ফিফাকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে ইরান

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবার ছায়া ফেলতে পারে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পরবর্তী বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। বাস্তবায়িত হলে আধুনিক যুগে বিশ্বকাপ থেকে প্রথমবার কোনো দলের সরে দাঁড়ানোর ঘটনা ঘটতে পারে। ফলে সম্ভাব্য সংকট সামাল দিতে এখন থেকেই বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে ফিফা। গত বুধবার ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনিয়ামালি এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত কোনো বিশ্বকাপে ইরানের অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। তার এই মন্তব্যই প্রথমবারের মতো স্পষ্ট করে দেয় যে, ইরান সত্যিই টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে পারে। ইরানের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক এক সংঘাত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি। সেই ঘটনার পর পুরো অঞ্চলে যে সংঘাত শুরু হয়েছে, তা এখনও থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, যা বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক, সেখানে গিয়ে খেলাটা ইরানের পক্ষে অসম্ভব বলেই মনে করছে তেহরান।

তবে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়নি ইরান। বরং কয়েক ঘণ্টা আগেও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছেন, ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানের প্রথম ম্যাচটি হওয়ার কথা ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। কিন্তু ইরান শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ালে বড় ধরনের জটিলতায় পড়বে ফিফা।

ফিফার সামনে কী বিকল্প?

বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট নীতিমালার ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো দল সরে দাঁড়ালে ফিফা চাইলে যেকোনো দেশকে সেই জায়গায় ডাকতে পারে। এমনকি একই মহাদেশ থেকে দল নেওয়া বাধ্যতামূলকও নয়। ফিফার সাবেক ফুটবল রেগুলেটরি পরিচালক জেমস কিচিং বলেন, ‘আধুনিক যুগে এর কোনো নজির নেই। তাই কোনো দল সরে গেলে ফিফার হাতে পুরো স্বাধীনতা থাকবে তারা কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে।’ তবে তিনি মনে করেন, বর্তমান সংঘাতের কারণে যদি ইরান সরে দাঁড়ায়, তাহলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

সম্ভাব্য বিকল্প দল

গত বছর এশিয়ান বাছাইপর্বে গ্রুপ ‘এ’ চ্যাম্পিয়ন হয়ে টানা চতুর্থবার বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় ইরান। তাই তাদের পরিবর্তে এশিয়া থেকেই কোনো দল নেওয়া সবচেয়ে যৌক্তিক বলে মনে করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য দুই নাম উঠে এসেছে- ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইরাক এই মাসেই মেক্সিকোতে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ খেলবে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে বলিভিয়া বা সুরিনাম। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে ভ্রমণ জটিলতায় ইরাকের প্রস্তুতিও ব্যাহত হচ্ছে। ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড প্রস্তাব দিয়েছেন, প্লে-অফ ম্যাচটি বিশ্বকাপের কাছাকাছি সময়ে আয়োজন করা হোক। তার মতে, এতে একদিকে ইরাকের প্রস্তুতির সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে ইরান পরিস্থিতি পরিষ্কার হওয়ার জন্য ফিফাও আরও সময় পাবে।

সিদ্ধান্তে দেরি হতে পারে এদিকে বিষয়টি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি ফিফা। তবে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ফিফার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইউরোপের বাকি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শেষ হওয়ার পর, সম্ভবত এপ্রিলের শুরুতে, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে ফিফা।