স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গেরো খুলল ইংল্যান্ড

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

টি-টোয়েন্টিতে স্কটল্যান্ড কেমন প্রতিপক্ষ তা জানার এর আগে সুযোগই হয়নি ইংল্যান্ডের। শুধু তাই নয়, কুড়ি ওভারের এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে একই মহাদেশের (ইউরোপ) কোনো দলের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ ছিল না ইংল্যান্ডের। ২০০৯ সালের আসরে লর্ডসে নেদারল্যান্ডসের কাছে হার দিয়ে শুরু হওয়া সেই ব্যর্থতার যাত্রার অবসান ঘটল দীর্ঘ ১৭ বছর পর। ২০২৪ সালে স্কটল্যান্ডর মুখোমুখি হয়েছিল। বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল সেই ম্যাচ। দুই বছর পর আবার তারা মুখোমুখি বিশ্বকাপের মঞ্চে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে। এবারআর হতাশা নয়। স্কটল্যান্ডকে অনায়াসে হারিয়ে অবশেষে সেই গেরো খুলল ইংলিশরা। বল হাতে আদিল রশিদ আর ব্যাট হাতে টম ব্যান্টনের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে জয় তুলে নিল তারা। গতকাল শনিবার ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে ৫ উইকেটে জিতেছে ইংলিশরা। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে হারের দুয়ার থেকে ফেরে ইংল্যান্ড। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হেরেই বসে তারা। স্কটল্যান্ডের সঙ্গে জয়টা তাই খুব গুরুত্বপূর্ণ দলটির জন্য।

এদিন স্কটিশদের ১৫২ রান ১০ বল বাকি থাকতেই পেরিয়ে গেছে তারা। এবারই প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলছেন ২০১৯ সালে এই সংস্করণে অভিষিক্ত ব্যান্টন। আসরে প্রথম দুই ম্যাচেই ২ করে রান করেন তিনি। ব্যর্থতার বল ভেঙে স্কটিশদের বিপক্ষে তিনটি ছক্কা ও চারটি চারে ৪১ বলে খেলেন অপরাজিত ৬৩ রানের ইনিংস। দেশের হয়ে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ফিফটিতে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন ২৭ বছর বয়সী ব্যান্টন। তিন উইকেট নিয়ে লেগ স্পিনার আদিল রাশিদ এবং দুটি করে শিকার ধরা জফ্রা আর্চার ও লিয়াম ডসন ইংলিশদের জয়ে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ইডেন গার্ডেন্সে শেষের মতো ম্যাচের শুরুটাও ভালো ছিল ইংল্যান্ডের। তৃতীয় ওভারে জোড়া শিকার ধরেন আর্চার। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে টানা দুই চার ও এক ছক্কা হজমের এক বল পর মাইকেল জোন্সকে বিদায় করেন স্যাম কারান। এরপরই আসে ম্যাচের সবচেয়ে বড় ৭১ রানের জুটি। ৪২ রানে ৩ উইকেট হারানো দলের রান ১০০ পার করেন টম ব্রুস ও রিচি বেরিংটন। নবম ওভারে রাশিদকে একটি করে চার ও ছক্কা মারেন বেরিংটন, শেষ বলে ছক্কায় ওড়ান ব্রুস। দলের রানের গতিতে দম দেন অধিনায়ক বেরিংটন। দশম ওভারে ডসনকে টানা দুই চার মারেন তিনি। পরপর দুই ওভারে ব্রুস ও বেরিংটনকে হারায় স্কটিশরা। একটি করে ছক্কা-চারে ২৪ রান করেন ব্রুস, দুই ছক্ক ও পাঁচ চারে ৪৯ রান করেন বেরিংটন। এরপর একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে স্কটল্যান্ড। শেষ দিকে অলিভার ডেভিডসনের অপরাজিত ২০ রানের ইনিংসে ১৫০ ছাড়ায় দলটির রান। ৩৯ রানে শেষ ৭ উইকেট হারায় তারা। রান তাড়ায় তৃতীয় বলেই ফিল সল্টকে হারায় ইংল্যান্ড। পরের ওভারে ড্রেসিং রুমের পথ জস বাটলারও। ১৩ রানে ২ উইকেট হারানো দলকে পথে রাখেন ব্যান্টন ও জেকব বেথেল। ৪৫ বলে ৬৬ রানের জুটি গড়েন তারা। প্রথম ১০ বলে ৭ রান করা বেথেল পঞ্চম ওভারে ম্যাকমুলেনকে ছক্কার পর টানা দুই চার মারেন। শুরুতে কিছুটা মন্থর ছিলেন ব্যান্টনও। প্রথম ১০ বলে ৬ রান করা ব্যাটসম্যান বাউন্ডারির দেখা পান সপ্তম ওভারে। খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসা ব্যান্টন পরে মার্ক ওয়াটের ওভারে তিনটি ছক্কা হাঁকান। দুই ওভারে দল দুই উইকেট হারালে ফের ধীরলয়ে এগোনোর পথে হাঁটেন তিনি। ডেভিডসনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩২ রান করা বেথেল। মাইকেল লিস্ক টিকতে দেননি হ্যারি ব্রুককে। কারানকে নিয়ে দলকে লক্ষ্যের পথে এগিয়ে নেন ব্যান্টন।