নিজেকে আরও প্রমাণ করার আছে নাহিদের

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

পাকিস্তানের সাবেক গতি তারকা শোয়েব আখতারকে ডাকা হতো ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তকমা ছিল ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। তবে এরকম কোনো বিশেষণে পরিচিত হতে চান না দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গতিময় পেসার নাহিদ রানা। গত বুধবার মিরপুরে পাকিস্তানের অনভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে রীতিমতো আগুনের গোলা ছুটিয়েছেন তিনি। তার গতির ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সফরকারীরা, গুটিয়ে গেছে স্রেফ ১১৪ রানে। ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের দিনে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে বিধ্বস্ত করার মূল নায়কও তাই তিনি। অথচ সাদা বলের ক্রিকেটে নাহিদ রানা নিয়মিত নন। আগের ৫ ওয়ানডেতে তার পকেটে ছিল শুধু ৫ উইকেট। নিজের ষষ্ঠ ম্যাচ খেলতে নেমে নাহিদ চেনালেন নিজের জাত। টানা ৫ ওভারে তার পকেটে ৫ উইকেট। বাংলাদেশের কোনো বোলারের এমন সাফল্য আর নেই। গতকাল বুধবার পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসিয়ে দিয়ে নাহিদ নিজের সামর্থ?্য, শক্তিমত্তার জানান দিয়েছেন দারুণভাবে। গত বছরের অক্টোবরের পর প্রথম খেলতে নেমেছেন ৫০ ওভারের ক্রিকেটে। এর আগে ওই বছর সবশেষ খেলেছিলেন ফেব্রুয়ারিতে। অনিয়মিত এই ফরম্যাটে নিজেকে প্রমাণ করার, মেলে ধরার চ্যালেঞ্জ ছিল তার। পাকিস্তানকে এক স্পেলে ধসিয়ে নাহিদ প্রত্যাশা পূরণ করেছেন। তার অন্দরমহলের ভেতরে কথা শোনালেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শন টেইট।

প্রথম ম্যাচ চলাকালীন ব্রডকাস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শন টেইট বলেছেন, ‘তার নিজের কিছু প্রমাণ করার আছে। সিরিজের শুরুতেই, প্রথম ম্যাচে সুযোগ পাওয়া তার জন্য ইতিবাচক ব্যাপার। এখন তাকে নির্বাচকদের সামনে নিজের সামর্থ্য দেখাতে হবে। যদি সুযোগ পেয়ে ভালো পারফর্ম করে, তাহলে ভবিষ্যতেও দলে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে।’ টেইট মনে করেন, ‘এমন পারফরম্যান্স ধারাবাহিকভাবে করতে পারলে রানাকে সামনে আরও বেশি দেখা যাবে।’ পাকিস্তানের বিপক্ষে এর আগে ৫ উইকেট পেয়েছিলেন শুধু মোস্তাফিজুর রহমান। ২০১৯ বিশ্বকাপে লর্ডসে ৭৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। নাহিদ ২৪ রানে পেয়েছেন ৫ উইকেট। যা তার ক?্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারও।

পাকিস্তান ক্রমেই তার প্রিয় প্রতিপক্ষ হয়ে উঠছে। এর আগে রাওয়ালপিণ্ডিতে দুই টেস্টে ৬ উইকেট পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় টেস্টে এক স্পেলে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ম?্যাচে দারুণভাবে এগিয়ে নেন। তবে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম?্যান দেখে নয়, নাহিদ নিজের শক্তির জায়গায় স্থির থাকেন তা বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ব?্যাটসম্যানের দুর্বল দিক আছে। এজন?্য আমি আমার শক্তির জায়গায় থাকার চেষ্টা করি সব সময়। আজকের দিনেও আমি চেষ্টা করেছি নিজের শক্তির জায়গাতে শুরু করার। ব?্যাটসম?্যানের চেহারা দেখে কিংবা ব্যাটসম্যান কে তা আগে থেকে আমি চিন্তা করি না। উইকেটে যেই চাহিদা সেটা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করি। বেশি কিছু না।’ টেস্ট ও ওয়ানডেতে আলাদা মানসিকতায় বোলিং করতে হয়। পরিকল্পনাও থাকে আলাদা। ওয়ানডেতে নাহিদ কীভাবে মানিয়ে নেবেন সেই প্রশ্নটাও উঠেছে। উত্তরটা তার মুখ থেকেই শুনুন, ‘দলের পরিকল্পনা ছিল খুবই সহজ- আমি যেন মন খুলে বোলিং করি এবং যেটা আমি ভালো পারি, সেটাই মাঠে ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করি। আর লম্বা স্পেলে বোলিং করার বিষয়টা আসলে একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে সবারই প্রস্তুত থাকা উচিত। ম্যাচের পরিস্থিতি বা দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী যেকোনো সময় লম্বা স্পেল করতে হতে পারে। যদি দলের প্রয়োজন হয় এক স্পেলে সাত ওভার কিংবা দশ ওভার বোলিং করার, তাহলে সেটার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ দল যেটা চায়, একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে সেই অনুযায়ী নিজেকে ফিট ও প্রস্তুত রাখা জরুরি।’

মাঠে ফেরার আগে বিসিএল খেলেছিলেন তারা। চার দলের প্রতিযোগিতাকে বড় করে মূল?্যায়ন করলেন নাহিদ, ‘অনেক দিন পর আমরা ওয়ানডে খেললেও বিসিএল টুর্নামেন্টটা আমাদের প্রস্তুতির জন্য বেশ কাজে দিয়েছে। সেখানে আমরা যেভাবে খেলেছি, মূলত সেই জিনিসগুলোই আজ মাঠে প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছি। এই উইকেটে আমরা আগেও অনেক ম্যাচ খেলেছি, তাই সেই অভিজ্ঞতাও কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি- কোন লাইন ও লেন্থে বল করলে এখানে সাহায্য পাওয়া যায়, সেটাই মাথায় রেখে বোলিং করেছি। এই জয়টা দলের জন্য খুবই ভালো শুরু, আশা করি সামনে আমরা আরও ভালো ফল করতে পারব।’