দেশের সব ক্রীড়া সংস্থা ও অ্যাডহক কমিটি বাতিল
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

দেশের তৃণমূল ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের রদবদল আনতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এক নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সব বিদ্যমান ক্রীড়া সংস্থার কমিটি ও অ্যাডহক কমিটি একযোগে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের খেলাধুলাকে পুনরায় সচল, সুসংগঠিত এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি স্তরে সাত সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের রূপরেখা নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। গত মঙ্গলবার এনএসসির নির্বাহী পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. দৌলতুজ্জামান খাঁন সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে জানানো হয়, কমিটি গঠনের বিষয়ে আগে জারি করা সব নির্দেশনা এখন থেকে বাতিল বলে গণ্য হবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ে সাত সদস্যের কমিটির সভাপতি হবেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। সদস্য হিসেবে থাকবেন থানার অফিসার ইন চার্জ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং একজন স্থানীয় ক্রীড়াবিদ। আর সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় কোনো ক্রীড়া সংগঠক বা ক্রীড়াবিদ। জেলা পর্যায়ে কমিটির সভাপতি হবেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)। কমিটিতে পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), জেলা সমাজসেবা অফিসের উপপরিচালক, জেলা ক্রীড়া অফিসার এবং একজন স্থানীয় ক্রীড়াবিদ সদস্য হিসেবে থাকবেন।
বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারকে সভাপতি করে কমিটি গঠন করা হবে। নির্দেশনায় কমিটি গঠনের জন্য কঠোর সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাকে সাত দিনের মধ্যে তাদের অ্যাডহক কমিটির প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিতে হবে। এরপর জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রস্তাব দশ দিনের মধ্যে বিশেষ বাহকের মাধ্যমে সরাসরি এনএসসিতে পাঠাতে হবে। এনএসসির মতে, এসব অ্যাডহক কমিটির মূল দায়িত্ব হবে স্থানীয় ক্রীড়া সং¯’ার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা এবং নির্বাচিত কমিটির তালিকা পরিষদে পাঠানো। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের ক্রীড়া সংগঠনগুলোকে নতুনভাবে সক্রিয় ও গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনার আশা করছে সংস্থাটি।
এদিকে ক্রীড়া সংগঠকরা মনে করছেন, জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর ক্ষেত্রেও নির্বাচন পরিচালনার জন্য নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। বর্ষীয়ান ক্রীড়া সংগঠক ও ভলিবল ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু বলেন, ‘ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতেও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা উচিত, যাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।’
হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কোহিনূর বলেন, ‘আমরা স্বচ্ছ পদ্ধতিতে নির্বাচন প্রত্যাশা করি।’ একই মত দিয়েছেন তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা। তিনি বলেন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগের মতো জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনেও নির্বাচনকালীন অ্যাডহক কমিটি গঠন করে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। এ বিষয়ে এনএসসির নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘উপজেলা, জেলা ও বিভাগে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করে আমরা নির্বাচনের একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছি। ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর নির্বাচনও একই নিয়মে হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’
