ভারতের বিপক্ষে খেলতে তিন শর্ত পাকিস্তানের
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। তাতে বড় ক্ষতির মুখে পড়ে নড়েচড়ে বসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। দেশটিকে বয়কট থেকে সরিয়ে আনতে পাকিস্তানে ছুটে গেছেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা। সেখানে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলামের সঙ্গেও কথা বলেছেন ইমরান। গত রোববার রাতে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময়ের বৈঠকে পাকিস্তান ভারত-ম্যাচ নিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য তিনটি শর্ত দিয়েছে বলে জানিয়েছে টেলিকম এশিয়া স্পোর্ট। সূত্রের বরাতে বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেয়াসহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট (আইসিসি) কাউন্সিলের কাছে তিনটি বড় দাবি জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট (পিসিবি) বোর্ড। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সূত্রে জানা গেছে, দাবিগুলো সামনে রেখে আইসিসির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় পিসিবি।
পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো আইসিসি-পিসিবি-বিসিবি বৈঠকের খবর দিলেও পাকিস্তানের দিক থেকে কোনো শর্ত দেওয়া হয়েছে কি না স্পষ্টভাবে জানায়নি। তবে জিও নিউজের খবরে বলা হয়, ভারত-ম্যাচ নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান জানতে এক-দুই দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দেখা করবেন পিসিবি চেয়ারম্যান। এরপর আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
ভারতের হিন্দুস্থান টাইমস টেলিকম এশিয়া স্পোর্টের বরাতে জানিয়েছে, ভারত-ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পিসিবি আইসিসিকে তিনটি শর্ত দিয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে লভ্যাংশের পরিমাণ বৃদ্ধি। বর্তমানে পাকিস্তান আইসিসি হতে যে অর্থ পায়, তা আরও বেশি পরিমাণে চায় তারা।
দ্বিতীয় শর্ত ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সিরিজ চালু। ২০১৩ সালের পর থেকে দুই দেশ কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজে খেলে না, আর সেটা ভারতের অনাগ্রহে। পাকিস্তান চায় দুই দেশ আবার সিরিজ খেলবে।
পিসিবির তৃতীয় শর্ত আচরণসংক্রান্ত। ২০২৫ এশিয়া কাপে ভারতের ক্রিকেটারদের পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌজন্যমূলক হাত মেলাননি। পাকিস্তান এ ধরনের আচরণ দেখতে চায় না বলে জানিয়েছে।
এ বিষয়ে টেলিকম এশিয়া স্পোর্টকে সূত্র বলেন, ‘বৈঠকে আইসিসির কাছে পিসিবি চেয়ারম্যান কিছু শর্ত তুলে ধরেন। যার মধ্যে আছে পাকিস্তানের বাৎসরিক বরাদ্দ বৃদ্ধি, ভারতের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ পুনরায় চালু এবং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে করমর্দন শুরু।’
এনডিটিভিও পাকিস্তানের দিক থেকে তিনটি শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে খবর দিয়েছে। তবে এই তিনটি শর্ত বাংলাদেশকেন্দ্রিক। সূত্র অনুযায়ী আইসিসি কর্মকর্তাদের পিসিবি বলেছে ১. টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না পারায় বাংলাদেশকে বর্ধিত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ২. বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ ফি প্রদান করতে হবে এবং ৩. ভবিষ্যতে একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব দিতে হবে।
তবে পিসিবি কর্তৃক দেওয়া, বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে- এই দাবির জবাবে আইসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশকে আলাদা কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সংস্থার আয়ের পূর্ণ অংশ বাংলাদেশকে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এ খবর জানিয়েছে এনডিটিভি। এদিকে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা পিসিবিকে পরামর্শ দিয়েছেন, তারা চাইলে বিষয়টি আইসিসির সালিশি কমিটির সামনে তুলতে পারে অথবা বোর্ড সভায় আলোচনা করতে পারে। একইসঙ্গে তিনি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান, কারণ এটি ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক নয়। পাকিস্তান সরকার আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, বাংলাদেশ ইস্যুতে সংহতি জানিয়ে তাদের দল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলবে না। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে নিজেদের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে আয়োজনের অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আইসিসি সেই প্রস্তাব নাকচ করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করায় দলটিকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এদিকে ভারত ম্যাচ বয়কটের বিষয়ে পিসিবি সরকারি নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে ‘ফোর্স মেজর’ ধারা প্রয়োগের চেষ্টা করেছে।
আইসিসি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে জানতে চেয়েছে, অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পিসিবি কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল। আইসিসি সতর্ক করেছে, নির্ধারিত ম্যাচটি না হলে টুর্নামেন্ট ও বাণিজ্যিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। সংস্থার সংবিধান অনুযায়ী গুরুতর দায়বদ্ধতা লঙ্ঘিত হলে সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। তবে পিসিবি মনে করছে, সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে ম্যাচ খেলতে না পারার বিষয়টি তাদের পক্ষে একটি শক্ত আইনি অবস্থান তৈরি করতে পারে। ফলে পুরো বিষয়টি এখন আইসিসি, সংশ্লিষ্ট বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
