লাখ টাকার সঙ্গে ‘ক্রীড়াকার্ড’ পেলেন সাফজয়ী ফুটবলাররা

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখানো বাংলাদেশ দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা ও আর্থিক পুরস্কার দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উপলক্ষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের গতকাল সোমবার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এই সাফল্যের পর দেশজুড়ে তৈরি হয় উচ্ছ্বাস, আর সেই অর্জনের স্বীকৃতিতেই সরকারিভাবে সম্মানিত করা হলো দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের। অনুষ্ঠানে দলের প্রতিটি খেলোয়াড় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ১ লাখ টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে ক্রীড়া পরিচয়পত্র ও সম্মাননা ক্রেস্ট। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই অর্জন দেশের ফুটবলের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে এবং ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের উন্নয়নে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।

সাফজয়ী যুবাদের চেকের পাশাপাশি ক্রীড়া ভাতা কার্ডও দিয়েছে। অবশ্য এই কার্ড পেলেও প্রতি মাসে ভাতা পাবেন না তারা। তরুণ ফুটবলারদের উজ্জ্বীবিত করতে গতকাল ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এই ফুটবলাররা যখন সিনিয়র দলে থাকবেন বা খেলবেন তখন তারা এর আওতায় আসবেন। ক্রীড়া কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক সুবিধা (হাসপাতাল, ট্রেন টিকিট ইত্যাদি) যখন শুরু হবে, তখন এই ফুটবলাররা সেই কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘বাফুফে সভাপতি আমাদের অনেক সুবিধা দিয়েছেন, ফাইভ স্টার হোটেলে রেখেছেন। আমরা স্যারের কাছ থেকে আরও কিছু প্রত্যাশা করি। মাননীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমাদের পুরস্কৃত করেছেন। আমরা খুশি হয়েছি। আমাদের সকল খেলোয়াড়ের ইচ্ছা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তার হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার।’

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের অধিনায়কের দাবির প্রেক্ষিতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন দলকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। গোলরক্ষক মাহিন একটা কথা বলেছেন, ‘পাইপলাইন সমৃদ্ধ করতে হবে।’ এজন্য ফেডারেশনসহ সবাইকে কাজ করতে হবে যেন আরও মেধাবী খেলোয়াড় বেরিয়ে আসে।’

এর আগে দেশে ফেরার পর শনিবার রাতে বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে চ্যাম্পিয়ন দলকে নিয়ে যাওয়া হয় হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে। সেখানে ভক্তদের উপস্থিতিতে সংবর্ধনা দেওয়া হয় দলকে। ওই অনুষ্ঠানে আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণাও আসে। সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটি প্রতিটি খেলোয়াড়কে ১ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকেও আলাদা প্রণোদনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, সাফজয়ী এই তরুণ দলকে ঘিরে সম্মাননা ও পুরস্কারের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করছে- দেশের ফুটবলে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, আর সেই সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে এখন প্রয়োজন ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতা।