সাকিব-মাশরাফিকে দেশের সম্পদ বললেন ইশরাক

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদ সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের

সাবেক দুই অধিনায়ক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অনেক আগেই সরে গিয়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে শুধু খেলে যাচ্ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে জনসম্মুখে নেই সাবেক এই সংসদ সদস্য। জুলাই অভ্যুথানের পর এই দুই ক্রিড়াবিদের নামে হয়েছে একাধিক মামলা। তবে সাকিব ও মাশরাফির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা ‘বিশ্বাসযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দু’জনই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সম্পদ; তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন আছে।

সাক্ষাৎকারে ইশরাক বলেন, তারা ক্রিকেটার, তাও যেন তেন ক্রিকেটার না বাংলাদেশ ক্রিকেটের সম্পদ। আমি বিষয়টি ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচনা করছি। জনগণ এই বিষয়ে তাদের জবাব এর মধ্যেই একপ্রকার দিয়ে দিয়েছে, সমাজও দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যে গণহত্যার মামলা, সেটা আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। আমার কাছে মনে হয় না তারা নির্দেশ দিয়ে কাউকে হত্যা করেছে বা বন্দুক হাতে তুলে নিয়ে কাউকে হত্যা করেছে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, খুনের অভিযোগকে তিনি রাজনৈতিক বা অতিরঞ্জিত হিসেবে দেখছেন। তবে একই সঙ্গে অন্য অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ইশরাক বলেন, যদি তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। অর্থাৎ, ফৌজদারি অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আগেই অবসর নিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাননি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি আত্মগোপনে আছেন বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়।

অন্যদিকে সাকিব আল হাসান দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি দেশের জার্সিতে খেলেই বিদায় নিতে চান এমন ইচ্ছার কথা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। সেই বক্তব্যের পরই তার জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকেও সাকিবের খেলায় ফেরাকে রাজনৈতিক ইস্যু না করার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সেটা (সাকিবের জাতীয় দলে খেলা) তার ফর্মের ওপর নির্ভর করবে। আমি কখনোই খেলাধুলার মধ্যে রাজনীতিকে আনতে চাইনি। যে যোগ্য, সে অবশ্যই খেলবে। এদিকে চলমান বিশ্বকাপ শেষে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। গুঞ্জন ছিল, ওই সিরিজে অংশ নিতে ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরবেন সাকিব। তবে তিনি নিজেই জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট ওই তারিখে দেশে ফিরছেন না।

সাক্ষাৎকারে বিসিবি ও পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে নিয়েও কথা বলেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি বলছি না যে, সবকিছু পরিবর্তন করে ফেলতে হবে। কিন্তু আমাদের সমস্যাগুলো তো চিহ্নিত করা গিয়েছে। এখন সেগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা এমন প্রোগ্রাম চালু করতে চাই, যেখানে ট্যালেন্ট হান্টের মাধ্যমে প্রতিভাবান ক্রিকেটাররা উঠে আসবে। তাদের আমরা পেশাদার ক্রিকেটে নিয়ে আসবো।’ বিগত এক বছরে ক্রিকেট নিয়ে বেশ সঞ্চার ছিলেন সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ক্রিকেট ইস্যুতে কী কী পদক্ষেপ নিতে চান প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ডেমোক্রেটিক প্রসেসের মাধ্যমে আমরা সকল কিছু করতে চাই। একজন ক্লাবের কাউন্সিলর হিসেবে আমি বোর্ডের সঙ্গে বসে কথা বলবো। তাদের পরিকল্পনা জানব।’ এদিকে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার কথা জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘সরকারের তখনকার যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা যিনি ছিলেন, তিনি এবং তারা একটি রাজনীতি শুরু করেন। তারা সারা বাংলাদেশে মহা দুর্নীতি ও বাণিজ্য শুরু করেন। সেই সঙ্গে নিজেদের সিন্ডিকেট বসানোর চেষ্টাও চালায়। এমন সময় তো আর বসা থাকা যায় না। আমিও তো একজন কাউন্সিলর। এর মাঝে তাদের কেউ একজন আমার নাম দিয়ে বলে, আমি নাকি বোর্ডে আসতে চাই। কিন্তু আমার তো বোর্ডের আসার কোনো ইচ্ছাই নাই। আমি তো ফুলটাইম রাজনীতি করব। আমি চাই, যারা ফুলটাইম ক্রীড়া সংগঠক তারাই আসুক। আর আমরা তাদের সহযোগিতা করব।’ বর্তমান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কার্যকলাপ নিয়ে কিছু বলার আছে কি না প্রশ্নে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এম নাজমুল ইসলাম আমাদের দেশ ও জাতিকে অপমানিত করেছেন। এ ধরণের বিষয়ে আমরা কোনো ছাড় দেব না। উনি ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় এবং কীভাবে উঠে এসেছেন, এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। এই বিষয়গুলো সামনে উঠে আসবে। এ বিষয়ে তো ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের দেশের আত্মমর্যাদার বিষয়ে ছাড় দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।’