বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বাতিল
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার করা হবে কিনা এমন আলোচনার মাধ্যেই জানা গেলো নতুন তথ্য। বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারের জন্য করা চুক্তিটি বাতিল করেছে ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন বিনোদন প্ল্যাটফর্ম জিওস্টার। পাওনা টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশের চ্যানেল টি-স্পোর্টস-এর সঙ্গে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের সম্প্রচার চুক্তি বাতিল করেছে ভারতীয় বিনোদন প্রতিষ্ঠান ‘জিওস্টার’। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তারা এই সম্পর্কিত দাপ্তরিক চিঠি দেখে নিশ্চিত হয়েছে।
রিলায়েন্স এবং ডিজনির যৌথ উদ্যোগ ‘জিওস্টার’ বাংলাদেশে তাদের স্থানীয় অংশীদার টি-স্পোর্টসের সঙ্গে এই চুক্তিটি করেছিল। চিঠিতে জিওস্টার জানিয়েছে, তাদের অংশীদার চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধে ক্রমাগত ব্যর্থ হওয়ায় তারা এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন চলছে। এর আগে জানুয়ারি মাসে বিসিসিআই-এর নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছিল। বর্তমানে সরকার এই নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনার কথা বললেও এবং গত শনিবার ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মতামতের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেও, জিওস্টারের এই চুক্তি বাতিলের ফলে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর অর্থ হলো, সরকার যদি আইপিএল প্রদর্শনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলেও নেয়, তবুও বাংলাদেশে খেলা দেখানোর জন্য কোনো স্থানীয় সম্প্রচারকারী চ্যানেল আর থাকছে না। তবে বিকল্প উপায়ে খেলা দেখার সুযোগ এখনও রয়েছে। স্টার স্পোর্টসের মাধ্যমে বাংলাদেশের দর্শকরা আইপিএল উপভোগ করছেন। এই ব্যাপারে স্থানীয় ক্যাবল অপারেটররা বলছেন, স্টার স্পোর্টস চালু রাখার ক্ষেত্রে তাদের কোনো বাধা নেই। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি টি-স্পোর্টসকে পাঠানো এক চিঠিতে জিওস্টার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ‘চুক্তিটি অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে বাতিল করা হলো।’ ২০২৩ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত আইপিএলের সম্প্রচার স্বত্ব সাব-লাইসেন্স হিসেবে নিয়েছিল টি-স্পোর্টস। রয়টার্সের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জিওস্টার কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে টি-স্পোর্টস এবং বাংলাদেশের ক্রীড়া ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
