স্প্যানিশ ফেডারেশনের বিরুদ্ধে তদন্তে ফিফা
মুসলিমবিরোধী স্লোগান
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া ডেস্ক

গত সপ্তাহে মিসরের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে গ্যালারি থেকে মুসলিমবিরোধী স্লোগান ভেসে আসার ঘটনায় স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে তদন্ত শুরু করেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে স্পেনের একদল সমর্থক ‘যদি তুমি না লাফাও, তবে তুমি মুসলিম’ এমন বিতর্কিত ও বিদ্বেষমূলক স্লোগান দেন। ঘটনার পর ফিফা ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা এবং ম্যাচ রেফারি ও নিরাপত্তা দলের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়। স্প্যানিশ ফেডারেশনকে বড় অঙ্কের জরিমানা কিংবা স্টেডিয়াম দর্শকশূন্য রাখার মতো শাস্তি দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে ইএসপিএন।
ফিফার এক মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে ইএসপিএনকে বলেন, ‘মিসরের বিপক্ষ প্রীতি ম্যাচে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরএফইএফের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’ শুধু তা-ই নয়, ‘ইসলামবিরোধী ও বর্ণবাদী’ স্লোগানের বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে বার্সেলোনার স্থানীয় পুলিশও। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) সভাপতি রাফায়েল লুজান এবং স্পেন জাতীয় দলের কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। তবে এ বিষয়ে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছেন স্পেন ও বার্সেলোনার তারকা লামিনে ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর বয়সী এই তারকা দুই বছর আগে স্পেনের ইউরো জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন এবং ২০২৬ বিশ্বকাপেও অন্যতম ভরসা।
ইয়ামালের বাবা-মা মরক্কো ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনির বংশোদ্ভূত। ইয়ামাল নিজে মুসলিম হওয়ায় এ ঘটনায় মর্মাহত হন। ম্যাচ শেষে ইনস্টাগ্রামে করা পোস্টে ইয়ামাল লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন মুসলিম। স্টেডিয়ামে স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল- যদি তুমি না লাফাও, তবে তুমি মুসলিম। আমি জানি, এটি প্রতিপক্ষের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত কিছু নয় কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে আমি মনে করি, এটি চরম অবমাননাকর এবং সম্পূর্ণ অসহনীয়।’ ইয়ামাল যোগ করেন, ‘আমি জানি সব সমর্থক এমন নন। তবে যারা এই স্লোগান দিয়েছেন, তাদের বলছি- স্টেডিয়ামের ভেতর ধর্মকে বিদ্রুপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চরম অজ্ঞতা ও বর্ণবাদ। ফুটবল উপভোগ করার জন্য, নিজের দলকে সমর্থন দেওয়ার জন্য, কাউকে তার পরিচয় বা বিশ্বাসের কারণে অসম্মান করার জন্য নয়।’
