির্দিষ্ট গাণিতিক হিসাব নেই। তবে সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপনের হার, স্পনসরশিপ, টিকিট এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড মিলিয়ে রক্ষণশীল হিসেবেও প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ হাজার ১২০ কোটি টাকার বেশি। এনডিটির প্রতিবেদন বলছে, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের প্রতি ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৪০ লাখ ভারতীয় রুপিতে।

কার কত ক্ষতি : ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ অনেক। সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান, আইসিসি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), দুই দেশের খেলোয়াড়ুকোচিং স্টাফ, সর্বোপরি ক্রিকেট খেলুড়ে সব দেশই।

সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান: ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে সরাসরি আঘাত পড়বে সম্প্রচার স্বত্ব কেনা প্রতিষ্ঠানের আয়ে। বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে তারা আইসিসি থেকে স্বত্ব কেনে। শুধু একটি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকেই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আনুমানিক ৩০০ কোটি রুপি ওঠে বলে ধারণা করা হয়। ম্যাচ না হওয়া মানে এই লাভটা তারা করতে পারবে না। বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী জিওস্টার আগেই লোকসানের কারণে আইসিসির কাছে অর্থ ফেরত চেয়েছে। এবার ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে যা আরও জোরালো হবে। বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের অভ্যন্তরীণ মূল্য ধরা হয় প্রায় ১৩৮.৭ কোটি রুপি।

সব দেশের আয়ে প্রভাব: সম্প্রচারকারীরা যখন অর্থফেরত চাইবে, চাপটা পড়বে আইসিসির ওপর। আর আইসিসির আয় কমে গেলে ধাক্কা যাবে সদস্যদেশগুলোর ওপরও। আরও স্পষ্ট করে বললে আইসিসির আয় কমে যাওয়ার অর্থ হলো ভারত ও পাকিস্তান ছাড়াও অন্য সদস্য দেশগুলোরও অনুদান কমে যাওয়া। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বে সহযোগী দেশ ও ছোট পূর্ণ সদস্যরা, যারা আইসিসির অনুদানের ওপর নির্ভরশীল।

ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষতি: ম্যাচ না হলে দুই দেশের বোর্ডই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০০ কোটি রুপি করে ক্ষতির মুখে পড়বে। বিসিসিআই আইসিসির আয়ের প্রায় ৩৮.৫ শতাংশ পায়। যদিও ভারতীয় বোর্ডের আয়ের বড় খাত হচ্ছে আইপিএল এবং নিজেদের দেশে আয়োজিত দ্বিপক্ষীয় সিরিজ। পাকিস্তান আইসিসির মোট আয়ের ৫.৭৫ শতাংশ পেয়ে থাকে, যা বছরে প্রায় ৩.৪৫ কোটি ডলার। অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে চুক্তি প্রতিপালন ও টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের মতো শর্ত থাকায় ভারত-ম্যাচ বর্জনের প্রভাব পড়তে পারে তাদের আয়ে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন বলছে, পাকিস্তান স্বেচ্ছায় ভারত ম্যাচ বর্জন করায় বিষয়টি ‘ফোর্স মাজিউর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির আওতায় পড়বে না। ফলে আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ নেই। ক্ষতিপূরণ ও জরিমানার দায়ভার পুরোপুরি বহন করতে হতে পারে। আইসিসির ‘মেম্বার পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ ভঙ্গের অভিযোগে টুর্নামেন্টের পাওনা অর্থ আটকে যাওয়া বা বড় অঙ্কের জরিমানার ঝুঁকিও আছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি অর্থের নয়, সুনামের।