আজ বাংলাদেশের সামনে সিঙ্গাপুর
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

এশিয়ান কাপ বাছাই পর্ব পেরুতে পারেনি বাংলাদেশ। তবুও নিয়মরক্ষার শেষ ম্যাচ খেলতে হবে জামাল ভূঁইয়াদের। প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর। আজ সিঙ্গাপুরের ক্যালাংয়ের জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু হবে ম্যাচটি। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টি স্পোর্টস সরাসরি সম্প্রচার করবে। সি-গ্রুপে বাংলাদেশের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আর সুযোগ নেই। পাঁচ ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট লাল সবুজদের। টেবিলের তিন নম্বরে। তবে সম্মান বাঁচানো ও ভবিষ্যতের জন্য আত্মবিশ্বাস অর্জনের বড় পরীক্ষা এটি। অন্যদিকে পাঁচ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে সিঙ্গাপুর ইতোমধ্যেই গ্রুপ সেরা হয়ে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। ঢাকায় প্রথম লেগে বাংলাদেশ ১-২ গোলে হেরেছিল সিঙ্গাপুরের কাছে। ওই ম্যাচে শুরুতে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত রক্ষণভাগের ভুলে হার মানতে হয়েছিল লাল-সবুজদের। এবার সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়াদের সামনে।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের লক্ষ্য অন্তত ড্র করে বাছাইপর্ব শেষ করা। স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা সাম্প্রতিক সময়ে দলে নতুন মাত্রা এনেছেন। ইংল্যান্ডে খেলা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী এবং কানাডা প্রবাসী শমিত সোম দলে যোগ দেওয়ায় মাঝমাঠে আগের চেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বাংলাদেশের ২৩ সদস্যের দলে রয়েছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, শেখ মোরসালিন, ফাহামেদুল ইসলাম ও সুমন রেজা। বিশেষ করে মাঝমাঠে হামজা-জামাল-শমিত ত্রয়ীর ওপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশের খেলার গতি। ম্যাচের গতকাল সোমবার বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা জানান, সিঙ্গাপুর ম্যাচটিকে তিনি শুধু আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখছেন না। তার ভাষায়, এটি বাংলাদেশের জন্য নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের এবং নতুন সমন্বয়কে মাঠে প্রমাণ করার সুযোগ। কাবরেরা বলেন, ‘আমরা জানি সিঙ্গাপুর শক্তিশালী দল। তারা এরমধ্যে এশিয়ান কাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু আমরা এখানে ভালো ফলের জন্যই এসেছি। ভিয়েতনামের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলা আমাদের প্রস্তুতিতে সাহায্য করেছে।’ বাংলাদেশ কোচের সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা এখন মাঝমাঠ। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর কথা। হামজাকে নিয়ে পুরো দল ও সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা থাকলেও কাবরেরা সতর্ক। তিনি জানিয়েছেন, ইনজুরি থেকে সদ্য ফিরে আসা হামজাকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চান না। হাভিয়েরের কথা, ‘হামজা ভালো আছে। তবে সে মাত্রই এসেছে। আবহাওয়া, সময়ের পার্থক্য এবং ম্যাচ ফিটনেসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ওর কিছুটা সময় লাগবে। আমরা ওর অবস্থা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’ কাবরেরা মনে করেন, বিদেশে খেলা ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি শুধু দলকে শক্তিশালী করছে না, বরং দলের খেলার ধরনও বদলে দিচ্ছে।
অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা হয়তো গ্রুপ থেকে উঠতে পারছি না, কিন্তু আমরা দেখাতে চাই বাংলাদেশ বদলাচ্ছে। এখন আমাদের দলে অভিজ্ঞতা আছে, আত্মবিশ্বাস আছে। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আমরা লড়াই করতে চাই।’ অন্যদিকে স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের বড় শক্তি তাদের সংগঠিত আক্রমণ ও দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক। কোচ গ্যাভিন লী’র দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইরফান ফ্যান্দি। আক্রমণে থাকবেন ইখসান ফ্যান্দি ও শাওয়াল আনুয়ার। তবে ইনজুরির কারণে না-ও খেলতে পারেন তাদের অন্যতম ভরসা ইলহাম ফ্যান্দি। তাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সিঙ্গাপুরের দ্রুত উইং আক্রমণ সামলানো। সংবাদ সম্মেলনে সিঙ্গাপুর কোচ গ্যাভিন লীও বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী দল, বিশেষ করে হামজা ও শমিত যোগ দেওয়ার পর তাদের মাঝমাঠ অনেক উন্নত হয়েছে। তবে বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তারা খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল। তবে আমরা নিজেদের মাঠে জয়ের মধ্য দিয়েই শেষ করতে চাই।’
