‘আমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনগুলো ঠিক করে দিন’
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
সরকার যায় সরকার আসে, কিন্তু সাধারণ মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয় না। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাস দেশ পরিচালনা করেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নিয়েছে গত মঙ্গলবার। নতুন সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের। তাদের একজন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তিনি জানালেন নতুন সরকারের কাছে তার প্রত্যাশার কথা। গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের পেইজে এক পোস্টে দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সংকট নিয়ে কথা বলেছেন জ্যোতি। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, রাজনীতি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয়, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণকে অগ্রাধিকার দিতে।
ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে জ্যোতি প্রশ্ন তোলেন, ‘পদ ও ক্ষমতা নিয়ে এত লড়াই কেন? এসব কি মানুষের সেবা আর দেশের কল্যাণের জন্য হওয়ার কথা নয়? কিন্তু বাস্তবে আমরা কেমন আছি?’ সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগের এক বাস্তবচিত্র তুলে ধরেন অধিনায়ক। অতিরিক্ত রোগীর চাপ ও জনবল সংকটে ভোগা হাসপাতাল, ঝুঁকিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত সড়কব্যবস্থা এবং বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবতী নারীদের দুর্ভোগের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
জ্যোতি বলেন, ‘আমরা এই দেশের মানুষ খুবই সরল। আমাদের মৌলিক চাহিদাগুলো নিশ্চিত করলেই আমরা কোনো প্রশ্ন করব না। শিক্ষা, চিকিৎসা, ভালো রাস্তা, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, এগুলোই তো সহজ হিসাব।’ তিনি একটি হাসপাতালের উদাহরণ দিয়ে লেখেন, যেখানে দেড় হাজার শয্যার বিপরীতে পাঁচ হাজারেরও বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন, অথচ চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা হাতে গোনা। ‘এ অবস্থায় কেউ কীভাবে সঠিক চিকিৎসা পাবে? মাথাব্যথা হলে তো ভুলেই যান,’ মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের অবকাঠামোর দুরবস্থাও তুলে ধরেন জ্যোতি। তার ভাষায়, ‘আমরা যে রাস্তাগুলো দিয়ে চলাচল করি (কিছু দূরপাল্লার মহাসড়ক ছাড়া) সেগুলো এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে সুস্থ মানুষও আহত হতে পারে। সেখানে বয়স্ক, অসুস্থ বা গর্ভবতী নারীদের অবস্থা কী ভাবাই যায় না, আল্লাহই জানেন। অথচ এসব নিয়ে কেউ কথা বলে না।’ পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘আমরা সত্যিই খুব সরল মানুষ। খুব সহজেই খুশি হয়ে যাই। আমাদের জন্য খুব বেশি কিছু করার দরকার নেই-শুধু দৈনন্দিন প্রয়োজনগুলো ঠিক করে দিন, তারপর যা খুশি করুন, কেউ প্রশ্ন করবে না।’
