হঠাৎ মেয়েকে নিয়ে জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী কখন কোথাও যাবেন, তা আগেই নির্ধারিত হয়ে থাকে। কারণ, এর সঙ্গে জড়িত থাকে অনেক বিষয়। নিরাপত্তার কড়াকড়ি, কর্মকর্তাদের আনাগোনা-সব মিলিয়ে একটা মহা হুলুস্থুল পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে, বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ব্যতিক্রম কিছু কাজ করেছেন যা খুবই প্রশংসা কুড়িয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই বিকেলে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে এসে হাজির হন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা সাবেক ফুটবলাররা। লাল দল ও সবুজ দল- এই দুই ভাগে ভাগ হয়ে তারা মাঠে পরস্পরের বিপক্ষে লড়াই করবেন। দুই দল মাঠে হাজির হয়ে গিয়েছিল আগেই। ডাগআউটে প্রস্তুতি নিচ্ছিল খেলা শুরুর জন্য। এমন সময়ই হঠাৎ মাঠে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মাঠে আসার জন্য তার কোনো সূচি নির্ধারিত ছিল না। এমনকি তিনি যে মাঠে আসতেছেন, এমন কথাও আগে থেকে কেউ জানায়নি। তার সঙ্গে ছিলেন কন্যা জাইমা রহমান এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
হঠাৎ করেই ভিআিইপি গেট দিয়ে সরাসরি মাঠে ঢুকে তিনি চলে যান ডাগআউটে। সেখানে গিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন। হ্যান্ডশেক করেন। এরপর স্টেডিয়ামে স্থাপিত অ্যাথলেটিক ট্র্যাকের ওপর দিয়ে পুরো মাঠ প্রদক্ষিণ করেন তিনি। পরে গিয়ে অবস্থান নেন ডাগআউটে। সেখানে বসেই খেলা উপভোগ করেন তিনি। কোনো দেশের কোনো সরকার প্রধানের এভাবে ডাগআউটে বসে খেলা উপভোগ করার এটা এক বিরল ঘটনা হয়ে থাকল। খেলার বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী চলে যান ভিভিআইপি লাউঞ্জে। সেখানে তিনি আসরের সালাত আদায় করেন। এরপর ফিরে এসে ডাগআউটে বসে আবারও খেলা দেখতে থাকেন।
খেলা শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মেডেলও পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও দিয়েছেন। সেখানে ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে তার ভাবনাও ব্যক্ত করেছেন। স্বাধীনতা দিবসে এমন আয়োজনের জন্য তারেক রহমান আয়োজক বাফুফেকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘প্রথমেই আমি আজকের এই স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে, আয়োজকবৃন্দকে, উপস্থিত বরেণ্য খেলোয়াড়সহ সাংবাদিক ভাইয়েরাসহ গ্যালারিতে যেসব সকল দর্শক উপস্থিত আছেন, আসসালামু আলাইকুম। প্রথমেই আমি সকলকে আজকের এই স্বাধীনতা দিবসের আন্তরিক অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা জানাই।’ বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনি ইশতেহারে ক্রীড়াঙ্গনকে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে বলেন, ‘আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে এবং কিছুদিন আগে বাংলাদেশে যে প্রত্যাশিত নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে সে নির্বাচনের সময় আমাদের দলীয় ইশতেহার থেকে আমরা বলেছি যে আমরা বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতে নতুন প্লেয়ার তৈরি করতে চাই বিভিন্ন খেলায় এবং ক্রীড়াকে প্রফেশনাল রূপ আমরা দিতে চাই। সেজন্যই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা ‘নতুন কুঁড়ি’ নামে যে অনুষ্ঠানটি ছিল, এখানে আমরা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’কেও আমরা চালু করতে চাই।
শুধু নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসই আমরা চালু করতে চাই না, আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলা, প্রত্যেকটি উপজেলা, প্রত্যেকটি ইউনিয়নে স্কুলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে আমরা খেলার কম্পিটিশন শুরু করতে চাই।’ ক্রীড়াবিদরা দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন। দেশের হয়ে সম্মান বয়ে আনেন। তাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অংশগ্রহণ নিয়েও ভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর, ‘আমাদের একটি লক্ষ্য আছে, আমরা চেষ্টা করতে চাই যে ভবিষ্যতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে যে খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, সেখানে আরও কীভাবে আমরা দেশের জন্য বেশি বেশি সম্মান বয়ে আনতে পারি এবং তার জন্য আমরা সুন্দরভাবে আমরা ভালো খেলোয়াড় তৈরি করতে পারি। আমাদের পরিকল্পনা আছে, সেটিও আমাদের চেষ্টা আছে।’
খেলার মাধ্যমে একতার সৃষ্টি হয়। জাতি ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়। তাই প্রধানমন্ত্রী দল মত নির্বিশেষে সুন্দর ক্রীড়াঙ্গন নির্মাণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন, ‘আজকের এই স্বাধীনতা দিবসে আসুন আমরা সকলে সিদ্ধান্ত নেই, আমরা সকলে চেষ্টা করি যারা আমরা বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের বহু মানুষ আছেন যারা ক্রীড়ার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত আছেন, তাদের সকলের কাছে অনুরোধ থাকবে আসুন আমরা বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতটিকে সুন্দরভাবে দলমত নির্বিশেষে সুন্দরভাবে আমরা এই ক্রীড়া জগতটিকে গড়ে তুলি। এই ক্রীড়া দেশের জন্য যেরকম সম্মান বয়ে আনতে পারে, এই ক্রীড়া আমাদের মধ্যে সুন্দরভাবে বন্ধুত্বের, ভ্রাতৃত্বের বন্ধনও তৈরি করতে সক্ষম বলে আমি বিশ্বাস করি।’
সাবেক ফুটবলারদের অনেকেই বিভিন্ন সরকার আমল দেখেছেন। সাধারণ এক প্রীতি ম্যাচে প্রধানমন্ত্রীর আগমন এবং পুরো ম্যাচ দেখে পুরস্কার প্রদান করার ঘটনা বেশ বিরলই বলছেন অনেকে। সবাই প্রধানমন্ত্রীর ক্রীড়া এবং বিশেষত ফুটবলপ্রেমের প্রশংসা করছেন।
সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক এমন ম্যাচে প্রধানমন্ত্রী আসায় বেশ বিস্মিত। তিনি বলেন, ‘এরকম একটা অনুষ্ঠানে আসবেন এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করতে পারিনি। আমরা তো স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবসে এরকম প্রীতি ফুটবল খেলি। কিন্তু প্রীতি ফুটবলকে ফুটবল ফেডারেশন প্রেসিডেন্টকেও অনেক সময় পাই না, ক্রীড়ামন্ত্রী তো দূরের কথা। প্রধানমন্ত্রী এসছেন আমরা অভিভূত। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, আমাদের খেলাধুলাকে প্রধানমন্ত্রী অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এটা আমাদের সারপ্রাইজড করেছে এবং ভবিষ্যতেও উনি আমাদের ক্রীড়াঙ্গনকে সারপ্রাইজ দেবেন এবং উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল এই অনুষ্ঠানে ছিলেন না। তার অবর্তমানে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরি হ্যাপি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা করেছেন। বাফুফে সভাপতির বাবা পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সড়ক ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আজকের প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক নিজে লাল দলের হয়ে খেলেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের এই আয়োজনে আসায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান এই প্রথম ক্রীড়াঙ্গনের কোনো অনুষ্ঠানে আগন করলেন এবং সেটা হঠাৎ করেই।
