‘মুশফিক ভাই ফিরলে অধিনায়ক হিসেবে আমার কাজ সহজ হতো’
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

সামনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সেই বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার নিয়ে দুশ্চিন্তায় টিম ম্যানেজমেন্ট। এমন পরিস্থিতিতে অবসর নেওয়া মুশফিকুর রহিমকে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে নিজের সিদ্ধান্ত বদলাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুশফিক। গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনেও ঘুরেফিরে আসে এই প্রসঙ্গ। মিরাজ বলেন, মুশফিকের অবসর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো উচিত। ২০২৫ সালে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নেন মুশফিকুর রহিম। বর্তমানে তিনি কেবল টেস্ট ক্রিকেটে খেলছেন।
তবে মিরাজ অধিনায়ক হওয়ার পর তাকে ওয়ানডেতে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন। যদিও মুশফিক ফিরতে রাজি হননি।
এর আগে বুধবার মুশফিক ইস্যুতে কথা বলেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। তিনি বিষয়টি ভবিষ্যতের ওপর ছেড়ে দেন। সিমন্স বলেন, ‘মুশফিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি শুধু টেস্ট খেলবেন। তিনি ইতিমধ্যে ১০০ টেস্ট খেলে ফেলেছেন, যা অনন্য অর্জন। ভবিষ্যতে কী হবে, সময়ই বলবে।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মিডল অর্ডার বাস্তবতা হলো অনেক ব্যাটসম্যান ঘরোয়া ক্রিকেটে টপ অর্ডারে খেললেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভিন্ন পজিশনে মানিয়ে নিতে হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় বিষয় হলো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। মিরাজ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মিডল অর্ডারে অভিজ্ঞ কাউকে খুঁজছিলেন। বর্তমান দলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের অভাবও স্পষ্ট। সেই চিন্তা থেকেই আফিফ হোসেনসহ কয়েকজনকে বিবেচনায় আনা হয়। আগে থেকেই দলে থাকা মাহিদুল ইসলাম ও তাওহীদ হৃদয়কেও এই পজিশনে বিবেচনা করা হচ্ছে। লিটন দাসকেও মিডল অর্ডারে ব্যবহারের চিন্তা চলছে।
এই প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, ‘মুশফিক ভাইয়ের মতো একজন খেলোয়াড় দলে থাকলে অধিনায়ক হিসেবে কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।’ তবে মুশফিকের অবসরের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন মিরাজ। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, ফিটনেস বিবেচনায় মুশফিক আরও কিছুদিন খেলতে পারতেন। তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমবার অধিনায়ক হওয়ার সময় মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তবে তিনি এখন শুধু টেস্টে মনোযোগ দিচ্ছেন এবং ওয়ানডে থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
এটি কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বোর্ডসহ সবার সিদ্ধান্তের অংশ।’
মিডল অর্ডার নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘বিশ্বকাপ সামনে রেখে কিছু অভিজ্ঞ ও সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে একটি শক্ত সমন্বয় গড়ে তোলা যায়। লিটনকে আলাদা করে মিডল অর্ডারে আনা হয়নি, বরং ঘাটতির জায়গা পূরণে তাকে সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে।’ পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি এবং একই একাদশ তিন ম্যাচেই খেলানো হয়েছে। ওপেনার সাইফ হাসানের ব্যর্থতা সত্ত্বেও তাকে আস্থায় রাখা হয়েছে। নিউজিল্যান্ড সিরিজেও ওপেনিংয়ে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। মিরাজ বলেন, ‘একজন ব্যাটসম্যানকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া জরুরি। তিন-চার ম্যাচ একই পজিশনে খেললে সে নিজের পারফরম্যান্স বুঝতে পারে। অধিনায়ক হিসেবে তার পরিকল্পনা হলো, প্রত্যেক ব্যাটসম্যানকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া।’
