পাঁচ প্রবাসী নিয়েও ভিয়েতনামের সঙ্গে হারল বাংলাদেশ

প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ১৮১তম, ভিয়েতনাম ১০৩তম। ফিফা র‍্যাংকিংয়ে প্রতিপক্ষের চেয়ে ৭৮ ধাপ পিছিয়ে থেকেও লড়াইয়ের প্রত্যয় ছিল জামাল ভূঁইয়াদের। তবে প্রথমার্ধে মাঠে তা প্রতিফলিত হয়নি। তিন গোল হজম করে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে হাভিয়ের কাবরেরার দল। এতে বড় ব্যবধানে হারের শঙ্কা জাগে। তবে বিরতির পর রক্ষণে জোর দিয়ে গোলপোস্ট অক্ষত রেখেছিল হামজা চৌধুরীরা। যে কারণে ভিয়েতনাম আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানে ভিয়েতনামের কাছে হেরে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার হ্যানয়ের হ্যাং ডে স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিকদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। কেন তারা র‍্যাংকিংয়ে এতটা এগিয়ে-প্রথমার্ধেই সেটার প্রমাণ দিয়েছে ভিয়েতনাম।

স্বাগতিকরা চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে দো হোয়াং হেনের পায়ে বল তুলে দেন তারিক কাজী। তবে তিনি বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই স্লাইড করে তার শট ব্লক করেন সাদ উদ্দিন। অষ্টম মিনিটে লিড নেয় ভিয়েতনাম। এ গোলেও দায় ছিল বাংলাদেশের ডিফেন্সের। কর্নার থেকে আসা বলে পা ছোঁয়ান ফাম তুয়ান হাই। তার শট জায়ানের পায়ে লেগে পোস্টে জড়িয়ে যায়। ১৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে হোয়াং হেনের কোনাকুনি শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক শ্রাবণ। পরের মুহূর্তেই হোয়াং দুয়ের দুর্দান্ত ভলি ফিস্ট করে দলকে রক্ষা করেন তিনি।

এর দুই মিনিট পরই দ্বিতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। আবারও রক্ষণভাগের ভুলে। সতীর্থের নেওয়া লম্বা ফ্রি-কিকে ফাম জুয়ান মানের হেড জালে জড়ায়। বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের অফসাইড ফাঁদ ভেঙে গোলটি করেন ভিয়েতনাম ফরোয়ার্ড। দুই গোল হজমের পর কিছুটা খোলস ছেড়ে বের হওয়ার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। ২০ মিনিটে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো ভলি ভিয়েতনাম গোলরক্ষক ড্যাং ভ্যান দাম বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকান। ২৬ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ভালো জায়গায় বল পেয়েও এলোমেলো শটে সুযোগ নষ্ট করেন সোহেল রানা। ৩২ মিনিটে ভিয়েতনামের আরেকটি আক্রমণ থেকে নিশ্চিত গোল বাঁচান শ্রাবণ। হাই লংয়ের শট এক হাতে ঠেকিয়ে স্কোরলাইন ৩-০ হওয়া থেকে দলকে রক্ষা করেন তিনি। তবে ৩৮ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। ব্যবধান ৩-০ করেন হাই লং। দুই ডিফেন্ডারের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে তারিক কাজীর পায়ের ফাঁক দিয়ে দূরের পোস্টে বল পাঠান তিনি।

বিরতির পরও স্বাগতিকদের দাপট চলতে থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে একাদশে দুই পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ কাবরেরা। মিরাজুল ইসলামকে বসিয়ে শেখ মোরসালিনকে নামানো হয়। আর ফাহমিদুল ইসলামের বদলে নামেন শাহরিয়ার ইমন। জামাল, সুমন রেজা ও বিশ্বনাথও পরবর্তীতে মাঠে নামেন। যদিও তাতে আক্রমণে তেমন গতি ফেরেনি। ৫৪ মিনিটে প্রতিপক্ষের একটি ফ্রি-কিক বাংলাদেশের রক্ষণদেয়ালে আটকা পড়ে। ৭২ মিনিটে ভিয়েতনামের চমৎকার একটি আক্রমণ পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে প্রতিহত করেন গোলরক্ষক মেহেদী। ৭৭ মিনিটে স্বাগতিকরা ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। এর কিছুক্ষণ পর শমিতের একটি শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে গেছে।

৮৬ মিনিটে সুমন রেজার ক্রসে শূন্যে লাফিয়ে ব্যাকহিলে লক্ষ্যভেদ করার চেষ্টা করেও সফল হননি হামজা। তবে এই অর্ধে অন্তত আর কোনও গোল হজম করেনি বাংলাদেশ। এটাই ছিল তাদের সামান্য স্বস্তির।

এই ম্যাচে হামজা চৌধুরীসহ ৫ প্রবাসী ফুটবলারকে নিয়ে শক্তিশালী ভিয়েতনামের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। হামজা ছাড়াও একাদশে জায়গা পাওয়া প্রবাসী ফুটবলাররা হলেন- শামিত সোম, জায়ান আহমেদ, তারিক কাজী ও ফাহমিদুল ইসলাম। তবে ভিয়েতনামের জয় ঠেকাতে পারেনি লাল সবুজ দল।

চার দিনের মধ্যে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।