রণজিৎ দাস আর নেই

প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

বয়স তাকে কাবু করে ফেলেছিল। কয়েক বছর ধরে কানে কথাও তেমন শুনতেন না। চলাফেরা ছিল সীমিত। বেশিরভাগ সময় সিলেট শহরে করের পাড়া বাসায় সময় কাটতেন। ৯৪ বছর বয়সে কাছের মানুষদের কাঁদিয়ে পরলোকে পাড়ি দিয়েছেন প্রখ্যাত ফুটবলার রনজিৎ দাস। সিলেটের একটি হাসপাতালে হৃদরোগে মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে, এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। সিলেট থেকে রঞ্জিত দাসের ছেলে রাজীব দাস সংবাদ মাধ্যমকে বাবার মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেছেন, ‘আমার বাবা ভোর ৪টার দিকে হার্ট অ্যাটাক করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই সকালে মারা যান।’

রাজীব আরও জানান, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৩১ জানুয়ারি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং পরে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। গত রোববার তিনি কিছুটা সুস্থ বোধ করলেও রাতে আবার হার্ট অ্যাটাক করেন। কাল সন্ধ্যায় সিলেটের তালিবন্দর শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। রঞ্জিত দাস ১৯৫৫-১৯৬১ সাল পর্যন্ত তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান ফুটবল দলের হয়ে সুনামের সঙ্গে খেলেছেন। এছাড়া গোলকিপার হিসেবে রঞ্জিত দাস বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে ইস্পাহানি ক্লাব, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। ফুটবলের পাশাপাশি হকিতেও ছিল সমান দাপট। তবে ফুটবলার পরিচিতিটা তাকে একটু বেশি সুনাম এনে দিয়েছে। পঞ্চাশের দশকে ফুটবল খেলার পর ঢাকায় হকি লিগে খেলেছেন ১৯৬৫-৭০ সাল পর্যন্ত। ফুটবলে আইএফএ শিল্ডে ত্রিপুরা একাদশ ও ঢাকা মোহামেডানের জার্সি পরার অভিজ্ঞতা আছে। কলকাতা মোহামেডানের হয়ে দিল্লিতে খেলেছেন ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট ডুরান্ড কাপে। ১৯৫৮ সালে রণজিৎ দাসের অধিনায়কত্বে ঢাকা ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব। হকিতে অধিনায়ক ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান দলে। ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের পর খেলেছেন সোনালী ব্যাংকে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সিলেট দলের অধিনায়ক ছিলেন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি পূর্ব পাকিস্তান যুব দল এবং আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।