এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিকস
০.০১ সেকেন্ডের জন্য ফাইনাল মিস ইমরানুর রহমানের
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিকসে ইতিহাস গড়ে ছিলেন ইমরানুর রহমান। ৬০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন তিনি। তবে পরের আসরে চতুর্থ হন বাংলাদেশের এই অ্যাথলেট। এবার সেমিফাইনালে উঠে আশা জাগিয়েও ফাইনালে উঠলতে পারলেন না বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান। গতকাল শুক্রবার চীনের তিয়ানজিনে ৬০ মিটার স্প্রিন্টের সেমিফাইনালে তিনটি হিট হয়েছিল। প্রতি হিটের প্রথম দুই জন ও তিন হিট মিলিয়ে সেরা দুই জন ফাইনালে উঠেছেন। ইমরান ৬.৭৫ টাইমিংয়ে নবম হয়ে ফাইনাল মিস করেন। চীনের জিনজিয়ান ৬.৭৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে সবশেষ অ্যাথলেট হিসাবে ফাইনাল নিশ্চিত করেন।
এদিন সকালে নিজের হিটে দ্বিতীয় হয়ে সেমিফাইনালে ওঠেছিলেন ইমরানুর। টাইমিং ছিল ৬.৭৩ সেকেন্ড। কিন্তু ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তার সময় লেগেছে ৬.৭৫ সেকেন্ড। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে শুধু ইমরানুরই অংশ নিয়েছেন। এশিয়ান ইনডোরের নিয়ম অনুযায়ী, তিন সেমিফাইনাল থেকে মোট আটজন ফাইনালের টিকিট হাতে পাবে। এর মধ্যে প্রতি সেমিফাইনালে শীর্ষ দুজন করে ছয়জন সরাসরি ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। সেমিফাইনালে অংশ নেওয়া বাকি প্রতিযোগীদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম হওয়া দুজনও পেয়েছে ফাইনালে দৌড়ানোর সুযোগ।
২০২৩ সালে এশিয়ান ইনডোরে ৬০ মিটার স্প্রিন্টে সোনা জিতে চমক দেখান ইমরানুর। প্রথম সেমিফাইনালে ইমরানুরের সঙ্গে আটজন অ্যাথলেট অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৬.৬৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম উত্তর কোরিয়ার কুম রিয়ং, ৬.৭৪ সেকেন্ডে দ্বিতীয় চীনের হে জিনশিয়ান। এই দুজনই সরাসরি ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন। ইমরানুরের সঙ্গে জিনশিয়ানের সময়ের পার্থক্য মাত্র ০.০১ সেকেন্ড।
ইমরানুরের খেলা শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন সংবাদমাধ্যমে একটি বার্তা পাঠিয়েছে। সেই বার্তায় ফাইনালে যেতে না পারার হতাশাই প্রকাশ করেছেন ইমরানুর, ‘দুভার্গ্যজনকভাবে আমি পরের রাউন্ডে যেতে পারিনি, এজন্য দুঃখিত। প্রায় দুই বছর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় না খেলার পরও আমি ইতিবাচক দিকটাই নিতে চাই। এবার অন্তত চোট পাইনি এবং সামনের প্রতিযোগিতাগুলোর জন্য নিজেকে গড়ে তুলতে পারব।
সবার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ।’
২০২৩ সালে কাজাখস্তানে এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিকসে ৬০ মিটার স্প্রিন্টে সোনা জিতে চমক দেখান ইমরানুর। সেবার তার সময় লেগেছিল ৬.৫৯ সেকেন্ড, যা ৬০ মিটারে তার ক্যারিয়ারসেরা টাইমিংও। অ্যাথলেটিকসে এশিয়ার শীর্ষ স্তরে যা বাংলাদেশের কোনো অ্যাথলেটের সর্বোচ্চ পদকও। ২০২৪ সালে ইরানের তেহরানে এশিয়ান ইনডোরে ৬০ মিটার স্প্রিন্টে চতুর্থ হন ইংল্যান্ডপ্রবাসী এই অ্যাথলেট। এশিয়ান ইনডোরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে তিনজন পদক জিতেছেন। ইমরানুর ছাড়াও রুপা আছে জহির রায়হানের, ব্রোঞ্জ মাহফুজুর রহমানের। ২০২৪ সালে ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে জহির ৪৮.১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হন। একই বছর হাই জাম্পে ২.১৫ মিটার লাফিয়ে তৃতীয় হন মাহফুজুর।
