‘আমি এই মেয়েদের নিয়ে খুব গর্বিত’
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ভালো খেলায় স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ দলের কাছে প্রত্যাশার চাপ ছিল। তবে প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া খুবই শক্তিশালী একটি দল। যারা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ১০৩ ধাপ উপরের দল। এএফসি নারী এশিয়ান কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে খেলায় দুই দলের ব্যবধানটা পরিষ্কারভাবেই ফুটে উঠেছে। গতকাল শুক্রবার সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুই গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিনটি খায় তারা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পর তিনি শিষ্যদের লড়াইয়ের মানসিকতার প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার।
তিনি শুরুতেই স্পষ্ট করে দেন, খেলোয়াড়েরা তাদের সামর্থ্যরে সবটুকু দিয়েছেন এবং এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বাটলার বলেন, ‘আমি মন খারাপ করিনি। আমি মোটেও মন খারাপ করিনি। আসলে আমি এই মেয়েদের নিয়ে খুব গর্বিত। তাই আমি নিশ্চিতভাবেই হতাশ নই। আর উত্তর কোরিয়ার মতো এমন একটি দারুণ দলের কাছে হারলে লজ্জার কিছু নেই।’
তিনি বলেন, আমি মেয়েদের সমালোচনা করতে পারি না, কারণ, আমরা সেই স্তরে নেই এবং আমাদের নিজেদের কাছে সৎ হতে হবে। আমি মেয়েদের প্রচেষ্টায় এবং তারা যা করেছে তার জন্য গর্বিত। তারা একঝাঁক চমৎকার মেয়ে, কিন্তু আপনি যদি উত্তর কোরিয়ার প্রোফাইল দেখেন-তাদের সামর্থ্য, কৌশল এবং শারীরিক উপস্থিতি-আমরা তাদের আটকাতে পারছিলাম না। এটি একটি সম্পূর্ণ অসম লড়াই ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, আমার মনে হয়েছে আমাদের কিছু মেয়ে রোদে নুয়ে পড়েছিল এবং আমরা আসলে নিজেদের প্রতি সুবিচার করতে পারিনি। কিন্তু এমন একটি সত্যিই ভালো দলের কাছে হার লজ্জার কিছু নয়।’
পাঁচবার পরাস্ত হলেও ম্যাচজুড়ে দারুণ কিছু সেভ করেছেন মিলি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই গোলকিপারের প্রশংসা করলেন বাটলার। ‘মিলি দারুণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী এবং সে একজন সৈনিক। তার জেদ ও উদ্দীপনার প্রশংসা আপনাকে করতেই হবে। তার সঙ্গে কাজ করা দারুণ, সে এই সুযোগটি পাওয়ার যোগ্য এবং মেয়েটির জন্য আমার শুধু প্রশংসাই আছে। মাঝে মধ্যে তাকে অনেক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে, তবে হ্যাঁ, এশিয়ান কাপের মতো এই স্তরে আসার পর আমাদের গোলকিপিং বিভাগটি একটি দুর্বল জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু মিলির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। তাকে শুধু কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে এবং মাটিতে পা রেখে চলতে হবে, খুব বেশি রোমাঞ্চিত হওয়া যাবে না।’ চীনের বিপক্ষে ম্যাচে মাঝেমধ্যে আক্রমণে ওঠার সাহস দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে ঋতুপর্ণা চাকমা গোল করার দারুণ সুযোগও তৈরি করেন, কিন্তু পারেননি। উত্তর কোরিয়া ম্যাচে অবশ্য উল্লেখ করার মতো কোনো আক্রমণই শাণাতে পারেননি তহুরা খাতুন-ঋতুপর্ণারা। এ নিয়ে ওঠা প্রশ্নে শুরুতে একটু রাগান্বিত হলেও পরে বাটলার মেনে নিলেন সেরাটা মেলে ধরতে পারেনি দল। ‘(দুই মিনিটের মধ্যে গোল খাওয়া) এসবের অনেক কিছুই মনোযোগের অভাব থেকে আসে এবং খেলোয়াড়রা মনোযোগ হারায়। তবে আপনাকে মনে রাখতে হবে, উত্তর কোরিয়ার খেলোয়াড়রা অনেক উঁচু স্তরে খেলে। তারা এমন মানের খেলোয়াড়, যাদের খেলা দেখার জন্য আমি টাকা খরচ করব। তারা একটি শীর্ষ মানের দল এবং আপনি এটি থেকে দূরে সরতে পারেন না বা অজুহাত দিতে পারেন না। আমরা এমন একটি দলের কাছে হেরেছি যারা আমার মতে এই টুর্নামেন্ট জেতার ক্ষমতা রাখে। তারা শুধু ভালো ফুটবলারই নয়, তারা অবিশ্বাস্য অ্যাথলেট। অস্ট্রেলিয়া এবং চীনেরও অসাধারণ অ্যাথলেট আছে। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে; আমরা সেই স্তরে নেই এবং আমরা ভুল করবই, তবে এই যাত্রাপথে আমরা শিখব।’
বাংলাদেশের কোচ বলেন, ‘আজ আমরা শুধু আমাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী একটি দলের সঙ্গে খেলেছি, যারা অন্য গ্রহের। আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। আজ অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স হতাশাজনক ছিল। কিন্তু আমি এই গ্রুপের অংশ হতে লজ্জিত বা অপমানিত বোধ করি না; কারণ, তারা অস্ট্রেলিয়া, কোরিয়া বা জাপানকেও হারিয়ে দিতে পারে। আজ আমরা শুধু পিছিয়ে ছিলাম, উত্তর কোরিয়া, চীন বা অস্ট্রেলিয়ার মানের বিরুদ্ধে খেলার মতো যথেষ্ট ভালো আমরা ছিলাম না।’ আগামী সোমবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। এ ম্যাচটি হবে পার্থে। আজ শনিবার পার্থের উদ্দেশে রওনা দেবে দল। চীন ও উত্তর কোরিয়া ম্যাচের শিক্ষা উজবেকিস্তানের বিপক্ষে কাজে লাগাতে চান বাটলার। ‘আমাদের প্রত্যাশার ব্যাপারে বাস্তববাদী হতে হবে। আমি সবসময় বলেছি যে, এখানে পৌঁছানোই ছিল আমাদের বিশ্বকাপ।
