ভোটের উৎসব ক্রীড়াঙ্গনেও
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ক্রীড়াবিদরা। ভোটের উৎসবে শামিল হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। প্রথমবার নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন দেশসেরা এ ওপেনার। গতকাল বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একটি বুথে ভোট প্রদান করেন তামিম।
তামিম ইকবাল তার ভাই ও সাবেক ক্রিকেটার নাফিস ইকবালকে সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে সেনাবাহিনীর বিশেষ প্রটোকলে কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সে সরাসরি বুথে গিয়ে তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তামিম ইকবাল উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, জীবনের প্রথম ভোট দিলাম। পরিবেশ খুবই ভালো লাগছে। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের ভেরিফাইড পেজে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা। ঢাকা-৯ আসনে দক্ষিণ বনশ্রী মডেল হাইস্কুলে ভোট দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও জাতীয় দলের বর্তমান ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। ভোট দেওয়ার ছবি আপলোড করে ফেসুবকে আশরাফুল লিখেছেন, ‘সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আজ ভোট দিলাম। দায়িত্ববোধ শেখানো শুরু ঘর থেকেই।’
রংপুরে নিজ এলাকায় প্রথমবার ভোট দিয়েছেন ২০২০ সালে আইসিসি যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলি। নিজ এলাকার মানুষদের সঙ্গে ভোট দেওয়ার ছবি আপলোড করেছেন তিনি। ছবির ক্যাপশনে আকবর লিখেছেন, ‘প্রথম ভোট।’ আকবরের মতো প্রথমবার ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান। নিজ এলাকা দৌলতপুরে ভোট দিয়েছেন তিনি। ভোট কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি ফেসবুকে দিয়েছেন সোহান। ছবির ক্যাপশনে সোহান লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, প্রথমবার ভোট দিলাম।’ জীবনের প্রথম ভোট দিয়ে আনন্দিত জাতীয় দলের ব্যাটার মাহমুদুল হাসান জয়। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘দিয়ে আসলাম, জীবনের প্রথম ভোট।’ ফেনিতে ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। ভোট দেওয়ার ছবি ফেসবুকে আপলোড করে সাইফুদ্দিন লিখেছেন, ‘অবশেষে ভোট দিলাম। যেখানে আমার শৈশব কেটেছে, মাটির গন্ধে বড় হওয়া সেই চেনা জায়গাতেই। এটা শুধু একটা ভোট নয়, এটা নিজের শিকড়কে ছুঁয়ে দেখার অনুভূতি, নিজের দায়িত্বকে অনুভব করার এক নীরব গর্ব। ছোটবেলার স্মৃতি, আজকের সিদ্ধান্ত- এই দুটো একসাথে মিলেই আজকের দিনটা আমার কাছে আলাদা।’ ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের হার্ডহিটার ব্যাটার সাব্বির রহমানও। ফেসবুকে এই ডান-হাতি ব্যাটার লিখেছেন, ‘আমার ভোটটা কিন্তু দিয়ে দিলাম।’
সবমিলিয়ে এবার সারা দেশে ভোটার রয়েছেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন। জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার শেখ মোরসালিন ভোট দিতে নিজ জেলা ফরিদপুরে গেছেন। ফরিদপুর-৪ আসনের ভোটার মোরসালিনের ভোট কেন্দ্র ছিল আদর্শ মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়। মোরসালিন উৎসবমুখর পরিবেশই দেখেছেন, ‘বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছি। তেমন সময় লাগেনি ভোট দিতে।’ যুব হকি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা আমিরুল ইসলামও ফরিদপুরের ভোটার। তিনিও প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছেন। তার অবশ্য আসন ফরিদপুর-৩। এশিয়ান গেমসের বাছাইয়ের জন্য জাতীয় হকি দলের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। খেলোয়াড়, কোচরা যেন ভোট দিতে পারেন এজন্য ক্যাম্প ছুটি দিয়েছে ফেডারেশন।
হকি খেলোয়াড়রা ভোট দেয়ার সুযোগ পেলেও ঋতুপর্ণারা পারেননি। নারী ফুটবল লিগে আজ শেষ রাউন্ডের ম্যাচ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিপক্ষে ড্র করলেই ঋতুপর্ণাদের রাজশাহী চ্যাম্পিয়ন হবে। তাই নারী ফুটবলাররা প্রায় সবাই ক্যাম্পে থাকায় ভোট দিতে পারেননি। জাতীয় দল ও লিগের বাইরে থাকায় সাবিনা, মাসুরারা অবশ্য ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন। জাতীয় মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়ন নোশিন আঞ্জুম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীর এবারই প্রথম ভোট দিয়েছেন। খিলগাওয়ের বাসিন্দা নোশিনের ভোট কেন্দ্র খিলগাও মডেল স্কুল। গতকাল দুপুরের দিকে ভোট দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন এভাবে, ‘প্রথম সব কিছুই একটি ভিন্ন অনুভূতি। জাতীয় নির্বাচনে প্রথম ভোট দিয়েছি তাই একটু রোমাঞ্চিত।’
বাংলাদেশের হকির সূতিকাগার পুরান ঢাকার আরমানিটোলা স্কুল। বর্তমান ও সাবেক হকি খেলোয়াড়দের অনেকের ভোট কেন্দ্রও আরমানিটোলা স্কুল। সাবেক তারকা হকি খেলোয়াড় রফিকুল ইসলাম কামাল বলেন, ‘আমি, নাইম, হাবুলসহ হকির অনেকেরই ভোট কেন্দ্র আরমানিটোলা স্কুল। সুন্দর পরিবেশেই ভোট দিতে পেরেছি।’ সাবেক তারকা ফুটবলার ও মোহামেডানের ফুটবল দলের ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব ভোট দিয়েছেন বাড্ডায়। বিগত সময়ের চেয়ে এবার ভোট তার কাছে ভিন্নতা লেগেছে, ‘মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট প্রদান করছে। সবার মধ্যেই উৎসবের আমেজ। আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যে নির্বিঘ্নে ভোট প্রদান করেছি।’
