অবকাঠামো নয়, উন্মুক্ত মাঠকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

* আমরা খেলাধূলাকে তৃণমূল থেকে জনপ্রিয় করে তুলতে চাই। অবকাঠামো নয়, আমরা খেলার মাঠকে গুরুত্ব দিচ্ছি। যাতে জেলা পর্যায়ে শিশু-কিশোররা খেলার পরিবেশ পায়। * প্রত্যেক খেলোয়াড় যেন পেশাদারভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, সেই পরিবেশ আমরা তৈরি করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন এবং মন্ত্রণালয় কাজ করছে খেলোয়াড়দের জন্য বেতন কাঠামো তৈরি করতে। * প্রায় সব বাবা-মা চান তাদের সন্তান ডাক্তার, প্রকৌশলী বা ব্যারিস্টার হোক, কিন্তু খুব কম কম মানুষই চান সন্তান ক্রীড়াবিদ হোক। আমি সেই মানসিকতা বদলাতে চাই।

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলাধূলাকে তৃণমূল থেকে জনপ্রিয় করে তুলতে অবকাঠামো নয়, উন্মুক্ত মাঠকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। গতকাল রোববার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সভাকক্ষে ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ মন্তব্য করেন তিনি। জাতীয় দলের সাবেক গোলকিপার জানান দেশের সকল স্কুলে চতুর্থ শ্রেণী থেকে খেলাধূলা বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া জাতীয় ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোতে আনা হবে। একইসঙ্গে ক্রীড়া সাংবাদিকদের কাছ থেকে ক্রীড়াঙ্গনের সংকটের বিষয়গুলো শুনেছেন এবং সমাধানের পরামর্শও নিয়েছেন তিনি। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বাজেট অত্যন্ত সীমিত। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে খুবই স্বল্প অনুদান দেয়। যা দিয়ে জেলায় সকল খেলা পরিচালনা করা সম্ভবও নয়। তাই সাংবাদিকরা জেলা পর্যায়ে বাজেট বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। জেলা-বিভাগে স্টেডিয়াম থাকলেও সেটা ব্যবহার অনুপযোগী। অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণও গুরুত্বারোপ করেন অনেকে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার পাশাপাশি মহিলা জেলা ক্রীড়া সংস্থাও রয়েছে প্রতি জেলায়। মহিলা ক্রীড়া সংস্থা জš§ থেকেই অ্যাডহক কমিটি দ্বারা পরিচালিত। মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়, বাজেট সব কিছুতেই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থায় গঠনতন্ত্র সংস্কার করেও নির্বাচনের প্রস্তাব দেন সাংবাদিকরা।

তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের মতামত ও বক্তব্য শুনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খেলাধূলাকে তৃণমূল থেকে জনপ্রিয় করে তুলতে চাই। অবকাঠামো নয়, আমরা খেলার মাঠকে গুরুত্ব দিচ্ছি। যাতে জেলা পর্যায়ে শিশু-কিশোররা খেলার পরিবেশ পায়।’ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর অলিম্পিক। অলিম্পিকে পদক বাংলাদেশের কাছে এখনো স্বপ্ন। তাই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাফ, এশিয়ান ধাপে ধাপে এগুতে চান। কোন খেলাগুলোকে আন্তর্জাতিক বিবেচনায় গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান। অনেক সাংবাদিক দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে শুটিং, আর্চারির নাম উচ্চারণ করেছেন। এরপর তৃতীয় নামটি এসেছে হকির। অনেক দিন থেকেই ক্রীড়াঙ্গনের সবাই শুনে আসছে হকির অনেক সম্ভাবনা কিন্তু হকির সংগঠকদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলও সমস্যা। এটাও সাংবাদিকরা তুলে ধরেছেন ক্রীড়া মন্ত্রীর কাছে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অধিভুক্ত ফেডারেশন-অ্যাসোসিয়েশনের সংখ্যা ৫২। এত সংখ্যক ফেডারেশনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাংবাদিকরা বিগত এক যুগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে অগ্রাধিকার তালিকা করার পরামর্শ দেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে একটি মূল্যায়ন কমিটি করার মতামতও দেয়া হয়েছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী স্কুল পর্যায়ে পাঁচটি খেলা বাধ্যতামূলক করতে চায়। দুই জনপ্রিয় খেলা ফুটবল, ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্য তিন খেলা কোনটি হতে পারে এ নিয়ে সাংবাদিকদের মতামত চান। সাংবাদিকরা কারাতে, দাবা, হ্যান্ডবল, অ্যাথলেটিক্সকে অর্ন্তভূক্ত করার ব্যাপারে পরামর্শ দেন। ক্রীড়াঙ্গনের আতুড়ঘর বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। এই প্রতিষ্ঠান থেকে যে মানের ক্রীড়াবিদ আসার দরকার সেটা আসে না, কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও কোনো জবাবদিহিতা নেই। স্টেডিয়ামে দোকানের ভাড়া কম, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ রাজস্ব পায় না। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ফেডারেশনগুলোর অভিভাবক কিন্তু এখানে ক্রীড়াঙ্গনের কেউ সম্পৃক্ত পরিচালক পদে নয় ফলে একটা দূরত্ব বা সমন্বয়হীনতা থাকে। এ রকম আরো অনেক সমস্যা সাংবাদিকরা তুলে ধরেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সকল সমস্যার সমাধানই করতে চান ধীরে ধীরে, ‘আমরা আপনাদের প্রস্তাব, মতামতগুলো শুনেছি। এটা আজ শুনলাম শেষ না, এখান থেকে কাজের শুরু। এগুলো পর্যালোচনা হবে, প্রয়োজনে কমিশন বা কমিটি হয়ে তদারকি চলবে।’ খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তার কথা, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড় যেন পেশাদারভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, সেই পরিবেশ আমরা তৈরি করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন এবং মন্ত্রণালয় কাজ করছে খেলোয়াড়দের জন্য বেতন কাঠামো তৈরি করতে।’

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের তীর্থস্থান পল্টন-গুলিস্তান। সেই এলাকা সন্ধ্যার পর থেকেই হয়ে ওঠে মাদকের অভয়ারণ্য। নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে সামগ্রিকভাবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।’ শেষে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘প্রায় সব বাবা-মা চান তাদের সন্তান ডাক্তার, প্রকৌশলী বা ব্যারিস্টার হোক, কিন্তু খুব কম মানুষই চান সন্তান ক্রীড়াবিদ হোক। আমি সেই মানসিকতা বদলাতে চাই। এমন একটি আন্দোলন শুরু করতে চাই, যাতে প্রতিটি পরিবার তাদের সন্তানকে একজন প্রতিষ্ঠিত পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে দেখার স্বপ্ন দেখতে পারে।’