ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন শুটার কলি

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

দেশের অন্যতম সেরা ও মেধাবী শুটার কামরুন নাহার কলি। চলতি বছরের শুরুতে শুটিং ফেডারেশনের নানান অনিয়মের প্রতিবাদ করে আলোচনায় আসেন তিনি। এ কারণে প্রথমে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছিল বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন। এরপর শৃঙ্খলাভঙ্গসহ নানান কারণ দেখিয়ে শুটিং থেকে কলিকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে ফেডারেশন। ফলে আগামী এক বছর ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলতে পারবেন না কলি। এই বহিষ্কারাদেশে আটকে গেছে শুটার কামরুন নাহার কলির সব স্বপ্ন। ফেডারেশনের অযাচিত এই শাস্তির বিরুদ্ধে এবার ক্রীড়া অভিভাবকদের হস্তক্ষেপ চাইলেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক দৌলতুজ্জামান খানের কাছে লেখা চিঠিতে সমস্যা সমাধানে তাদের হস্তক্ষেপ চাইলেন কামরুন নাহার।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিনিধিত্ব করে আসা শুটার কামরুন নাহার বিশ্বকাপ শুটিংয়ে বাংলাদেশের একমাত্র ফাইনালিস্ট। বর্তমানে অলিম্পিক বৃত্তি পাওয় খেলোয়াড় হিসেবেও তিনি দেশের ক্রীড়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন। কিন্তু ঠিক এই সময়েই এক বছরের বহিষ্কারাদেশ তার ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের কিছু অনিয়ম, দুর্নীতি এবং কর্মকর্তা জিএম হায়দার সাজ্জাদের যৌন হয়রানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন এই শুটার। তার অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও পরিস্থিতি উল্টো দিকে মোড় নেয়। কামরুন নাহারের দাবি, সত্য প্রকাশ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই ফেডারেশন তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেয়। প্রথমে সাময়িক এবং পরে এক বছরের জন্য তাকে জাতীয় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়,যা তিনি সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিক বলে দাবি করেছেন।

সামনেই এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস এবং অলিম্পিক গেমসের কোটা অর্জনের লড়াই রয়েছে। এসব প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির জন্য জাতীয় দলের ক্যাম্পে অংশ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আগের দিন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভায় আসেননি শুটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌস। তাই সভা বাতিল হয়েছে। তাই এবার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে জাতীয় দলের অনুশীলনে ফেরার জন্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দ্বারস্ত হয়ে চিঠি দিয়েছেন তিনি। এখন দেখার বিষয়, সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপে এই সংকটের সমাধান হয় কি না, নাকি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় এক শুটারের পথ আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য থমকে থাকে।