চীনের সঙ্গে লড়াই করে হারল বাংলাদেশ

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

আগের রাতে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। ২৪ ঘন্টা না পেরুতেই থাইল্যান্ডে এএফসি নারী অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে চীনের মুখোমুখি হয় লাল সবুজের মেয়েরা। ‘এ’ গ্রুপের এই ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষে সঙ্গে দারুন লড়াই করেছে বাংলাদেশ।

মাস খানেক আগে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ খেলে বাংলাদেশ সিনিয়র নারী দল। এশিয়া কাপের অভিষেক ম্যাচই ছিল নয় বারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে। ঐ ম্যাচেও বাংলাদেশ লড়াকু মনোভাব দেখিয়ে ০-২ গোলে হেরেছিল। সিনিয়র দলের সঙ্গে এই ম্যাচের খানিকটা সাদৃশ্য রয়েছে। ঐ ম্যাচে চীন প্রথমার্ধে দুই গোল করেছিল, দ্বিতীয়ার্ধে গোল করতে পারেনি। অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে প্রথমার্ধে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল করেছে। সিনিয়র দলের মতো চীনও অত্যন্ত শক্তিশালী দল বয়স ভিত্তিক নারী ফুটবলে। সেই চীনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুরো ম্যাচ জুড়েই দারুণভাবে লড়েছে। গোলরক্ষক মিলি আক্তার দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করেছেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ দিতে থাকল চীন। তবে পোস্টে বিশ্বস্ত দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন মিলি আক্তার। অবশ্য প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে পারলেও, দ্বিতীয়ার্ধে আর পারলেন না মিলি। পারল না বাংলাদেশও। গতকাল শনিবার থাইল্যান্ডের নন্থাবুরিতে এএফসি নারী অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। আসরে টানা দুই ম্যাচই হারল পিটার জেমস বাটলারের দল।

ভিয়েতনামকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব শুরু করা চীন টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে হেরে আসর শুরু করা বাংলাদেশ এখনও পারেনি পয়েন্টের খাতায় আচঁড় ফেলতে।

তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ এবং তৃতীয় হওয়া তিন দলের মধ্যে সেরা দুটি যাবে কোয়ার্টার-ফাইনালে। তৃতীয় হওয়া তিন দলের সেরা দুটির একটি হওয়ার আশা নিয়ে আগামী মঙ্গলবার ভিয়েতনামের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

শারীরিক গড়নে, কৌশলে-ঐতিহ্যে এগিয়ে থাকা চীন শুরু থেকে আধিপত্য করে। প্রথমার্ধে অবশ্য মিলির দৃঢ়তার পাশাপাশি ভাগ্যকেও পাশে পায় বাংলাদেশ। ষোড়শ মিনিটে গোলমুখে সুরমা জান্নাত বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে শট নেন লু জিয়াউই, কিন্তু অভাবনীয়ভাবে তার শট যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। এর একটু পর ওয়াং আই ফাংয়ের দূরপাল্লার ফ্রি কিকে বল অনেকটা লাফিয়ে ওঠা মিলির গ্লাভস ছুঁয়ে ক্রসবার কাঁপিয়ে ফিরে। ৩৫তম মিনিটে বাংলাদেশ কোচ পিটার জেমস বাটলার একটি পরিবর্তন আনেন। শান্তি মার্দিকে তুলে নামান মুনকি আক্তারকে। একটু পর আবারও দলকে বাঁচান মিলি। সতীর্থের থ্রু পাসে বল আলতো টোকায় দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক দিয়ে বের করে মিলিকে একা পেয়ে যান ইউ জিংউই। বিপদ টের পেয়ে দ্রুত পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে এই ফরোয়ার্ডের শট ঝাঁপিয়ে আটকান মিলি।

বিরতির বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণ শাণায় বাংলাদেশ। সতীর্থের লং পাস ধরে বাম দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে দূরূহ কোণ থেকে চিপ শট নেওয়ার চেষ্টা করেন সাগরিকা, কিন্তু শট ঠিকঠাক না হওয়ায় সহজেই ফেরান লিউ চেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বাংলাদেশের দেয়ালে চিড় ধরে। ৪৭তম মিনিটে জেং ইউ জুইয়ার কাট ব্যাক পেয়ে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান ইউ জিংউই।

শেষ দিকে আক্রমণ আরও বাড়ায় চীন এবং ৮২তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল পায় তারা। ওয়াং আই ফাংয়ের জোরাল ফ্রি কিক রক্ষণ দেয়ালের পাশে দিয়ে বেরিয়ে, ঝাঁপিয়ে পড়া মিলির গ্লাভস ছুঁয়ে জালে জড়ায়। এর একটু পর মিলিকে একা পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে ক্রসবারের ওপর দিয়ে মেরে ভালো সুযোগ নষ্ট করেন ইউ জিয়াকি। তাতে অবশ্য প্রতিযোগিতার ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের জয়ের আনন্দে ভাটা পড়েনি।

বাংলাদেশ এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী টুর্নামেন্টে প্রথম দুই ম্যাচ হারলেও টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা এখনও জিইয়ে রেখেছে। দুই ম্যাচ পর তাদের পয়েন্ট শূন্য ও গোল ব্যবধান -৩। ৭ এপ্রিল ভিয়েতনামের বিপক্ষে জিতলে কিংবা ড্র করলে গ্রুপের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত হতে পারে। তখন অন্য দুই গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর চেয়ে এগিয়ে থাকলে কোয়ার্টারে খেলবে বাংলাদেশ। যা হবে নারী ফুটবলে আরেকটি ইতিহাস।

ম্যাচ জিতলেও চীন বাংলাদেশের লড়াকু মনোভাবে মুগ্ধ। তাই খেলা শেষ হওয়ার পরপর বাংলাদেশ ডাগ আউটের সামনে চাইনিজ ফুটবলাররা কুর্ণিশ প্রদর্শন করেন। অস্ট্রেলিয়ায় সিনিয়র নারী এশিয়া কাপের ম্যাচের পরও বাংলাদেশ চীনের থেকে এমন সম্মান পেয়েছিল।