মিরপুরের উইকেটে চ্যালেঞ্জ দেখছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

উপমহাদেশের উইকেট বরাবরই কিছুটা স্পিন বান্ধব হয়। আর মিপুরের উইকেট তো রীতিমতো স্পিন স্বর্গ! যদিও গত সিরিজে কিছুটা ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। তারপরও মিপুরের উইকেটে স্পিনাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফলে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজে মিরপুরের উইকেটে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলে মনে করেন কিউই অধিনায়ক টম লাথাম।
গতকাল বহস্পতিবার মিরপুরে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে লাথাম বলেছেন, ‘ভালো উইকেট মনে হচ্ছে। আগের সিরিজ, পাকিস্তান সিরিজ থেকে কিছু তথ্য নিচ্ছি। এখানে মানিয়ে নেওয়াটাই আসল ব্যাপার। ঢাকায় কয়েকদিন হলো এসেছি। মাঠে নামতে সবাই মুখিয়ে আছে, সঙ্গে অভিজ্ঞতা অর্জন করতেও।’
সিরিজের সবগুলো ম্যাচই শুরু হবে সকাল ১১টায়। এ প্রসঙ্গে লাথাম বলেন, ‘আমাদের সবাইকে মানিয়ে নিতে হবে। ব্যালান্স রাখতে হবে। বাংলাদেশের স্পিন এবং পেস দুই বিভাগই শক্তিশালী। দিনের খেলা এখানে আগেও অনেক হয়েছে। আমাদের মানিয়ে নিয়ে দেখতে হবে সামনে কী আসে।’
দলের তরুণদের নিয়ে লাথাম বলেন, ‘আমরা চাই তারা যেন তাদের স্কিলটা কাজে লাগায়। অবশ্যই আমরা চাই ছেলেরা ঘরোয়া ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডে নিজ নিজ দলের হয়ে যেভাবে খেলেছে, এখানেও যেন সেভাবেই খেলে। যদি তারা তা করতে পারে, তাহলে নিজেদের সুযোগটা কাজে লাগাতে পারবে। সবাই নিউজিল্যান্ডের হয়ে কখনও না কখনও খেলেছে। ফলে তারা জানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কী জিনিস। হয়ত অনেক ম্যাচ খেলেনি। তবে এখানে বেশি বেশি ম্যাচ খেলে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে পারবে, আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত করতে পারবে।’ ‘এরকমটা আগেও হয়েছে। অনেকে আইপিএলে খেলার কারণে সিরিজ মিস করেছে। এবার তো পিএসএলও একসঙ্গে হচ্ছে। এর ফলে অন্যদের সামনে সুযোগ আসছে। এটা নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটের জন্য ভালো ব্যাপার। স্কোয়াড বড় করা যাচ্ছে। বেশি প্লেয়ার পাওয়া যাচ্ছে।’
বাংলাদেশ সিরিজকে শেখার মঞ্চ হিসেবে দেখছে কিউইরা : সাদা বলের সিরিজ খেলতে গত ১৩ এপ্রিল ঢাকায় এসেছে নিউজিল্যান্ড দল। কিউইদের এই সিরিজের স্কোয়াডে আছে বেশ কিছু নতুন মুখ। একাধিক তারকা ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিতে তরুণদের জন্য এটাকে সুযোগ হিসেবে দেখছেন টম লাথাম।
আইপিএলে ব্যস্ত থাকায় বাংলাদেশ সফরে আসেননি নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার, অভিজ্ঞ গ্লেন ফিলিপস, ডেভন কনওয়ে, ফিন অ্যালেনের মতো তারকা ক্রিকেটাররা। লাথাম মনে করেন, এই সিরিজ থেকে শেখার সুযোগ পাবে তরুণ ক্রিকেটাররা।
নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক বলেন, ‘কিছুটা অনভিজ্ঞ দল নিয়ে এখানে এসেছি তবে এর ফলে অনেকে ছেলে সুযোগ পাচ্ছে, যারা আগে হয়ত সেভাবে সুযোগ পায়নি। এখানে ভিন্ন কন্ডিশনে সবার সামনেই দারুণ সুযোগ। বাংলাদেশে খেলা, উপমহাদেশে খেলার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই তারা সামনের দিনে এগিয়ে যাবে। এখান থেকে যত বেশি অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়, চেষ্টা থাকবে ভিন্ন ভিন্ন ক্রিকেটারকে সুযোগ দিয়ে দেখার, এর ফলে সামনের দিনে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটে (ক্রিকেটারদের) ভালো গভীরতা তৈরি হবে।’
লাথাম আরও বলেছেন, ‘আমরা এখানে সিরিজ জিততেই এসেছি। সবার মূল লক্ষ্য এটাই। এই পয়েন্টেই সবাই যেতে চাই। প্রতিটি ম্যাচেই আপনাকে শিখতে হবে যেন সিরিজের শেষ ভাগে গিয়ে নিজেদের ভালো সুযোগ দিতে পারি। আমি মনে করি এখানে কিছুটা কম অভিজ্ঞ প্লেয়ার রয়েছে। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলাটা তাদের জন্য ভালো সুযোগ হবে। আমার দায়িত্ব হচ্ছে সবার মধ্যে এই কন্ডিশন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা। সামনে যা আছে সেই পরিস্থিতি বুঝে সেভাবেই আমাদের খেলতে হবে।’
এমন দল সামলানো কঠিন কি? ল্যাথামের জবাব, ‘একদমই কঠিন না। এখানে নিউজিল্যান্ডকে প্রতিনিধিত্ব করার আরও একটি সুযোগ পেলাম। প্রতিটি সুযোগই দারুণ রোমাঞ্চকর। অনেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে খেলছে। এভাবেই ক্রিকেট এখন আগাচ্ছে। অনেক লিগ হচ্ছে, সেগুলো আন্তর্জাতিক সিরিজের সঙ্গে ক্ল্যাশও করছে। ফলে আমরা ভিন্ন ভিন্ন প্লেয়ার খেলাতে চাচ্ছি, যেন তারা দায়িত্ব নিতে শেখে।’
