উত্তর কোরিয়ার কাছে বড় হার বাংলাদেশের
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

এএফসি নারী এশিয়ান কাপে অভিষেক ম্যাচে চীনের বিপক্ষে হারলেও দারুণ লড়াইয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এতে নিজেদের প্রতি আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়েছিল আফঈদা-ঋতুপর্ণাদের। সমর্থকদের প্রত্যাশাও বেড়ে গিয়েছিল। তবে পরের ম্যাচে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ফিফা র্যাংকিংয়ের ৯ নম্বরে থাকা উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ১১২ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের মেয়েরা বড় ব্যবধানে হেরেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে লাল সবুজ দলকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে উত্তর কোরিয়ার মেয়েরা।
টানা দুই হারে শঙ্কায় পড়ে গেছে পিটার জেমস বাটলারের দলের নারী এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠা। চীনের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে হেরে গ্রুপ পর্ব শুরু করা বাংলাদেশ দুটি পরিবর্তন এনে উত্তর কোরিয়া ম্যাচের একাদশ সাজায়। উমহেলা মারমা ও শিউলি আজিমের বদলে তহুরা খাতুন ও আইরিন খাতুনকে রেখে শুরু করেন বাংলাদেশ কোচ।
উজবেকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আসা উত্তর কোরিয়া শুরু থেকে চাপ দিতে থাকে বাংলাদেশের রক্ষণে। পঞ্চম মিনিটে অফসাইডের বাঁশি বাজার আগে দারুণ দৃঢ়তা দেখান মিলি। সতীর্থের থ্রু পাস ধরে গোলকিপারকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন হান জিন হং। তার শট নিজের ডান দিকে ঝাঁপিয়ে আটকান মিলি। একটু পর ডান দিক থেকে আসা ক্রস ফেরাতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে নিজের জালে জড়াতে বসেছিলেন কোহাতি কিসকু। লাফিয়ে গ্লাভসে জমান মিলি।
চতুর্দশ মিনিটে হতাশ হতে হয়ে উত্তর কোরিয়াকে। বক্সে হান জিন হংয়ের সঙ্গে একবার বল দেওয়া-নেওয়া করে মিয়ং ইউ জং শট নিয়েছিলেন। আফঈদার ট্যাকলে বল জংয়ের গায়ে লেগে চলে যায় কিম কিয়ং ইয়ংয়ের কাছে। তিনি নবীরন খাতুনের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়ালে গোলের আনন্দে মেতে ওঠে উত্তর কোরিয়া। কিন্তু ভিএআর চেকে দেখা যায় আফঈদার ট্যাকলে বল আগেই মিয়ং ইউ জংয়ের হাতে লেগেছিল; রেফারি বাজান হ্যান্ডবলের বাঁশি।
২৬তম মিনিটে কর্নারের পর কিম কিয়ং ইয়ংয়ের হেড এক হাতের থাবায় ফেরানোর পর ফিরতি চেষ্টায় অন্য হাতে বল মাঠের সঙ্গে চেপে ধরেন মিলি। বল তার গ্লাভসের নিচে থাকা অবস্থায় হান জিন হং চতুরতার সঙ্গে শট নিয়ে বল জালে জড়িয়ে উল্লাস শুরু করেন সতীর্থদের সঙ্গে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা আপত্তি জানালে রেফারি ভিএআর চেক করে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বাজান ফাউলের বাঁশি। চার মিনিট পর কিম কিয়ং ইয়ংয়ের শটে মিলি পরাস্ত হলেও অফসাইডের কারণে গোল পায়নি উত্তর কোরিয়া।
৩৮তম মিনিটে ভাগ্যকে পাশে পায় বাংলাদেশ; এবার কিম কিয়ং ইয়ংয়ের হেড ক্রসবার কাঁপিয়ে ফিরে। তবে ওই হেডের সময় কোহাতির হালকা চার্জে পড়ে যান তিনি। উত্তর কোরিয়া তোলে পেনাল্টির দাবি। এ দফার ভিএআর চেকেও সিদ্ধান্ত যায় বাংলাদেশের পক্ষে। একটু পর হান জিন হংয়ের শট বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট দিয়ে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে তিন পরিবর্তন করে বাংলাদেশ কোচ। শামসুন্নাহার জুনিয়র, তহুরা ও আইরিনকে তুলে স্বপ্না রানী, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী ও উমহেলাকে নামান তিনি। বিরতির আগ মুহূর্তে দুই গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। সফল স্পট কিকে উত্তর কোরিয়াকে এগিয়ে নেন মিয়ং ইউ জং।
কোহাতি বক্সে তালগোল পাকিয়ে বল হারালে পেয়ে যান হং সং ওকে, কিন্তু তিন ডিফেন্ডার মিলে তাকে আটকানোর এক ফাঁকে আফঈদা তাকে টেনে ধরে ফেলে দেন। রেফারি বাজান পেনাল্টির বাঁশি। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে কিম কিয়ং ইয়ং কোনাকুণি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে দ্বিগুণ করেন ব্যবধান।
দ্বিতীয়ার্ধেও খেলা হতে থাকে বাংলাদেশের অর্ধে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বে নবম এবং এশিয়ায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে কোনো আক্রমণই বাংলাদেশ শানাতে পারছিল না। মধ্যমাঠে এদিন সপ্রতিভ ছিলেন না মনিকা চাকমা-মারিয়া মান্দা জুটি। তাতে আক্রমণভাগে বলের জোগান পাননি তহুরা-ঋতুপর্ণারা। ৫৯তম মিনিটে সতীর্থের কাটব্যাকে কিম কিং ইয়ংয়ের শট আফঈদার গায়ে লেগে কর্নার হয়। একটু পর হং সং ওকের শট ঝাঁপিয়ে আটকানোর পর দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় গ্লাভসে জমান মিলি।
এরপর এক মিনিটের ব্যবধানে আবারও দুই গোল খেয়ে বসে বাংলাদেশ। ৬২তম মিনিটে হং সং ওকে’কে আটকাতে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মিলি, তখন তিনি চিপ শট নেন। তবে বল ক্লিয়ার করার সুযোগ ছিল কোহাতির সামনে, কিন্তু তিনি পা পিছলে পড়ে গেলে আলগা বল জালে ঠেলেন চায়ে উন ইয়ং। পরের মিনিটে কিম কিয়ং ইয়ংয়ের জোরাল কোনাকুণি নিচু শট ঝাঁপিয়ে পড়ার মিলির হাতের নিচ দিয়ে জালে জড়ালে বড় জয়ের পথে ছুটতে থাকে উত্তর কোরিয়া। মিলির উপর আক্রমণের ঝড় বইতেই থাকে। ৭০তম মিনিটে হং সং ওকের শট আটকান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই গোলকিপার। যোগ করা সময়ে ডাইভিং হেডে কিম হায়ে ইয়ং লক্ষ্যভেদ করলে বড় জয় নিশ্চিত হয়ে যায় উত্তর কোরিয়ার। আগামী সোমবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তিন গ্রুপে তৃতীয় হওয়াদের মধ্যে সেরা দুই দলের একটি হয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠতে এ ম্যাচে জিততেই হবে আফঈদা-ঋতুপর্ণাদের।
