সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ
ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

এই ফরম্যাটে আগের দুই আসরে একবারও হারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। একবার একক, আরেকবার যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন তারা। এবারও সাফল্যের পথে হাঁটতেছিল দলটি। একের পর এক জয়ে অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠেছিল আলাপি-অপির্তা-জয়নবরা। কিন্তু শেষটা রাঙাতে পারলেন না পিটার বাটলারের শিষ্যরা। নেপালের পোখারায় আক্ষেপের গল্প লিখল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দল। যে নেপাল ছিল বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য ‘পয়মন্ত’ হিসেবে পরিচিত, সেই নেপালেই গতকাল শনিবার ধরাশায়ী হতে হলো লাল-সবুজের মেয়েদের।
সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শিরোপা জিতেছে ভরত। কয়েক মাস ধরে ভারত-বাংলাদেশ ফুটবল লড়াইয়ে একক আধিপত্য ছিল বাংলাদেশের। নভেম্বরে পুরুষ ফুটবল এবং গত মাসে নারী ফুটসালে জয়ের পর এই সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলের লিগ পর্বেও জয় এসেছিল। কিন্তু ফাইনালের মঞ্চে এসে ফল পাল্টে দিয়েছে ভারতের মেয়েরা।
পোখারার এবড়োখেবড়ো মাঠে রক্ষণ ও গোলকিপারের ভুলই বাংলাদেশের হারের বড় কারণ। লিগ পর্বে ভারতকে ২-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা বাংলাদেশ ফাইনালে ছিল নিজেদের ছায়া হয়ে। ম্যাচে আধিপত্য ধরে রাখা দূরের কথা, রক্ষণের মারাত্মক সব ভুলে গোল হজম করতে হয়েছে একের পর এক। ম্যাচের অনেকটা নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে চলে যায় প্রথমার্ধেই।
বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে এবারই প্রথম ভারত এককভাবে এ ট্রফি জিতল। এর আগে দুই আসরে দুইবারই ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। ২০২১ সালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে ম্যাচ কমিশনারের সেই আলোচিত ‘টস কাণ্ডের’ পর দুই দলকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছিল সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ)।
অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরির আসর এই প্রথম আয়োজন করল নেপাল। হিমালয়ের দেশ থেকে ট্রফি নিয়ে ফিরতে উন্মুখ ছিলেন অপির্তা-আলপিরা। রাউন্ড রবিন লিগে নিজেদের জাল অক্ষত রেখে, প্রতিপক্ষের জালে ১৮ গোলের উৎসব তিন জয় পাওয়ার আত্মবিশ্বাস ছিল দলের সঙ্গী। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের শুরুটা হয় সাবধানী। রাউন্ড রবিন লিগে বাংলাদেশের কাছে একমাত্র হারের তেতো স্বাদ পাওয়া ভারতও ছিল সতর্ক। তাই জমে ওঠেনি ঢিমে তালে শুরু হওয়া ম্যাচ। দ্বিতীয় মিনিটে ভারতের ফরোয়ার্ড বলের নাগাল পাওয়ার আগেই পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে জোরাল শটে সম্ভাব্য বিপদ থেকে দলকে মুক্ত করেন ইয়ারজান। ষোড়শ মিনিটে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে আলবা দেবির সঙ্গে বক্সের বাইরে সংঘষ্ঠ হয় সুরভি আক্তার আফরিনের। আভিস্তা বাসনেতের ফ্রি কিক সরাসরি যায় ইয়ারজানের কাছে। ম্যাড়মেড়ে ম্যাচে প্রাণ ফিরে ৪২তম মিনিটে। বাম দিক থেকে আসা ক্রস ক্লিয়ার করতে পারেননি এতক্ষণ রক্ষণ জমাট রাখা অর্পিতাণ্ডজয়নব-সুরভিরা। দূরের পোস্টে ফাঁকায় থাকা প্রীতিকা বর্মন বল পেয়ে যান, কিন্তু তিনি নিজে শট না নিয়ে বাড়িয়ে দেন ঝুলান নঙ্গমাইথেমকে, সহজেই ইয়ারজানকে পরাস্ত করেন ভারত অধিনায়ক।
চলতি আসরে এই প্রথম গোল হজম করল বাংলাদেশ। পিছিয়ে থাকার অস্বস্তি নিয়ে বিরতিতে গেল দল। বিরতি থেকে ফিরে সমতাসূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। ৫২তম মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও যান তৃষ্ণা। সতীর্থের থ্রু পাস ধরে গোলকিপারকে একা পান তিনি, কিন্তু অভাবনীয়ভাবে বাইরে মারেন। এমন সুযোগ নষ্ট করে নিজের প্রতি অবিশ্বাসে মাথায় হাত দিয়ে বক্সেই বসে পড়েন তৃষ্ণা।
বাংলাদেশের পথচলা আরও কঠিন হয়ে যায় ৬২তম মিনিটে এলিজাবেথ লাকরার সফল স্পট কিকে। আক্রমণ ক্লিয়ার করতে ইয়ারজান পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে গেলেও বলের নাগাল পাননি। এরপর আলভা দেবি বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাওয়ার সময় প্রতিমা মুন্দার আলতো স্পর্শে বক্সে পড়ে গেলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ৮তম মিনিটের গোলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। অর্পিতার ব্যাক পাস ক্লিয়ার করার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছিলেন ইয়ারজান, কিন্তু তিনি করেন সময়ক্ষেপণ। পার্ল ফার্নান্দেসকে ছুটে আসতে থেকে পড়িমরি করে শট নেন ইয়ারজান, কিন্তু বল লাগে পার্লের গায়ে। সুযোগে পাওয়া বল আলতো টোকায় জালে জড়িয়ে দেন তিনি। ৮৩তম মিনিটে সতীর্থের কাটব্যাকে আনভিতা কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করলে নেপাল থেকে শিরোপা নিয়ে দেশের ফেরার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যায় পিটার জেমস বাটলারের দলের।
এই টুর্নামেন্টটি মূলত আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এএফসি নারী এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছিলেন কোচ পিটার বাটলার। যদিও সিনিয়র ফুটবলাররা নেই এই দলে। তবে ফাইনালের এমন হার কোচ এবং খেলোয়াড়দের জন্য বড় এক সতর্কবার্তা হয়েই থাকল। টুর্নামেন্টে দুটি হ্যাটট্রিকসহ ৭টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা বাংলাদেশের আলপি আক্তার। মুনকি আক্তার করেছেন ৪টি গোল।
