মঞ্জুর শাস্তি ‘কঠোর’ বলেই মনে করে বিসিবি

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

জাহানারা আলমকে যৌন হয়রানির দায়ে মঞ্জুরুল ইসলামের শাস্তি যথেষ্ট কঠোর বলেই মনে করেন বিসিবি নারী বিভাগের প্রধান ও তদন্ত কমিটির সদস্য রুবাবা দৌলা। আপাতত আর কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে না বিসিবি। গত রোববার বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে জানানো হয়, সবধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে মঞ্জুকে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তখন বলা হয়েছিল, তদন্ত কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাবেক পেসার ও কোচ মঞ্জু অনেক দিন ধরেই দেশের ক্রিকেটে কাজ করছেন না। এই নিষেধাজ্ঞার ধাক্কা তাই আপাতত খুব তীব্রভাবে অনুভব করার কথা নয় তার। এত স্পর্শকাতর অপরাধ প্রমাণ হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন, এমন প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ।

তবে বিসিবিতে গতকাল বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রুবাবা দৌলা বলেন, আইনি দিক পর্যলোচনা করেই তারা কঠিন শাস্তি দিয়েছেন। ‘আমরা লিগ্যাল ফিডব্যাক নিয়েছি। লিগ্যালি অ্যাসেস করা হয়েছে যে, বিসিবির কি কি রাইটস অ্যাছে বা ডিউটিজ আছে, যেগুলোর এক্সারসাইজ করতে পারে। সেভাবেই আমরা অ্যাকশন নিয়েছি, আপাতত যে অ্যাকশন নেওয়া হয়েছে। আমি কর্পোরটেও কাজ করেছি, ওখানেও আমাদের এই ধরনের হয়রানি, যৌন হয়রানির জন্য কিছু কঠোর প্রক্রিয়া আছে।’ ‘আমার বিশ্বাস, বিসিবি থেকে যে অ্যাকশন আমরা নিয়েছি, এটা কঠোর অ্যাকশন নিয়েছি। সব ধরনের ক্রিকেটে.. শুধু মহিলা নয়, পুরুষও, সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিসিবি জানিয়েছিল, জাহানারার করা যৌন হয়রানির সুনির্দিষ্ট চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে স্বাধীন কমিটি। সেটির প্রেক্ষিতেই শাস্তি সিদ্ধান্ত হয়। মঞ্জু ছাড়াও আরও বেশ কজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ ছিল জাহানারার। সেগুলো নিয়ে বিসিবি কিছুই জানায়নি এখনও পর্যন্ত। মঞ্জুর শাস্তি নিয়ে জাহানার প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ায় থাকা এই ক্রিকেটারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কিছু ব্যাপার খতিয়ে দেখে তিনি পরবর্তীতে প্রতিক্রিয়া জানাবেন। গত নভেম্বর ফ্রিল্যান্স ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিমের ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে কান্নায় ভেঙে পগে জাহানারা অভিযোগ করেন, নিউ জিল্যান্ডে ২০২২ বিশ্বকাপ চলার সময় তখনকার নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জু তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়াও এছাড়াও মঞ্জুর বিরুদ্ধে নানা সময়ে মানসিক নির্যাতন, যৌন হেনস্তা ও সেসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাজে আচরণ করার অভিযোগও তোলেন নারী ক্রিকেটে দেশের সফলতম পেসার।

একইরকম অভিযোগ করেন তিনি নারী ক্রিকেটের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে, একসময় যিনি ছিলেন সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের ব্যক্তিগত সহকারী।

এছাড়া টিম ম্যানেজমেন্ট ও বোর্ডের আরও কজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন জাহানারা। এসব নিয়ে নারী বিভাগের সেই সময়ের চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম চৌধুরিকে কয়েক দফা জানালেও তিনি উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিয়ে সাময়িক সমাধান করেছেন বলে অভিযোগ করেন সাবেক এই অধিনায়ক।

পাশাপাশি বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীকে বিস্তারিত লিখিত জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান ৩২ বছর বয়সী পেসার।

অভিযোগ তোলার দুই দিন পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। এর তিন দিন পর কমিটিতে আরও দুজন সদস্য যোগ করা হয়। এই কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয় গত ২ ফেব্রুয়ারি। সেটির ভিত্তিতেই মঞ্জুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।