ক্রিকেটের স্বার্থে মাঠে নামুন

ক্লাবগুলোকে ফারুক আহমেদ

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

ঢাকার ক্লাব সংগঠক ও ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার টানাপোড়েনে স্থবির হয়ে পড়েছে ঘরোয়া ক্রিকেট। প্রথম বিভাগের পর এবার প্রিমিয়ার লিগ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এমন অবস্থায় ক্লাবগুলোকে জেদ পরিহার করে মাঠে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার মিরপুরে স্বাধীনতা দিবসের প্রীতি ম্যাচ শেষে তিনি স্পষ্ট করেন যে, লিগ আয়োজন মূলত ক্লাবগুলোর সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আয়োজনের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ হবে কিনা এটা কিন্তু একান্তই....আমি দেখি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে একটা কথা শুনি যে ক্রিকেট বোর্ডের কাছে যা আশা করেছিলাম তা করছে না। প্রিমিয়ার লিগটা একান্তই ক্লাবগুলোর ব্যাপার এবং আমি ক্লাবগুলোকে বারবার আহ্বান করেছি, আপনারা যেটাই করেন দিনশেষে ক্রিকেট বোর্ড থাকবে। ৪ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। কী হবে এটা চিন্তা না করে ক্রিকেটটা মাঠে।

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি ক্লাবগুলোকে এখনও অনুরোধ করব। সময় চলে গেলে কিন্তু এটা আর আসবে না। হয়তোবা ক্রিকেট বোর্ড বদলে গেল একটা সময়, কিন্তু এই সময়টা কোথায় পাবেন? এজন্য আমি বারবার বলছি এবং খেলোয়াড়দের আমি মনে করি আরও সক্রিয় হয়ে তাদের নির্দিষ্ট যে যে ক্লাব আছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। এখানে ক্রিকেট বোর্ডের কিচ্ছু করার নেই।’

প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগের লিগ নিয়ে বিসিবির সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি ব্যাখ্যা দেন, ‘প্রথম বিভাগে ১২টা দল নিয়ে খেলেছে, ৮টা দল নিয়ে একটা টুর্নামেন্ট করেছি। আমাদের দ্বিতীয় বিভাগ শেষ হয়েছে ১২টা দল নিয়ে, আরও দলগুলো নিয়ে খেলার কথা রয়েছে। তৃতীয় বিভাগ শুরু করব হয়তো এক সময়। সুতরাং ক্রিকেট বোর্ড তাদের দিক থেকে যতটুকু করার চেষ্টা করছে। এখন বাকিটা বিবেচনার দায়িত্ব আপনাদের।’

এদিকে পরিচালকদের পদত্যাগে বোর্ডের কাজে প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বোর্ডসহ সভাপতি। গত বছরের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচন নিয়ে ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের একাংশের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এবং বর্তমান কমিটির বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের মধ্যেই দুইজন পরিচালকের পদত্যাগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ মনে করেন, এতে বোর্ডের কার্যক্রমে কোনো স্থবিরতা আসবে না। তার মতে, ব্যক্তিগত কারণে কেউ চলে গেলেও প্রতিষ্ঠান তার আপন গতিতে চলবে। বিসিবির বর্তমান কমিটি কতদিন টিকবে- এমন প্রশ্নের জবাবে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমি দুইটা পদত্যাগপত্র দেখেছি। (তারা) একান্ত ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছে। যদি ব্যক্তিগত কারণ মনে করেন, আমি যদি কালকে না থাকি তখন আমারও কোনো ব্যক্তিগত কারণ হতে পারে।

তাই না? এটাতে আমি আসলে বোর্ডের জন্য খুব বেশি...আপনি জানেন আমাদের ২৫ জন ডিরেক্টর। তারা থাকলে ভালো হতো। কিংবা না থাকলে আমার মনে হয় না যে বোর্ড চলবে না। আমার মনে হয় বোর্ডের মতো চলবে বোর্ড।’

নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) গঠিত তদন্ত কমিটি এবং আইসিসিকে সেই বিষয়ে বিসিবির অবহিত করার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে নিজের মতামত দেন ফারুক। তদন্তের ফলাফল কী হতে পারে, এমন প্রশ্নে তিনি বেশ বাস্তবধর্মী মন্তব্য করেন। ফারুক আহমেদ বলেন, ‘যাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে- একটা হলো সংক্ষুব্ধ পার্টি। আরেকটা হলো ক্রিকেট বোর্ডে যারা আছেন তারা। এটা থেকে কী ফলাফল পাওয়া যাবে, তা আমার জানা নেই। কেননা, যারা আছেন তারা বলবেন সব ঠিক আছে। আর যারা নাই, তারা বলবেন সব ভুল হয়েছে।’