জিসান-মোসাদ্দেকের ব্যাটে ফাইনালে মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

দিনের শুরুটা রাঙালেন তাওহীদ হৃদয় ও সাব্বির রহমান। মধ্য দুপুরের পর জিসান আলম হাসলেন। শেষটাতে মোসাদ্দেক হোসেন দেখালেন নিজের কারিশমা। উত্তরাঞ্চলের দেওয়া ৩২৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ ওভারে মধ্যাঞ্চলের প্রয়োজন হয় ৮ রান। উইকেট বাকি ২টি। মুকিদুল ইসলামের প্রথম বলে লো ফুল টসে দারুণ কাভার ড্রাইভে চার মেরে দিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। পরের বলটি স্লোয়ার। মোসাদ্দেক মারলেন উড়িয়ে। বল ডানা মেলে দিয়ে একই জায়গা দিয়ে উড়ে আশ্রয় নিল গ্যালারিতে। নিজের ফিফটি আর দলের জয়, দুটিই ধরা দিল এক শটে। বড় রান তাড়ার চ্যালেঞ্জ জিতে ফাইনালে পৌঁছে গেল মধ্যাঞ্চল। শেষের নায়ক মোসাদ্দেক হলেও রান তাড়ার মূল নায়ক জিসান আলম। আগের দুই ম্যাচে তিনি ছিলেন দর্শক। আসরে প্রথমবার খেলতে নেমেই তরুণ ওপেনার উপহার দিলেন অসাধারণ এক ইনিংস। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিটিকে স্মরণীয় করে রাখেন তিনি ৯৭ বলে ১২৭ রানের ইনিংসে।
জিসান-মোসাদ্দেকের ব্যাটের দাপটে আড়ালে পড়ে যায় তাওহিদ হৃদয়ের শতরান ও তানজিদ হাসানের ৯২ রানে ইনিংস। রাজশাহীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের একদিনের ম্যাচের আসরে রান জোয়ারের ম্যাচটিতে উত্তরাঞ্চলকে ২ উইকেট হারায় মধ্যাঞ্চল। গতকাল শনিবার রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে উত্তরাঞ্চলের ৩২২ রান টপকে মধ্যাঞ্চল জিতে যায় ৪ বল বাকি রাখতে। জয়-হারে অবশ্য খুব বড় লাভণ্ডক্ষতি হয়নি। এই দুই দলই আগামী মঙ্গলবার ফাইনালে খেলবে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে।
টস জিতে বোলিংয়ে নামা উত্তরাঞ্চলকে শুরুতেই নাড়িয়ে দেন আবু হায়দার। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই তিনি বিদায় করেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাসকে। তবে পাল্টা জবাব আসতেও সময় লাগেনি। তাসকিন আহমেদকে চার ও ছক্কা মারেন তানজিন, আবু হায়দারের পরের ওভারেই চার মারেন তিনটি। হৃদয় একটু সময় নিয়ে থিতু হয়ে সঙ্গ দেন তানজিদকে। ৫১ বলে ফিফটি করা তানজিদ এগিয়ে যান শতরানের দিকে। কিন্তু রিপন মন্ডলের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে ছক্কার চেষ্টায় মাহফিজুল ইসলামের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন তিনি। তার ৯২ বলে ৯২ রানের ইনিংসে চার ৯টি, ছক্কা ৪টি।
অধিনায়ক আকবর আলি ভালো শুরু করেও আউট হয়ে যান ২৫ বলে ২২ রান করে। উত্তরাঞ্চলকে আরেকটি বড় জুটি এনে দেন হৃদয় ও সাব্বির রহমান। ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে খুব বেশি ঝুঁকি না নিয়ে ও দারুণ রানিং বিটুউন দা উইকেটের নজির মেলে ধরে হৃদয় শতরানে পা রাখেন ৯২ বলে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার চতুর্থ সেঞ্চুরি এটি। শতরানের পরই আউট হয়ে যান তিনি। তার স্টাম্প উপড়ে চতুর্থ উইকেট নিয়ে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ২০০ উইকেট পূর্ণ করেন আবু হায়দার। সাব্বিরের ঝড় চলতে থাকে। নিজের সেরা সময়কে মনে করিয়ে দিয়ে ৫ ছক্কায় ৫১ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। মধ্যাঞ্চলের রান তাড়া শুরু হয় ইনিংসের প্রথম বলে জিসানের বাউন্ডারিতে। প্রথম ২ ওভারেই ৫টি বাউন্ডারি মেরে নিজের অভিপ্রায় জানিয়ে দেন তিনি। সেই ধারা ধরে রেখেই ফিফটিতে পৌঁছে যান ৩৩ বলে। অন্য প্রান্তে তার সঙ্গে সেভাবে তাল মেলাতে পারেননি মোহাম্মদ নাঈম শেখ (১৩ বলে ১০) ও সাইফ হাসান (২৮ বলে ১০)। তৃতীয় উইকেটে জিমানকে সঙ্গ দেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন।
এই সংস্করণে আগে একবার ৯৮ রানে আউট হয়েছিলেন জিসান। এবার ৭৪ বলে ছুঁয়ে ফেলেন কাঙ্ক্ষিত কিন অঙ্ক। এরপরও ছুটতে থাকেন সামনে। চোখধাঁধানো ও অবিশ্বাস্য কিছু শট তিনি খেলেছেন, তার প্রতিভা ফুটে উঠেছে সেসবে। অপ্রতিরোধ ছুটকে থাকা ব্যাটসম্যান শেষ পর্যন্ত থামেন ১২৭ রানে। রিশাত হোসেনের বলে ধরা পড়েন তিনি কাভার সীমানায়। রিশাদ পরের বলেই বিদায় করেন নতুন ব্যাটসম্যান ইরফান শুক্কুরকে। আরেক প্রান্তে মাহফিজুল ৭ রানে জীবন পেয়ে দ্রুত রান করতে ভুগছিলেন। রানের গতি আবার সচল করেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। ৩৯ বলে ৩৯ রান করেন মধ্যাঞ্চল অধিনায়ক। মাহফিজুল শেষ পর্যন্ত বিদায় নেন ৮১ বলে ৫৪ রান করে।
এসএম মেহেরবরে এক ওভারেই এই দুজনের বিদায়ে আবার একটু চাপে পড়ে দল। শেষ ৭ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৭০ রানের। মোসাদ্দেক একাই বলতে গেলে সেই দামি মিটিয়ে দলকে জিতিয়ে দেন। ক্রিজে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই দুটি ছক্কা মারেন তিনি রিশাদকে। লোয়ার অর্ডারে আবু হায়দার ও রকিবুল হাসান খুব বেশি কিছু করতে পারেননি। মোসাদ্দেক তবু দাপুটে ব্যাটিংয়ে জিতিয়ে দেন দলকে।
