মাস্ক লাগিয়ে ফিটনেস ট্রেনিংয়ে শান্তরা

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে চলছে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ক্যাম্প। সেখানে বুধবার দেখা গেল, এক ধরনের মাস্ক পরে শারীরিক কসরত করছেন নুরুল হাসান সোহান। গত কয়েকদিনে এই মাস্ক অবশ্য পরিচিত করে তুলেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ককে দেখা গেছে এই মাস্ক লাগিয়ে ফিটনেস ট্রেনিং করতে। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এটির ব্যবহার নিয়মিতই দেখা যায়। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ‘স্পোর্টস মাস্ক’ নতুন বলে তা বেশ কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। এই মাসের নিউ জিল্যান্ড সিরিজ ও সামনের ব্যস্ত সূচিতে চোখ রেখে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ঘষামাজা করতেই মূলত এই ক্যাম্প চলছে। ফিটনেস ট্রেনিং এমনিতেই সাধারণত একটু একঘেয়ে ব্যাপার বলে ট্রেনাররা নানা ধরনের বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করেন। নানা আয়োজনে চেষ্টা করা হয় এটিকে উপভোগ্য করে তুলতে। তবে বাংলাদেশের অনুশীলনে এই স্পোর্টস মাস্কের ব্যবহার শুরু হয়েছে বিশেষ উদ্দেশ থেকেই।

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল বুধবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবির স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ ইফতেখার রহমান জানালেন এই মাস্ক ব্যবহারের কারণ। ‘যে ক্রিকেটার ইনজুরড, রানিং করতে পারছে না, তাকে তো আমার রানিং করাতে হবে। এটা কিভাবে করানো যায়? আপনি যদি আধ ঘণ্টা একজন ক্রিকেটারকে রানিং করাতে না পারেন, কোনো ইনজুরি, হাঁটুতে ব্যথা বা হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যা, ওই ক্রিকেটারদের যদি স্পোর্টস মাস্ক পরে আধ ঘণ্টা হাঁটাতে পারেন, তাহলে কিন্তু (রানিংয়ের মতো) একই কাজ হয়। মানে, রানিং না করিয়েও স্পোর্টস মাস্ক পরিয়ে রানিংয়ের কন্ডিশন করে ফেললাম। কিভাবে এটা কাজ করে? মূলত এটা হাই-অল্টিটিউড মাস্ক। অনেক ওপরে গেলে যেমন শ্বাস নেওয়া যায় না, এই মাস্কের কাজও হলো (সহজে) শ্বাস নিতে দেবে না। কষ্ট করে শ্বাস নিতে হবে। শ্বাস (ঠিকমতো) না নিতে পারলে হার্টের ক্যাপাসিটি বাড়বে, লোড নেওয়ার ক্ষমতা বাড়বে। এই ব্যাপারটিই আমরা তৈরি করার চেষ্টা করেছি।’

এই স্পোর্টস মাস্কের কার্যকারিতা আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করলেন দীর্ঘদিন ধরে বিসিবি কাজ করে আসা এই ট্রেইনার। ‘এখানে অনেক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। হার্টের লোড বাড়লে আপনার যদি ব্লাড সার্কুলেশন বাড়ে, হার্ট যদি বেশি পাম্প করে, ৮৫ শতাংশের ওপরে যখন হার্ট পাম্প করতে থাকবে, লোড যদি বাড়ে ট্রেনিংয়ের ব্যাপারটি হলো, হার্ট রেট যদি ৮৫ শতাংশের ওপরে থাকে, তখন ফ্যাট কমতে শুরু করে, এর নিচে থাকলে ফ্যাট কমবে না, এই মাস্ক কখনও কখনও হার্টের ওপর চাপ তৈরি করে এমনভাবে যে, রক্তচাপ বাড়বে, হার্টরেট বাড়বে এবং ৮৫ শতাংশের ওপরে চলে যাবে। এমনিতে ৮৫ শতাংশ হার্টরেট করতে গিয়ে হয়তো ৫টি রাউন্ড দিতে হবে। সেখানে মাস্ক পরিয়ে একটি রাউন্ড দিলেই ৮৫ শতাংশে উঠে যাবে হার্ট রেট। তার মানে, মাস্ক পরিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই কাজটি আদায় করতে পারছি। সেজন্যই মাস্কটি ব্যবহার করা হচ্ছে।’

ইফতেখার জানালেন, মূলত বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলামের জন্য মাস্কটি এনেছিলেন তিনি। পরে শান্ত-সোহানদের কাজে লেগেছে। এখন আরও অনেকেই ব্যবহার করতে আগ্রহী। ‘শুরুতে ২-৩ জনকে ব্যবহার করতে বলেছিলাম। ওরা ভালো অনুভব করেছে। এখন সব ক্রিকেটার বলছে যে, এই মাস্ক তারা ব্যবহার করতে পারে কি না- আমরা সামনে চেষ্টা করব, সব ক্রিকেটারের স্পেশাল কন্ডিশনিংয়ের জন্য এটা করা যায় কি না।’ চলমান এই ফিটনেস ক্যাম্পের বিভিন্ন দিক ও প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছেন ইফতেখার। পেসারদের নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানালেন তিনি। ‘বোলাদের নিয়ে আমাদের ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ওদের অগ্রাধিকার পরিকল্পনা করা হয়েছে, কে কখন খেলবে, কে কখন বের হবে, কখন রিহ্যাবে যাবে, এই ধরনের শক্ত পরিকল্পনা করা হচ্ছে।