ক্রীড়াবিদ থেকে সংসদের স্পিকার

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

সংসদীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থায় স্পিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ। স্পিকারই মূলত সংসদ পরিচালনা করেন। চলমান জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (অব) বীরবিক্রম। বর্তমান প্রজন্মের কাছে হাফিজ উদ্দিনের পরিচয় শুধু রাজনীতিবিদ। সাম্প্রতিক সময়ে তার ক্রীড়াবিদের চেয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পরিচয়টাই বড় হয়ে উঠেছে। তবে তিনি দেশের অন্যতম তারকা ক্রীড়াবিদদের একজন। যিনি অ্যাথলেটিকস ও ফুটবল উভয় খেলায় শীর্ষ ক্রীড়াবিদ ছিলেন। পাকিস্তান আমলে তিনি পাকিস্তানের হয়ে ফুটবল খেলেছেন। বাঙালি ও পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে পাকিস্তান দলে জায়গা পাওয়া ছিল অনেক কঠিন। সেখানে হাফিজ দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে পাকিস্তান দলে সুনামের সঙ্গে খেলেছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি মোহামেডানের হয়ে লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। এক ম্যাচে ডাবল হ্যাটট্রিকের কৃতিত্বও রয়েছে তার। এরপরও বাংলাদেশ দলে না খেলতে পারা একটা আক্ষেপের গল্পই। ফুটবলার হিসেবে হাফিজের কৃতিত্ব এতটাই বেশি এতে অ্যাথলেটিকসের অর্জন আড়ালেই থাকে। অ্যাথলেটিকসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট ১০০ মিটার স্প্রিন্ট। স্বাধীনতার আগে পূর্ব পাকিস্তানে তিনি দ্রুততম মানব হয়েছেন একাধিকবার। স্প্রিন্টের পাশাপাশি অন্য ইভেন্টও করতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লু পদকও পেয়েছেন। ক্রীড়াবিদ হিসেবে যেমন ছিলেন শীর্ষ পর্যায়ের তেমনি সংগঠক হিসেবেও ছিলেন বড় পর্যায়ের। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি দুই পদেই ছিলেন এই ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এএফসির সহ-সভাপতি ও ফিফা ডিসিপ্লিনারী কমিটির সদস্য ছিলেন। বিশ্ব ফুটবলে তার যোগাযোগ ভালোই ছিল। সাবেক ফুটবলারদের সংগঠন সোনালী অতীত ক্লাবের অন্যতম উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। ২০০৪ সালে বাংলাদেশের শতাব্দীর সেরা ফুটবল ব্যক্তিত্বের ফিফা অর্ডার অফ মেরিট পুরস্কার পেয়েছিলেন হাফিজ উদ্দিন।

১৯৯৪ ফুটবল বিশ্বকাপের পর থেকে ক্রীড়াঙ্গনের চেয়ে রাজনীতিতে বেশি সময় দেন। এরপর আর ক্রীড়াঙ্গনে তেমন সক্রিয় ছিলেন না। সাবেক ক্রীড়াবিদ, সংগঠক ও ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই সংসদ সদস্য, মন্ত্রী হয়েছেন। তবে স্পিকার হওয়ার কীর্তি নেই। মেজর হাফিজ এক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। আশির দশকে এমপি, নব্বই ও পরবর্তী সময়ে মন্ত্রী হয়েছেন। এবার মন্ত্রীত্বের পাশাপাশি স্পিকারও হলেন। সাবেক ক্রীড়াবিদ স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় ফুটবলসহ পুরো ক্রীড়াঙ্গনে চলছে উচ্ছ্বাস।